সময় কলকাতা ডেস্ক,৩০ জুনঃ কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধির সফরের মাঝেই ফের উত্তপ্ত মণিপুর। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই নতুন করে সংঘর্ষে উত্তপ্ত মণিপুরের রাজধানী ইম্ফল-সহ একাধিক এলাকায়। চলে গুলিও। গুলির আঘাতে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে বলেই সূত্রের খবর। গুরুতর আহত আরও দু’জন। ভারতীয় সেনার তরফে জানা গিয়েছে, ইম্ফলে বিশাল সংখ্যক মানুষ জমা হয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন। তাঁদের সরিয়ে দিলে ইম্ফলের বিজেপি দফতরের সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। এহেন পরিস্থিতিতেই দু’দিনের জন্য মণিপুর সফরে গিয়েছেন রাহুল গান্ধি। তবে বিমানবন্দর থেকে বেরিয়েই তাঁকে বাধার মুখে পড়তে হয়। মাত্র ২০ কিলোমিটার এগোতেই আটকে দেওয়া হয় তাঁর কনভয়। পরে চপারে করে চূড়াচাঁদপুর পৌঁছন রাহুল। সেখান থেকে মৈরাং যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও প্রশাসনের তরফে সাফ জানানো হয়, কোনওভাবেই মৈরাং যেতে পারবেন না তিনি। রাতে ইম্ফল ফিরে যান রাহুল। শুক্রবার তাঁর পরিকল্পনা মাফিক কর্মসূচি করতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালেই মণিপুরের বেশ কয়েকটি ত্রাণ শিবির পরিদর্শন করেন রাহুল গান্ধি।
আরও পড়ুন মণিপুরে পৌঁছতেই রাহুল গান্ধির কনভয় আটকে দিল পুলিশ

গত ৩ মে একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে হিংসার ঘটনার সূত্রপাত উত্তরপূর্বের এই রাজ্যে৷ মেইতেই জনজাতিকে তফশিলি উপজাতিভুক্ত করার বিরোধিতা করছে কুকি সম্প্রদায়৷ আর এ নিয়ে একের পর এক হিংসাত্মক ঘটনা ঘটছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে৷ তারপর থেকে প্রায় দু’মাস হতে চলল৷ এই প্রথম কংগ্রেস নেতা অশান্ত মণিপুরের অবস্থা নিজের চোখে দেখতে যাচ্ছেন৷ বর্তমানে মণিপুরে রাজ্যজুড়ে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ ৩০০ টিরও বেশি ত্রাণশিবিরে বাস করছেন৷ ৩ মে পাহাড়ে ‘ট্রাইবাল সলিডারিটি মার্চ’ হচ্ছিল৷ মেইতেই জনজাতিকে তফশিলি উপজাতির স্বীকৃতি যাতে না-দেওয়া হয়, তার প্রতিবাদে এই মিছিল হচ্ছিল৷ সেখানে হিংসাত্মক ঘটনা ঘটে৷ মেইতেইরা মণিপুরের জনসংখ্যার ৫৩ শতাংশ এবং তারা ইম্ফলের উপত্যকায় বাস করে৷ এদিকে আদিবাসী নাগা ও কুকিরা জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ৷ তারা সাধারণত পাহাড়ি জেলাগুলিতে থাকে৷

আরও পড়ুন নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিলেন সায়নী ঘোষ
প্রসঙ্গত,মণিপুরে সংঘর্ষের কারণে ইতিমধ্যে প্রায় ১৪৫জনের প্রাণ গিয়েছে। আহত অসংখ্য। এলাকা ছাড়া প্রায় ৫০ হাজার পরিবার। প্রাণ রক্ষায় আশপাশের রাজ্যে পালিয়েছে বহু পরিবার। হিংসার আগুনে পুড়েছে প্রায় ২৫০টি গির্জা এবং ১৭টি মন্দির। এহেন পরিস্থিতিতে মণিপুর নিয়ে লাগাতার আক্রমণের পর গত বুধবার মুখ খোলেন স্বয়ং সনিয়া গান্ধি। ভিডিও বার্তায় সরকারের কঠোর নিন্দা করেন। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম থেকেই সরব উত্তর-পূর্বের ওই রাজ্যটির অস্থির পরিস্থিতি নিয়ে। প্রধানমন্ত্রীর নীরবতায় বারে বারে সরব হয়েছিলেন তিনি। মণিপুরে জাতিদাঙ্গার কারণে চলছে মৃত্যু মিছিল। কয়েক হাজার মানুষ পরিবার নিয়ে ঘর ছাড়া। এই পরিস্থিতিতে যখন নীরব ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, তখন প্রধানমন্ত্রীর মার্কিন সফরের মধ্যে মণিপুর নিয়ে বিবৃতি দেন প্রাক্তন কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধি। বিবৃতিতে সনিয়া একবারও প্রধানমন্ত্রীর কথা বলেননি, বিজেপি সরকারের ব্যর্থতার কথাও বলেননি। শুধু কাতর আর্জি জানিয়েছেন, মণিপুরে জাতিদাঙ্গা বন্ধ করে শান্তি ফিরিয়ে আনার। সনিয়া গান্ধি এও বলেছেন, আমি একজন মা, তাই মা হয়ে মণিপুরের মা বোনেদের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, সন্তান ও পরিবারের কথা ভেবে আপনারা চেষ্টা করুন যাতে শান্তি ফিরিয়ে আনা যায়।


More Stories
অভিষেক আসতেই দুই-দলে খণ্ডযুদ্ধ, বিমানবন্দরে আতঙ্কে যাত্রীরা!
ধাক্কা তৃণমূলে, জ্যোতিপ্ৰিয় মল্লিক দলীয় সব পদ থেকে ইস্তফা দিলেন
“মাথা উঁচু করে রাজনীতি “- মুখ্যমন্ত্রী সকাশে মমতাপন্থী বিধায়করা