সময় কলকাতা ডেস্ক,৩০ জুনঃ মঙ্গলবার নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে তৃণমূল যুবনেত্রী সায়নী ঘোষকে ইডির তরফে নোটিস পাঠিয়ে তলব করা হয়েছিল। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে শুক্রবার নির্ধারিত সময়ের আগেই সকাল ১১টা ২১ মিনিটে কলকাতায় ইডির দপ্তর সিজিও কমপ্লেক্সে উপস্থিত হলেন সায়নী ঘোষ। সায়নীকে এদিন একাধিক নথি নিয়ে ইডি দফতরে হাজিরা দিতে বলা হয়। তবে সেসব নথি সঙ্গে এনেছেন কি না তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কোনও জবাব তিনি দেননি। সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিতে এসে সায়নী বলেন,’আমি প্রচারের কাজে ব্যস্ত ছিলাম। আমাকে ৪৮ ঘণ্টার নোটিসে ইডি ডেকেছে। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়েছি। আমি তদন্তে ১০০ শতাংশ সহযোগিতা করব।’
আরও পড়ুন নিয়োগ দুর্নীতি তদন্তে নয়া মোড়, তৃণমূলের রাজ্য সভানেত্রী সায়নী ঘোষকে ইডির তলব

ইডির তরফে মঙ্গলবারই তৃণমূল নেত্রীকে নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। সূত্রের খবর, প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তৃণমূলের প্রাক্তন যুবনেতা কুন্তল ঘোষের সূত্রেই সায়নীর নাম উঠে এসেছে তদন্তে। কুন্তলের সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তদন্ত করার সময়ই অভিনেত্রীর সঙ্গে যোগসূত্রের বিষয়টি উঠে এসেছে বলে দাবি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের। এদিকে, সোমবারই তৃণমূলের বহিষ্কৃত যুবনেতা কুন্তল ঘোষের স্ত্রী এবং শ্যালককে নিজাম প্যালেসে ডেকে পাঠিয়েছিলেন তদন্তকারীরা। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে লেখা চিঠির প্রেক্ষিতে কিছু জিজ্ঞাসাবাদের জন্যই তাঁদের ইডি-দফতরে ডেকে পাঠানো হয়েছিল বলে খবর। সূত্রের খবর, গত দশ বছরে আয়কর রিটার্নের হিসাব জমা দিতে বলা হয়েছে সায়নীকে। পাশাপাশি তাঁর সমস্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নথিও চেয়েছে ইডি। এই সমস্ত অ্যাকাউন্টের শুরু থেকে যাবতীয় লেনদেনের হিসাবও চাওয়া হয়েছে। এমনকী তাঁর যাবতীয় সম্পত্তির খতিয়ান এবং অস্থাবর সম্পত্তির হিসাব-নিকেশও চাওয়া হয়েছে।এর পাশাপাশি কোথায় কোথায় তাঁর বাড়ি রয়েছে, জমি রয়েছে, ফ্ল্যাট রয়েছে তার খতিয়ানও জানতে চাওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন ত্বকে শিথিলতা দূর করতে আজ থেকেই পাতে রাখুন এই খাবার

প্রসঙ্গত, মধ্য শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যের ঘনিষ্ঠ তাপস মণ্ডলকে জেরা করতেই হুগলির তৃণমূল যুবনেতা কুন্তল ঘোষের নাম উঠে আসে। বেআইনিভাবে শিক্ষক নিয়োগের নাম করে চাকরিপ্রার্থীদের থেকে ১৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে হুগলির যুব তৃণমূল নেতা কুন্তল ঘোষের বিরুদ্ধে। সূত্রের খবর, তাপস মণ্ডল ইডি আধিকারিকদের জানিয়েছেন, ৩২৫ জন শিক্ষক পদপ্রার্থীর কাছ থেকে প্রায় সাড়ে ১৯ কোটি টাকা নিয়েছেন কুন্তল ঘোষ। মোট ২৬০০ চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে তুলেছেন তিনি। এই সংক্রান্ত একাধিক নথিও তাঁর কাছে রয়েছে বলে দাবি করেছেন তাপস। একইসঙ্গে চাকরি বিক্রির নামে ১০ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা ও অন্যান্য প্রতিশ্রুতি দিয়ে, ১২০০ চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা করে নিয়ে নিয়েছিলেন কুন্তল। অর্পিতার ফ্ল্যাটে পাওয়া ৫০ কোটির মধ্যে ছিল কুন্তলের টাকাও।


More Stories
সোনারপুরে অভিষেককে মারধর, মেরে জামা ছিঁড়ে দেওয়া হল অভিষেকের
তৃণমূলের শ্বাসকষ্টের আরেক শিকার অভিষেক ঘনিষ্ঠ শুভ্রকান্তির পদত্যাগ
কেক কেটে ঈদ উদযাপন