সময় কলকাতা ডেস্ক,২ জুলাইঃ আশঙ্কা আগে থেকেই ছিল। এবার সেই আশঙ্কাই সত্যি হল। শিবসেনার পর এ বার ফাটল ধরল শরদ পাওয়ারের দল ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি বা এনসিপিতেও। মহারাষ্ট্রের শিবসেনা-বিজেপি জোট সরকারে যোগ দিলেন অজিত পাওয়ার। রবিবাসরীয় দুপুরে শপথ নিলেন উপমুখ্যমন্ত্রী হিসাবে। রবিবার সকালেই বেশ কয়েকজন দলীয় নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন অজিত পাওয়ার। শরদ-কন্যা সুপ্রিয়া সুলেও সেই বৈঠকে ছিলেন। সূত্রের খবর, শরদ পাওয়ার এই বৈঠক সম্পর্কে কিছু জানতেন না। বেশ কিছুদিন ধরেই ভাইপো অজিতের সঙ্গে শরদ পাওয়ারের সংঘাতের খবর শিরোনামে আসছিল৷ শরদ পাওয়ারের পদত্যাগের পরেও অজিতের বিজেপি-তে যাওয়ার সম্ভাবনা আরও প্রকট হয়৷ শেষপর্যন্ত অজিতের ‘বিদ্রোহে’র পরই এনসিপির ফাটল স্পষ্ট হল।
আরও পড়ুন মেয়ে সুপ্রিয়া আর প্রফুল্ল প্যাটেলকে এনসিপির ‘পাওয়ার’ দিলেন শরদ

২০১৯ সালে দলের বিরুদ্ধে গিয়ে দেবেন্দ্র ফড়ণবীসের সঙ্গে মিলে সরকার গড়েছিলেন তিনদিনের জন্য। ভোরে উপমুখ্যমন্ত্রী পদে শপথগ্রহণ করেছিলেন অজিত পাওয়ার। সেই সরকারের পতন হয়। তিনি পদত্যাগ করে ফিরে আসেন কাকা শরদ পাওয়ারের কাছে। পরে উদ্ধব ঠাকরের সরকারেও উপমুখ্যমন্ত্রী হন অজিত পাওয়ার। তবে ২০২২ সালে সেই সরকারও পড়ে যায়। এরপর বিগত একবছর ধরে মহারাষ্ট্রের বিরোধী দলনেতা পদে ছিলেন অজিত পাওয়ার। তবে রবিবার ফের একবার মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিলেন অজিত পাওয়ার। এনসিপিতে ভাঙন ধরিয়ে প্রায় ৪০ বিধায়ক নিয়ে বিজেপি-শিন্ডে জোট সরকারে যোগ দিলেন অজিত পাওয়ার। এদিন তাঁর সঙ্গে শিন্ডে সরকারের মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন এনসিপির আরও আটজন বিধায়ক। অজিত পাওয়ারের সঙ্গে শপথ নেওয়া অন্যতম এনসিপি নেতা হলেন ছগন ভুজবাল। ছগন ছাড়াও মন্ত্রী হয়েছেন এনসিপির হসান মুশরিফ, ধনঞ্জয় মুণ্ডে, দিলীপ ওয়াসলে পাতিল, ধর্মরাও বাবা আতরাম, অদিতিতটকরে, অনিল পাতিল, সঞ্জয় ভোঁসদে।

আরও পড়ুন শরদ পাওয়ারের ইস্তফা প্রত্যাখ্যান করল এনসিপি
এর আগে গত ১১ জুন দলের ২৫ তম প্রতিষ্ঠা দিবসে এনসিপির কার্যকরি সভাপতি হিসাবে মেয়ে সুপ্রিয়া সুলে ও প্রফুল্ল প্যাটেলের নাম ঘোষণা করেন এনসিপি সুপ্রিমো শরদ পাওয়ার। কিন্তু যুগ্ম কার্যকরি সভাপতির জায়গা দিলেন না মারাঠা স্ট্রং ম্যান তথা শরদ পাওয়ারের ভাইপো অজিত পাওয়ার। উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালের ১০ জুন পিএ সাংমা ও শরদ পাওয়ার মিলে এনসিপি তৈরি করেছিলেন। কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়ে এসে পাওয়ারের দল গত আড়াই দশক ধরেই মারাঠা রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক। এমনকী, জাতীয় স্তরের রাজনীতিতেও পাওয়ারের গুরুত্ব রয়েছে বরাবর। মাস তিনেক আগে শরদ পাওয়ার ঘোষণা করে দেন, তিনি দলের সভাপতির পদ ছাড়ছেন। তাঁর বয়স হয়েছে। তাছাড়া দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর মুখে ক্যানসার। সব মিলিয়েই সেই ঘোষণা করেছিলেন পাওয়ার। তবে দলের চাপে ফের তিনি সভাপতির পদে ফেরেন। কিন্তু সেই সময়েই বলেছিলেন, পূর্ণ সময়ের সভাপতি হিসাবে তিনি দলের কাজ সামলানোর মতো শারীরিক সক্ষমতার জায়গায় নেই। ফলে একজন বা দু’জনকে যে তিনি কার্যকরি সভাপতি করবেন তা জানাই ছিল। কিন্তু কৌতূহল ছিল ভাইপো অজিতকে কি তিনি সেই জায়গা দেবেন কিনা? এসব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিজেপি-শিন্ডে সরকারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে উপ-মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ অজিতের।


More Stories
শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেফতার জয়প্রকাশ
বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি তৃণমূল থেকে বহিস্কৃত ঋতব্রতকে
অভিষেকের দুয়ারে ইডি