সময় কলকাতা ডেস্ক,১১ জুনঃ দলের ২৫ তম প্রতিষ্ঠা দিবসে এনসিপির কার্যকরি সভাপতি হিসাবে মেয়ে সুপ্রিয়া সুলে ও প্রফুল্ল প্যাটেলের নাম ঘোষণা করলেন এনসিপি সুপ্রিমো শরদ পাওয়ার। কিন্তু যুগ্ম কার্যকরি সভাপতির জায়গা দিলেন না মারাঠা স্ট্রং ম্যান তথা শরদ পাওয়ারের ভাইপো অজিত পাওয়ার। উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালের ১০ জুন পিএ সাংমা ও শরদ পাওয়ার মিলে এনসিপি তৈরি করেছিলেন। কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়ে এসে পাওয়ারের দল গত আড়াই দশক ধরেই মারাঠা রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক। এমনকী, জাতীয় স্তরের রাজনীতিতেও পাওয়ারের গুরুত্ব রয়েছে বরাবর।

মাস দেড়েক আগে শরদ পাওয়ার ঘোষণা করে দেন, তিনি দলের সভাপতির পদ ছাড়ছেন। তাঁর বয়স হয়েছে। তাছাড়া দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর মুখে ক্যানসার। সব মিলিয়েই সেই ঘোষণা করেছিলেন পাওয়ার। তবে দলের চাপে ফের তিনি সভাপতির পদে ফেরেন। কিন্তু সেই সময়েই বলেছিলেন, পূর্ণ সময়ের সভাপতি হিসাবে তিনি দলের কাজ সামলানোর মতো শারীরিক সক্ষমতার জায়গায় নেই। ফলে একজন বা দু’জনকে যে তিনি কার্যকরি সভাপতি করবেন তা জানাই ছিল। কিন্তু কৌতূহল ছিল ভাইপো অজিতকে কি তিনি সেই জায়গা দেবেন। কিন্তু এখনও সেসব হয়নি। এদিন অজিত পাওয়ারের উপস্থিতিতেই সুপ্রিয়া সুলে ও প্রফুল্ল প্যাটেলের নাম ঘোষণা করেন শরদ পাওয়ার।

উল্লেখ্য, গত ২ মে ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ শরদ পাওয়ার। এক প্রেস বিবৃতিতে শরদ পাওয়ার এই ঘোষণা করেন। রাজনৈতিক মহলের অনুমান, ভাইপো অজিত পাওয়ারের সঙ্গে সংঘাতের কারণেই তিনি দলীয় প্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। এদিকে,শরদ পাওয়ার এনসিপির সভাপতির পদ ছাড়ার কথা ঘোষণার পর থেকেই তাঁর অনুগামী ও সমর্থকরা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছিলেন। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে শরদ পাওয়ারকে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে।
আরও পড়ুন করমণ্ডলকাণ্ডে ওড়িশার মর্গে দেহ শনাক্ত করতে এআই-নির্ভর ‘সঞ্চার সাথী’-র ব্যবহার

শরদ পাওয়ারকে মহারাষ্ট্রের বিরোধী জোট মহা বিকাশ আঘাদি-র অন্যতম রূপকার বলা হয়। ১৯৯৯ সালে কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হবার পর পি এ সাংমা, তারিক আনোয়ারকে সঙ্গে নিয়ে এনসিপি-র প্রতিষ্ঠা করেন শরদ পাওয়ার। ওই সময় কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে কিছু মতান্তরের কারণে তিনি দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। এদিন পাওয়ার বলেন, এখনও রাজ্যসভায় আমার তিন বছরের মেয়াদ বাকি আছে। কিন্তু দীর্ঘ এই রাজনৈতিক কেরিয়ারের পর কোথাও থামার কথা ভাবতে হবে। একজনের লোভী হওয়া উচিত নয়। ভবিষ্যতে আর কোনোদিন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব না। তিনি আরও বলেন, ১৯৬০ সালের ১লা মে আমি আমার রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলাম। বিবৃতিতে পাওয়ার দলের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করে পরবর্তী কর্মসূচি গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন।


More Stories
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?
বারাসাতে মিছিল কি তৃণমূলের শেষের শুরুর ইঙ্গিত ?
বোমা-বন্দুক আনব, তৃণমূল নেতাদের গণপিটুনির হুঙ্কার দিলীপ ঘোষের