সময় কলকাতা ডেস্ক,২ জুলাইঃ হাতে গোনা বাকি মাত্র আর দুদিন। তারপরই রাজ্যজুড়ে পঞ্চায়েত ভোট। পঞ্চায়েত ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে ততই যেন উত্তপ্ত হয়ে উঠছে কোচবিহার। অশান্তি যেন কিছুতেই থামছেই না কোচবিহারের দিনহাটায়। এহেন পরিস্থিতিতে রবিবার সকাল না হতেই কোচবিহারের কোতোয়ালি থানা এলাকায় এল আরও ২ কোম্পানি আধা সামরিক বাহিনী। শনিবার সকাল থেকেই কোচবিহার ১ নম্বর ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকায় রুট মার্চ করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। এদিকে, ভোটের আবহেই উত্তপ্ত কোচবিহারে রয়েছে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। শনিবার কোচবিহারের সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস বলেন, ‘যা দেখলাম, যা শুনলাম, তাতে আমি মর্মাহত। কোচবিহারের সাধারণ মানুষকে আতঙ্ক গ্রাস করেছে। এক জন প্রবীণ নাগরিক হিসেবে আমি চাই, পঞ্চায়েত ভোট সুষ্ঠু এবং অবাধ হোক। ভয়ডরহীন ভাবে যেন প্রতিটি ভোটার ভোট দিতে পারেন।’

প্রসঙ্গত,পঞ্চায়েত ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে ততই যেন উত্তপ্ত হয়ে উঠছে কোচবিহার। অশান্তি যেন কিছুতেই থামছেই না কোচবিহারে। মার পাল্টা মারের রাজনীতি চলছেই। কখনও গুলি, বোমা, কখনও ভাঙচুর। ভোটের আবহে ঘটেছে প্রাণহানিও। শাসক-বিরোধী তর্জায় বারবার শিরোনামে এসেছে কোচবিহার। কোচবিহারের ঘটনা নিয়ে উদ্বিগ্ন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। শুক্রবার রাতে কোচবিহার সার্কিট হাউসে পৌঁছে তড়িঘড়ি সাংবাদিক বৈঠক ডেকে রাজ্যপাল জানান, বাংলায় আর হিংসার ঘটনা বরদাস্ত নয়। ভোট নিয়ে আর কোনও অশান্তি চলবে না। এমন কোনও ঘটনার কথা কানে এলেই তিনি যথাযথ পদক্ষেপ করবেন। পাশাপাশি সাধারণ মানুষ চাইলে তাঁর গাড়ি দাঁড় করিয়ে অভিযোগের কথা জানতে পারেন। তিনি শুনবেন এবং সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ করবেন।

পাশাপাশি রাজ্যপাল আরও জানান, সম্পুর্ন পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন তিনি। হিংসা রুখতে রাজভবনে খোলা হয়েছে ‘পিস রুম।’ তা নিয়ে শাসকদল কটাক্ষ করলেও রাজ্যপাল থামেননি। শুক্রবার তিনি আরও একধাপ এগিয়ে জানিয়েছেন আগেই কলকাতার রাজভবনে ‘পিস রুম’ তৈরি হয়েছে। এখন তিনি বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছেন। তাই মানুষ চাইলে তাঁকে সরাসরি ভোট সম্পর্কিত হিংসা, ঝামেলা ইত্যাদির অভিযোগ জানাতে পারেন। তিনি বলেন, ‘‘মানুষ আমাকে চাইলে থামাতে পারেন। আমি গাড়ি দাঁড় করিয়ে তাঁদের কথা শুনব। যেখানে হিংসার ঘটনা ঘটছে, সেখানে নিজে যাব।


More Stories
পুলিশের জালে উদয়ন গুহ
বিপাকে প্রাক্তন সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইঞা!
হুইলচেয়ারের জীবন ও সাধন রায়