সময় কলকাতা ডেস্ক,২ জুলাইঃ শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। শুক্রবার সকাল ১১ টা বেজে ২৩ মিনিটে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি দফতরে হাজিরা দিয়েছিলেন যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী সায়নী ঘোষ। তারপর থেকেই শুরু হয় জেরা পর্ব। দীর্ঘ ১১ ঘণ্টা পর রাত ১০টা ৪৫ নাগাদ অবশেষে ইডি দফতর থেকে বেরোন অভিনেত্রী তথা তৃণমূল যুবনেত্রী। সূত্রের খবর, এদিন তার বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। সেই বয়ান ইতিমধ্যেই দিল্লিতে পাঠানো হয়েছে। সায়নীকে ৪৮ ঘণ্টার নোটিসে এদিন কলকাতায় ইডি দফতরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই মোতাবেক শুক্রবার সকালে ইডি অফিসে পৌঁছন তিনি। সূত্রের খবর, তাঁকে একটি ফর্ম ফিল-আপ করে প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে চাওয়া হয়। দুপুরের পর শুরু হয় দফায় দফায় জেরা। ইডি সূত্রে খবর, ৫ জুলাই তাঁকে ফের তলব করা হয়েছে। তারই মধ্যে ইডির স্ক্যানারে এবার সায়নীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা ১৯ লক্ষ ৩৮ হাজার ১৯৫ টাকা।

ইডির তরফে মঙ্গলবারই তৃণমূল নেত্রীকে নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। সূত্রের খবর, প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তৃণমূলের প্রাক্তন যুবনেতা কুন্তল ঘোষের সূত্রেই সায়নীর নাম উঠে এসেছে তদন্তে। কুন্তলের সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তদন্ত করার সময়ই অভিনেত্রীর সঙ্গে যোগসূত্রের বিষয়টি উঠে এসেছে বলে দাবি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের। এদিকে, সোমবারই তৃণমূলের বহিষ্কৃত যুবনেতা কুন্তল ঘোষের স্ত্রী এবং শ্যালককে নিজাম প্যালেসে ডেকে পাঠিয়েছিলেন তদন্তকারীরা। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে লেখা চিঠির প্রেক্ষিতে কিছু জিজ্ঞাসাবাদের জন্যই তাঁদের ইডি-দফতরে ডেকে পাঠানো হয়েছিল বলে খবর। সূত্রের খবর, গত দশ বছরে আয়কর রিটার্নের হিসাব জমা দিতে বলা হয়েছিল সায়নীকে। পাশাপাশি তাঁর সমস্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নথিও চেয়েছিল ইডি। এই সমস্ত অ্যাকাউন্টের শুরু থেকে যাবতীয় লেনদেনের হিসাবও চাওয়া হয়েছিল। এমনকী তাঁর যাবতীয় সম্পত্তির খতিয়ান এবং অস্থাবর সম্পত্তির হিসাব-নিকেশও চাওয়া হয়েছিল। এর পাশাপাশি কোথায় কোথায় তাঁর বাড়ি রয়েছে, জমি রয়েছে, ফ্ল্যাট রয়েছে তার খতিয়ানও জানতে চাওয়া হয়েছিল।
আরও পড়ুন কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে নয়া ভাবনা রাজ্য নির্বাচন কমিশনের

প্রসঙ্গত, মধ্য শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যের ঘনিষ্ঠ তাপস মণ্ডলকে জেরা করতেই হুগলির তৃণমূল যুবনেতা কুন্তল ঘোষের নাম উঠে আসে। বেআইনিভাবে শিক্ষক নিয়োগের নাম করে চাকরিপ্রার্থীদের থেকে ১৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে হুগলির যুব তৃণমূল নেতা কুন্তল ঘোষের বিরুদ্ধে। সূত্রের খবর, তাপস মণ্ডল ইডি আধিকারিকদের জানিয়েছেন, ৩২৫ জন শিক্ষক পদপ্রার্থীর কাছ থেকে প্রায় সাড়ে ১৯ কোটি টাকা নিয়েছেন কুন্তল ঘোষ। মোট ২৬০০ চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে তুলেছেন তিনি। এই সংক্রান্ত একাধিক নথিও তাঁর কাছে রয়েছে বলে দাবি করেছেন তাপস। একইসঙ্গে চাকরি বিক্রির নামে ১০ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা ও অন্যান্য প্রতিশ্রুতি দিয়ে, ১২০০ চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা করে নিয়ে নিয়েছিলেন কুন্তল। অর্পিতার ফ্ল্যাটে পাওয়া ৫০ কোটির মধ্যে ছিল কুন্তলের টাকাও।


More Stories
আই-প্যাকের ডিরেক্টর ভিনেশ চান্দেলকে গ্রেফতার করল ইডি
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ