সময় কলকাতা ডেস্ক,৩ জুলাইঃ ভাঙন ধরেছে মারাঠা স্ট্রংম্যানের পওয়ার শিবিরে। এই পরিস্থিতিতে এবার পিছিয়ে গেল বেঙ্গালুরুর বিরোধী বৈঠক। আগামী ১৪ জুলাই বেঙ্গালুরুতে বিজেপি বিরোধী দলগুলির দ্বিতীয় বৈঠকের কথা ঘোষণা করেছিলেন এনসিপি সুপ্রিমো শরদ পওয়ার। কিন্তু রবিবার তাঁর শিবিরই বড়সড় ধাক্কার মুখে পড়ায় বিরোধী সমীকরণ এলোমেলো হয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতেই বৈঠক পিছিয়ে দেওয়া হল বলে মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের। যদিও বিরোধী শিবিরের তরফে জানা গিয়েছে, সংসদের বাদল অধিবেশন এবং তার পরপর বিহার, কর্ণাটকের বিধানসভা অধিবেশনের কারণে বৈঠক পিছিয়ে দেওয়া হল। বাদল অধিবেশনের পর দিনক্ষণ স্থির হবে।

আগামী ২০ তারিখ থেকে শুরু হচ্ছে সংসদের বাদল অধিবেশন। ১১ আগস্ট শেষ হবে। শোনা যাচ্ছে, তারপরই বিরোধীদের দ্বিতীয় বৈঠকের দিনক্ষণ স্থির হবে। সংসদের অধিবেশনে আমলাদের নিয়োগ ও বদলি নিয়ে দিল্লি সরকারের হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া সংক্রান্ত কেন্দ্রের অর্ডিন্যান্স পেশ হওয়ার সম্ভাবনা। আর তাতে আপ নেতৃত্ব অর্থাৎ কেজরিওয়ালের দলের পাশে কোন কোন বিরোধী দল দাঁড়ায়, তা দেখে বিরোধী ঐক্যের একটা পরীক্ষা হয়ে যাবে। বাংলায় পঞ্চায়েত ভোটের ফলপ্রকাশ হবে ১১ জুলাই। এরপর অন্যান্য রাজ্যেও নানা স্তরের নির্বাচন রয়েছে। তার উপর বাদল অধিবেশন শেষের পর বিভিন্ন রাজ্যে বিধানসভা অধিবেশনও রয়েছে। সবমিলিয়ে আগামী কিছুটা সময় নানা কাজে ব্যস্ত থাকবে বিরোধী দলগুলি। তাই বিরোধী বৈঠক আগস্টের শেষভাগে হতে পারে।

প্রসঙ্গত, রবিবারই মহারাষ্ট্রের শিবসেনা-বিজেপি জোট সরকারে যোগ দিলেন অজিত পাওয়ার। রবিবাসরীয় দুপুরে শপথ নিলেন উপমুখ্যমন্ত্রী হিসাবে। রবিবার সকালেই বেশ কয়েকজন দলীয় নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন অজিত পাওয়ার। শরদ-কন্যা সুপ্রিয়া সুলেও সেই বৈঠকে ছিলেন। সূত্রের খবর, শরদ পাওয়ার এই বৈঠক সম্পর্কে কিছু জানতেন না। বেশ কিছুদিন ধরেই ভাইপো অজিতের সঙ্গে শরদ পাওয়ারের সংঘাতের খবর শিরোনামে আসছিল৷ শরদ পাওয়ারের পদত্যাগের পরেও অজিতের বিজেপি-তে যাওয়ার সম্ভাবনা আরও প্রকট হয়৷ শেষপর্যন্ত অজিতের ‘বিদ্রোহে’র পরই এনসিপির ফাটল স্পষ্ট হয়।

২০১৯ সালে দলের বিরুদ্ধে গিয়ে দেবেন্দ্র ফড়ণবীসের সঙ্গে মিলে সরকার গড়েছিলেন তিনদিনের জন্য। ভোরে উপমুখ্যমন্ত্রী পদে শপথগ্রহণ করেছিলেন অজিত পাওয়ার। সেই সরকারের পতন হয়। তিনি পদত্যাগ করে ফিরে আসেন কাকা শরদ পাওয়ারের কাছে। পরে উদ্ধব ঠাকরের সরকারেও উপমুখ্যমন্ত্রী হন অজিত পাওয়ার। তবে ২০২২ সালে সেই সরকারও পড়ে যায়। এরপর বিগত একবছর ধরে মহারাষ্ট্রের বিরোধী দলনেতা পদে ছিলেন অজিত পাওয়ার। তবে রবিবার ফের একবার মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিলেন অজিত পাওয়ার। এনসিপিতে ভাঙন ধরিয়ে প্রায় ৪০ বিধায়ক নিয়ে বিজেপি-শিন্ডে জোট সরকারে যোগ দিলেন অজিত পাওয়ার। এদিন তাঁর সঙ্গে শিন্ডে সরকারের মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন এনসিপির আরও আটজন বিধায়ক। অজিত পাওয়ারের সঙ্গে শপথ নেওয়া অন্যতম এনসিপি নেতা হলেন ছগন ভুজবাল। ছগন ছাড়াও মন্ত্রী হয়েছেন এনসিপির হসান মুশরিফ, ধনঞ্জয় মুণ্ডে, দিলীপ ওয়াসলে পাতিল, ধর্মরাও বাবা আতরাম, অদিতিতটকরে, অনিল পাতিল, সঞ্জয় ভোঁসদে।


More Stories
নীতিশ জমানা শেষ, বিহারের সম্রাট নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বুলডোজার মডেল
আশা ভোঁসলের হার্ট অ্যাটাক
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?