সময় কলকাতা ডেস্ক,১৭ জুলাইঃ গত এক সপ্তাহ ধরে একটানা বৃষ্টিতে কার্যত ভাসছে রাজধানী দিল্লি। সুপ্রিম কোর্ট চত্বর থেকে শুরু করে লাল কেল্লার কাছে কাশ্মীরি গেট এলাকা, সর্বত্রই উঠে এসেছে যমুনার জল। ৬টি জেলা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে, নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে অন্তত ২৫ হাজার মানুষকে। রবিবার সকালেই বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শনে বেরিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। ঠিক তারপরেই বন্যাদুর্গত প্রতিটি পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী। এদিন একটি টুইট করে কেজরিওয়াল লেখেন, ‘যমুনার তীরে অজস্র দরিদ্র মানুষের বাস ছিল, যাঁরা বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কিছু কিছু পরিবারের তো সর্বস্ব ভেসে গেছে বন্যার জলে।’
আরও পড়ুন ভারী বর্ষণের জেরে বিপর্যস্ত উত্তরপ্রদেশ,বেড়েই চলেছে মৃতের সংখ্যা

এরপর তিনি আরও লেখেন, প্রতিটি বন্যা দুর্গত পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। এছাড়া যাঁরা, ভোটার কার্ড এবং আধার কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ নথি হারিয়ে ফেলেছেন, তাঁদের জন্য বিশেষ ক্যাম্প খোলা হবে। যে সমস্ত শিশুদের বই-খাতা এবং স্কুলের পোশাক জলে ভেসে গেছে, স্কুলের হয়ে সরকার তা সরবরাহ করবে। উল্লেখ্য, প্রবল বন্যায় রিং রোডের সিভিল লাইন, মঞ্জু কা টিলা, কাশ্মীরি গেট সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এই এলাকা মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বাসভবন থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে। কাশ্মীরি গেট লাগোয়া এলাকাতেই রয়েছে দিল্লি বিধানসভা। বোট ক্লাব, মনস্ট্রি মার্কেট, যমুনা বাজার, গীতা ঘাট, খাড্ডা কলোনি, থেকে শুরু করে ওয়াজিরাবাদ, ময়ূর বিহার, সব এলাকাই জলমগ্ন। তবে আজ রবিবার খানিকটা নেমেছে যমুনার জলস্তর। যদিও এখনও পর্যন্ত তা বিপদসীমার উপরেই রয়েছে।

গত কয়েকদিন ধরে রেকর্ড হারে বৃষ্টিপাতের কারণে ভাসছে রাজধানী। বিগত ৪৫ বছরের রেকর্ড ভেঙে যমুনা নদীর জলস্তর বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। রীতিমতো ফুঁসছে যমুনা নদী। শনিবার রাত থেকে আরও বেড়েছে যমুনা নদীর জলস্তর। হরিয়ানার হাতনিকুণ্ড বাঁধ থেকে জল ছাড়ার জেরে পরিস্থিতি আরও বেগতিক হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি এতটাই খারাপের দিকে গেছে যে শহরেও জল ঢুকছে হু হু করে। এমনকী, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বাসভবন সংলগ্ন এলাকাও ভাসছে যমুনা নদীর জলে। এই জরুরি অবস্থায় হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে রাজধানী শহরে।
আরও পড়ুন প্রাণ যাচ্ছে মানুষের, মৌসম ভবন থেকে জারি বৃষ্টির সতর্কতা -উত্তরপ্রদেশে পরিস্থিতি ভয়াবহ

জানা গিয়েছে,হরিয়ানার বাঁধ থেকে বিপুল পরিমাণ জল ছাড়ার কারণেই দিল্লিতে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠছে। বন্যা পরিস্থিতির জেরে দিল্লির রিং রোডের সিভিল লাইন, মঞ্জু কা টিলা, কাশ্মীরি গেট সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। কার্যত জলের নীচে ডুবে গিয়েছে রাজধানী দিল্লি। কাশ্মিরী গেট সংলগ্ন অঞ্চলেই রয়েছে দিল্লি বিধানসভা। বোট ক্লাব, মনেস্ট্রি মার্কেট, যমুনা বাজার, গীতা ঘাট, খাড্ডা কলোনি, মঞ্জু কা টিলা থেকে ওয়াজিরাবাদ, ময়ূর বিহার প্লাবিত। একদিকে জলমগ্ন দিল্লি, অন্যদিকে যমুনার জলস্তর বেড়ে তা ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে রাজধানীকে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় মোট ১৮টি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।


More Stories
টিম ইন্ডিয়ার আগুন ধুয়ে দিল ক্যানবেরার বৃষ্টি
বঙ্গে এল বর্ষা, অতি গভীর নিম্নচাপ এখন বাংলাদেশে
কয়েকদিনের ঝড়-বৃ্ষ্টিতে বেশ কিছুটা নেমেছে তাপমাত্রা। আপাতত এই পরিস্থিতিই থাকবে