Home » মহিলা ফুটবলের রাজকন্যা আলেক্সিয়া পুতেল্লাস

মহিলা ফুটবলের রাজকন্যা আলেক্সিয়া পুতেল্লাস

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৮ জুলাই : অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে চলছে ফিফা মহিলা বিশ্বকাপ। ইতিমধ্যেই এই টুর্নামেন্টে শেষ ষোলোর ছাড়পত্র পেয়ে গিয়েছে। স্পেন। গ্রূপে তাদের প্রথম দুটি খেলায় তারা খালি জেতেই নি, পাশাপাশি আট গোল করেছে। সোমবার তারা গ্রূপের শেষ খেলায় জাপানের মুখোমুখি হবে। ফিফা ৱ্যাঙ্কিংএ ৬ নম্বরে থাকা স্পেন এবার দুরন্ত শুরু করলেও তাদের বিশ্বকাপ অভিযানের আগে দুশ্চিন্তার অন্ত ছিল না তারকা ফুটবলার আলেক্সিয়া পুতেল্লাসকে নিয়ে। এসিএল ইনজুরির কারণ আলেক্সিয়া পুতেল্লাস বেশ কিছুদিন মাঠের বাইরে ছিলেন । পুতেল্লাসকে যে স্পেনের কোচ জর্জ ভিলদা সঠিক ভাবে ব্যবহার করতে চান তা প্রথম ম্যাচের পরেই সাংবাদিক সম্মেলনের সময় জানিয়ে দেন। প্রথম ম্যাচে কোস্টারিকার বিরুদ্ধে দল ৩-০ গোলে জিতলেও পুতেল্লাস মাঠে নেমেছিলেন ৭৭ মিনিটে। স্পেনের সমর্থক ও বিশ্ব মহিলা ফুটবল নিয়ে যারা খোঁজ খবর রাখেন তারা ভাবতে শুরু করেছিলেন চোট সারিয়ে দলে ঢোকা তারকা ফুটবলার সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন তো! ম্যাচের শেষে কোচ জানান তিনি আলেক্সিয়া পুতেল্লাসকে ধীরে ধীরে ম্যাচ ফিট করাচ্ছেন যাতে বিশ্বকাপে তাঁর কাছে সেরা টুকু পাওয়া যায়। দ্বিতীয় ম্যাচে জাম্বিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম দলে রাখা হয়  পুতেল্লাসকে ।ম্যাচে স্পেন জেতে ৫-০ গোলে।দ্বিতীয়ার্ধে তুলে নেওয়া হলেও ততক্ষনে নিজের ধার ও জাত চিনিয়ে দেন পুত্তেলাস।পুতেল্লাসের ক্রস থেকে গোল করে যান জেনিফার হারমোসো। কোচ জর্জ ভিলদা কেন  পুতেল্লাস তুরুপের তাস মনে করছেন তা অবশ্যই ধরা পড়েছে। তথাপি প্রশ্ন উঠতেই পারে সত্যি কি এমন আছে এই মহিলা মিডফিল্ডারের মধ্যে যা তাঁর চোট পরবর্তী ফুটবল নিয়ে নিয়ে ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আলোচনার তুফান এনে দেয়?

মারাদোনা যদি ফুটবলের রাজপুত্র হন, তাহলে পুতেল্লাসকে ফুটবলের রাজকন্যা বলার মধ্যে কোনও অতিশয়োক্তি নেই। তাঁর টাচ, ড্রিবল, বল ডিস্ট্রিবিউশন  তাঁকে মহিলা ফুটবলারদের মধ্যে করে তুলেছে শ্রেষ্ঠ। তাঁর ফুটবল শুধু এনে দেয় মুগ্ধতা। দুবারের ব্যালন ডি’অর ( ফেমিনিন ) খেতাব তিনি সাধে পান নি।

আরও পড়ুন : গিলগো বিচ সিরিয়াল কিলিং ও সিরিয়াল কিলার হিউরম্যান

অ্যালেক্সিয়া পুত্তেলাস সেগুরার জন্ম ১৯৯৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারী স্পেনের বার্সেলোনায় । ফুটবল মহলে আলেক্সিয়া নামেই তিনি অধিক পরিচিত।বার্সেলোনার  মিডফিল্ডার প্রকৃতঅর্থেই অধিনায়ক। মাঠে তার নেতৃত্ব দান করার ক্ষমতা বারবার চোখে পড়েই যায়।তিনি তাঁর ক্লাব দল বার্সেলোনার পাশাপাশি স্পেন জাতীয় দলের হয়েও তিনি অধিনায়কত্ব করেছেন।তিনি এর আগে এস্পানিওল এবং লেভান্তের হয়ে খেলেছেন এবং কাতালোনিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। স্পেনের হয়ে  শতাধিক ম্যাচ খেলে ফেলা মিডফিল্ডার ২৮ টি আন্তর্জাতিক গোল করেছেন। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে প্রচুর পুরস্কার। ২০২১ ও ২০২২ সালের ব্যালন ডি অর ফেমিনিন তিনি, গত দুবছর ধরেই ফিফা তাঁকে নির্বাচিত করেছে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ মহিলা ফুটবলার হিসেবে।২০২২ সালের গোল্ডেন প্লেয়ার মহিলা সম্মান তিনি পেয়েছেন। বিশ্বের সেরা সমসাময়িক মহিলা ফুটবলার এবং সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ একজন ফুটবলার হিসেবেই খ্যাত ২৯ বছর বয়সী পুতেল্লাস সম্পর্কে মহিলা ফুটবল প্রতিবেদক বিখ্যাত আসিফ বুরহান লিখেছেন যে   “ক্রীড়ার প্রতি নিবেদন নারীদের খেলায় বিপ্লব ঘটিয়েছে।” চোট সারিয়ে উঠে এবারের ফিফা মহিলা বিশ্বকাপে পুতেল্লাস কতটা সৌরভ ছড়ান, এখন সেটাই দেখার।

About Post Author