সময় কলকাতা ডেস্ক, ১০ আগস্ট: অর্থনৈতিকভাবে দেউলিয়া হতে চলা একটি রাষ্ট্র পাকিস্তান। সম্প্রতি পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আরিফ আলভি ভেঙে দিলেন পাকিস্তানের সংসদ। এবার কিভাবে হবে পাকিস্তানে নির্বাচন? যদি হয় তাহলে দেউলিয়া পাকিস্তানে রাজনৈতিক সংকট কোন পরিস্থিতির সম্মুখীন হবে? সন্ত্রাসবাদীদের মদত দেওয়ার কারণে ইতিমধ্যেই কুখ্যাতি অর্জন করেছে ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্র এই পাকিস্তান। সম্প্রতি পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ ভেঙে দিয়েছেন দেশের প্রেসিডেন্ট ডঃ আরিফ আলভি। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে সংবিধানের ৫৮ (১) ও ৪৮ ( ১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দেশের প্রেসিডেন্ট ভেঙে দিয়েছেন জাতীয় পরিষদ। জাতীয় পরিষদ ভাঙার আগে প্রধানমন্ত্রীর শাহবাজ শরীফ রাষ্ট্রপতি কাছে আবেদন করেন সংসদ ভাঙ্গার। নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখন দেশ চালাবে। শাহবাজ শরীফের হাতে এখন তিনদিন রয়েছে সময় নতুন নেতৃত্বের নাম ঘোষণার। পাকিস্তানে ৯০ দিনের মধ্যে আইন অনুযায়ী নির্বাচন করতে হবে। কিন্তু এখানেও দেখা দিয়েছে সমস্যা। কারণ পাকিস্তানে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে দেশটিতে জন সুমারির ভিত্তিতে নির্বাচনী আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাস করার প্রয়োজন। পুনর্বিন্যাস করার জন্য প্রয়োজন চার মাস সময়ের। ফলে ৯০ দিনের ভিতরে নির্বাচন যে সম্ভব নয় সেটা এখন পরিষ্কার।
আরও পড়ুন কুকুরের সাথে যৌন ক্রিয়াকলাপ! গ্রেফতার মিশিগানের মহিলা

যদিও বিরোধীদের বক্তব্য ইমরান খানের জনপ্রিয়তার কারণে ক্ষমতাসীন পাকিস্তান মুসলিম লীগের জোট নির্বাচনে জয়ের বিষয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী নয়। সম্প্রতি তোষাখানা মামলায় ইমরান খান জেলে। জেলে যাওয়ার আগে জাতির উদ্দেশ্যে ইমরান খান ভাষণ দিয়ে জানিয়েছিলেন জাতীয় সংসদ ভেঙ্গে দেওয়ার এবং বিরোধী সমস্ত দলকে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার বার্তাও দিয়েছিলেন ইমরান। সেনাবাহিনীর সঙ্গে চরম সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছেন ইমরান খান। একদিকে ইমরান খানের জনপ্রিয়তা এবং তার দল তেহরিক-ই-ইনসাফের জনপ্রিয়তাকেও ভয় পাচ্ছে সেনাবাহিনী। বিরোধীদের আরও অভিযোগ আদালতে নির্দেশে ইমরান খান পাঁচ বছর কোন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। আর সেই সুযোগটাকেই কাজে লাগিয়ে তেহরিক-ই-ইনসাফ দলটাকে শেষ করে দিতে চাইছে সেনাবাহিনী। আর সে কারণেই নির্বাচন পিছিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত। গত মে মাসে ইমরান খানের গ্রেফতারি নিয়ে সংঘর্ষের বাতাবরণ তৈরি হয়েছিল সমগ্র পাকিস্তান জুড়ে। যে সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছিলেন ৮ জন। তখনই ইমরান খানের প্রবল জনপ্রিয়তা প্রকট হয়ে উঠেছিল আর এবার ইমরান খানকে জেলে পাঠানোতে তার জনপ্রিয়তা আরও বেড়ে গিয়েছে বলেই মত সেনাবাহিনী সহ দেশের সাধারণ মানুষের।

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এখন দেউলিয়ার পথে। সেই অবস্থায় দেশে নতুনভাবে নির্বাচনের ধাক্কা সামলাতে পারবে কিনা দেশ সে প্রশ্ন এখন ঘুরেফিরে বেড়াচ্ছে সাধারণ মানুষের মনে। ১৯৪৮ সাল থেকে পাকিস্তানের সরকারের বাজেটের প্রধান খাত হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রতিরক্ষা খাত। বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম জনসংখ্যা অধ্যুষিত এই দেশ পাকিস্তান জনসংখ্যা যেখানে ২২ কোটি ইতিমধ্যেই ছাড়িয়ে গিয়েছে। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর খাদ্য ও বাসস্থান বস্ত্র শিক্ষা চিকিৎসার যোগান সম্ভব হচ্ছে না পাকিস্তানের পক্ষে। আইনগতভাবে দেশের প্রতিরক্ষা খাতে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয় এই দেশে। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদে মদত দিতে এবং বালুচিস্থানে বিরোধীদের শায়েস্তা করতে খরচের পরিমাণও বিশাল। পাকিস্তানের রপ্তানি ও আমদানি পরিবারের মধ্যেও রয়েছে বিস্তর ফারাক। দেশটিতে বার্ষিক রপ্তানি প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলারের নিচে অথচ আমদানি ৮০ থেকে ৯০ বিলিয়ন ডলার প্রতি বছর। ফলে আয়ের থেকে ব্যয়ের পরিমাণ লাগাম ছাড়া হওয়ায় আর্থিকভাবে দৈনদশায় ভুগছে দেশটি দীর্ঘদিন ধরেই। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল অর্থাৎ আই এম এফ এর কাছে বেইল আউট ঋণ চাইলেও বিভিন্ন কঠোর শর্তের কারণে ঋণ পাচ্ছেনা। যেখানে পাকিস্তানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তিন বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এসেছে সেখানে সাড়ে ৫ লাখের সেনাবাহিনী এবং ৭ লাখের সশস্ত্র বাহিনীর খরচ বহন করতে হচ্ছে প্রতিমাসে।
আরও পড়ুন সেক্সি পোজে ভাইরাল এই ৫ অভিনেত্রী

একদা, পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ চীন ও সৌদি আরব নতুন করে ঋণ দিতে নারাজ। শুধুমাত্র তাই নয় পাকিস্তানে তৈরি হওয়া বিভিন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্র যা চীন তৈরি করেছিল তার কিস্তি দীর্ঘদিন ধরেই পরিশোধ করছে না পাকিস্তান ফলে সেই সমস্ত বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে চীন। একদিকে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যাপক ব্যয় অন্যদিকে ঘুর পথে সন্ত্রাসবাদীদের মদত দিতে অর্থের যোগান, খরা এবং বন্যায় বিধ্বস্ত পাকিস্তানের পরিস্থিতি এখন হাড়ির হাল। ১ কেজি আটার দাম এখন ১৬০ টাকা, এক কেজি চিনি, ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে পাকিস্তানি। ডলারে পাকিস্তানের টাকার দাম নিম্ন হয় বাড়ছে হু হু করে মুদ্রাস্মৃতি। ১ ডলার সমান এখন ২৭৭ টাকা। এত দৈনদশা সত্ত্বেও জঙ্গিগোষ্ঠীকে মদত দিয়ে চলেছে সেদেশের সামরিক বাহিনী ও আইএসআই। পাকিস্তানের মদত পুষ্ট জঙ্গি গোষ্ঠী সিপাহ ই সাহাবা পাকিস্তান, তেহরিক ই নাফাজ ই সারিয়াত ই মোহাম্মদী, সিপাহ ই মোহাম্মদ পাকিস্তান, তেহরিক ই জেফারিয়া পাকিস্তান, লস্কর ই ত ইবা, জয়স ই মোহাম্মদ মুজাহিদদিন ই তেনজেম সহ আরো একাধিক জঙ্গিগোষ্ঠী। আন্তর্জাতিক মহলের মতে পাকিস্তানের এই মুহূর্তে বারটি আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন সক্রিয়। সিরিয়ার আইসিস বা আফগানিস্তানের তালিবানদের থেকেও ভয়ংকর এই পাকিস্তানের জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো।

ভারতবর্ষে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মতে, জইশ-ই-মহম্মদ ও লস্কর-ই-তৈবা সহ পাঁচটি সংগঠন সক্রিয়। মূলত ১৯৮০ সাল থেকেই পাকিস্তানে মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছিল জঙ্গি সংগঠন গুলি। আমেরিকার ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হানার মূল মাস্টারমাইন্ড ওসামা বিন লাদেন কেও আশ্রয় দিয়েছিল এই পাকিস্তান। কাশ্মীর উপত্যকায় গত শতাব্দী নয় এর দশক থেকে সক্রিয় জঙ্গি সংগঠন হারকাত উল মুজাহিদদ্দিন কেও অর্থ সাহায্য করে চলেছে পাকিস্তান যদিও আন্তর্জাতিক মহলে বরাবরই অস্বীকার করে এ কথা পাকিস্তান। মুম্বাই হামলা, বুদ্ধো গয়া হামলা, মুম্বাই ট্রেন ব্লাস্ট, সহ একাধিক নাশকতায় যুক্ত পাকিস্তান মদতপুষ্ট এই জঙ্গি সংগঠনগুলি। ভারতীয় গোয়েন্দাদের মতে হরকত উল মুজাহিদ সংগঠনটিকে সরাসরি পরিচালনা করে আইএসআই। পাশাপাশি বালতি স্থানের বিদ্রোহীদের দমন করতে ভাড়াটে খুনি সৈনিক নিযুক্ত করেছে পাকিস্তান। যাদের বলা হয় ডেথ ফোর্স। এই ডেথ ফোর্সের খরচ বহন করতেও নাজেহাল অবস্থা পাকিস্তানের। এখন দেখার অর্থনৈতিকভাবে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়া ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্র আসন্ন নির্বাচনের ভার বহন করতে পারে কিনা। শুধুমাত্র অর্থনৈতিকভাবেই বিপর্যস্ত নয় রাজনৈতিকভাবেও বিপর্যস্ত পাকিস্তান।। সরকার আর সরকারের উপর সেনাবাহিনীর প্রভাবের কারণে কোন সরকারই স্থায়ী ভাবে থাকতে পারে না পাকিস্তানে। নির্বাচন ৯০ দিনের মধ্যে হবে না পরের বছর হবে সে প্রশ্ন যেমন রয়েছে তেমনি রয়েছে আরেকটি বড় প্রশ্ন। অর্থনৈতিকভাবে দিন্ন পাকিস্তান নির্বাচনের বিপুল ব্যবহার বহন করতে পারবে কিনা? আর যদি পারে মুদ্রাস্ফীতি আরও বৃদ্ধি পেয়ে দেশের অবস্থা শ্রীলংকার মতন হয় কিনা সেটাই দেখার।


More Stories
নাবালক ছাত্রের সঙ্গে যৌ*ন মিলন , গ্রেফতার হাইস্কুল শিক্ষিকা
পুলওয়ামা হামলার মাস্টারমাইন্ড হামজা বুরহান খ*তম , কে এই হামজা?
সীমান্তে চ্যাংড়াবান্ধায় জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্তের পরই শুরু মাপজোক