সময় কলকাতা ডেস্ক,১২ আগস্ট : এলিয়েন বা ভিনগ্রহের জীবরা এবার সিনেমা বা বইয়ের পাতায় আর আটকে নেই। দীর্ঘকায় এলিয়েন বা অন্য গ্রহের জীবরা এবার হামলা চালাচ্ছে তাদের গ্রামে, এমনটাই বক্তব্য দক্ষিণ আমেরিকান দেশ পেরুর একটি উপজাতি সম্প্রদায়ের। পেরুর আল্টো নানে জেলার প্রত্যন্ত প্রান্তে উপজাতিদের গ্রামটি আতঙ্কে। গ্রামবাসীরা ভিনগ্রহী বা এলিয়েনদের ভয়ে কাঁপছে। লাতিন আমেরিকার দেশ পেরুর আল্টো নানের যে প্রান্তে ইকিতু সম্প্রদায়ের বাস সেখানে রীতিমত ত্রাসের সঞ্চার হয়েছে। ইকিতু উপজাতির মানুষরা এও জানিয়েছে বিগত একমাস ধরে দীর্ঘকায় এলিয়েনদের কবলে একাধিকবার আক্রান্ত হচ্ছে। মাঝেমধ্যেই নাকি দেখা মিলছে এলিয়েনদের । ভিনগ্রহীদের আক্রমণে গুরুতর আহত হয়েছে ইকিতু উপজাতির মানুষ, এমনটাই তারা সংবাদমাধ্যমকেও জানিয়েছে। যাদের এলিয়েন বলা হচ্ছে, তাদের বিবরণ যা দেওয়া হচ্ছে তার সাথে পৃথিবীর কোন জীবেরই মিল নেই।
ইকিতু উপজাতির গ্রামবাসীরা বলেছে যে,তারা গত জুলাই মাসের ১১ তারিখ থেকে “এলিয়েনদের” আক্রমণের সম্মুখীন হয়েছে৷স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমকে তারা জানিয়েছে যে, উপজাতি সদস্যরা নারী, শিশু এবং বয়স্কদের সহ তাদের সম্প্রদায়ের দুর্বল সদস্যদের সুরক্ষার জন্য রাতের টহল শুরু করেছে।উপরন্তু, তারা তাদের রক্ষায় এগিয়ে আসতে আবেদন জানিয়ে সেনাবাহিনী সহ পেরুভিয়ান প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সহায়তা চেয়েছে।
জাইরো রেতেগুই দাভিলা তথাকথিত “ভিনগ্রহী উপদ্রুত” গ্রামে ইকিতু সম্প্রদায়ের মোড়ল বা নেতা । তিনি সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন ভিনগ্রহের জীব যা তাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে তা সাতফুট লম্বা। স্থানীয় একটি সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে যে,দাভিলা এলিয়েনদের বর্ণনা করেছেন এভাবেই যে, “তাদের পায়ের জুতো গোলাকার আকৃতির, যা তারা ভাসতে ব্যবহার করে… তাদের মাথা লম্বা, তারা একটি মুখোশ পরে এবং তাদের চোখ হলুদ।”
দাভিলা বা যারা নিজেদের প্রত্যক্ষদর্শী বলে দাবি করছেন তারা আরও অবাক করে দিয়েছেন ভিনগ্রহীদের বর্ণনায়। গ্রামের মোড়ল বলেছেন,তারা তাদের মুখ দেখতে দেয় না এবং তাদের শরীর ভাসতে থাকে।তারা ওড়ার সময় তাদের বাহুগুলিকে ভারসাম্য রাখার কাজে ব্যবহার করে , তবে তারা স্বাভাবিকভাবে হাঁটে।যখনই আমরা পৌঁছাই, তারা তাদের পায়ের তলায় কিছু একটা সক্রিয় করে উড়ে যায়।তাদের আলো সহ চাকা রয়েছে।”
আল্টো নানে ইকিটু আদিবাসীদের সদস্যরা এও বলেছেন একটি ভিনগ্রহী গ্রামের এক ১৫ বছরের মেয়ের ওপর হামলা চালায়। তথাকথিত ভিনগ্রহীর হামলায় কিশোরী অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে । মেয়েটি কোনক্রমে লড়াই করে পালিয়ে এলেও গুরুতর আহত হয়েছে।”লড়াইয়ের ফলস্বরূপ, এলিয়েনটি মেয়েটির ঘাড়ের কিছুটা অংশ ফালাফালা করে কেটে ফেলেছে,” স্থানীয় সম্প্রদায়ের নেতা জাইরো রেতেগুই দাভিলা জানিয়েছেন।
এলিয়েনদের আবার যদি নতুন আক্রমণ হয় সেকথা ভেবে তারা ভয়ে ঘুমাতে পারছে না, তবুও রাতটহল জারি রাখা হবে, গ্রামবাসীরাএমনটাই জানিয়েছে। যদিও তারা ইতিমধ্যেই আবিষ্কার করে ফেলেছে যে, ভিনগ্রহের জীবরা মানুষের যেকোনও আক্রমণ প্রতিরোধ করতে পারে।মানুষ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেও তাদের গ্রামে আসা এলিয়েনদের ঘায়েল করতে পারে না, বলছে উপজাতির মানুষজন।দাভিলা বলেছেন যে এলিয়েনরা দুর্ভেদ্য , এবং দাবি করেছেন যে একজনকে গুলি করে কোনো লাভ হয়নি।”আমি তাদের একজনকে দুবার গুলি করেছি এবং সে আহত হয়নি, সে উঠে গেছে এবং অদৃশ্য হয়ে গেছে,” তিনি বলেছেন । সম্প্রদায়ের সদস্যরা জানিয়েছেন যে তাঁরা এলিয়েনদের হাতে একাধিকবার আক্রান্ত হয়েছেন। তারা তাদের ক্ষতচিহ্নও দেখিয়েছেন। যারা আক্রান্ত হন নি – তাদের মধ্যে অনেকেই ভিনগ্রহের জীবদের দেখেছেন বলে দাবি করছেন। “আমি তাকে সামনাসামনি খুঁজে পেয়েছি, সে তার মুখ লুকিয়ে রেখেছে। আমি পুরো শরীর ভাসতে দেখেছি। সে তার হাত নাড়াচ্ছে, সবকিছু স্বাভাবিক,” বলেছেন একজন প্রত্যক্ষদর্শী।
ইকিতু উপজাতির লোকেরা যখন এলিয়েন বা অন্য গ্রহ থেকে আসা জীবদের আকৃতি ও আচরণ বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছে, তখন পেরুর শিক্ষিত বিজ্ঞানমনস্কদের মধ্যে এই আশ্চর্য ও কিম্ভুতকিমাকার নমুনাদের শিকারী বা ড্রোন বলে ভাবনা চিন্তা জারি । তাদের অদ্ভুত চেহারা ও গতিবিধি দেখে উপজাতি সম্প্রদায়ের ধারণা হয়েছে অন্য গ্রহ থেকে আগত এলিয়েন হতে পারে, যখন দেশের নাগরিকদের অনেকেই কোথাও ভুল হচ্ছে বলে মনে করছেন।কোনও কোনও পত্রিকা বিভিন্ন সম্ভাব্য বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা খোঁজার চেষ্টা করছে। ইকিতু উপজাতি নিজেদের বক্তব্যে অটল। ইকিতুদের বক্তব্য ও সাহায্যের আবেদন শোনার পরে, প্রশাসন ও নৌ বাহিনী বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখবে বলেই আশ্বাস দিয়েছে।


More Stories
বাংলা নববর্ষের ইতিহাস
গ্রেফতার অজি ক্রিকেট তারকা ওয়ার্ণার
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ