Home » মুড়ি বিক্রির টাকায় চলা সংসারে স্বপ্নকে সার্থক করলেন মানিক

মুড়ি বিক্রির টাকায় চলা সংসারে স্বপ্নকে সার্থক করলেন মানিক

সানি রায়, সময় কলকাতা , ১৮ আগস্ট : মুড়ির মধ্যে শুধু পরিশ্রম লুকিয়ে থাকে না।। লুকিয়ে থাকে স্বপ্ন ও। ধান থেকে হাতে দেশি পদ্ধতিতে মুড়ি ভাজা এক জটিল প্রক্রিয়া। বিশেষ অভিজ্ঞতা ছাড়া এ কাজ করা যায় না।মুড়ি প্রস্তুত করা আর আরও কঠিন খুব স্বল্প মূল্যের মুড়ি বিক্রি করে সেই লাভের অর্থে সংসার চালানো।আরও কঠিন এরকম এক সংসারে কৃতি ছাত্র হয়ে স্বপ্ন সফল করা। স্বপ্ন সফল করার প্রথম ধাপ পার করেছেন আলিপুরদুয়ারের মানিক।এমবিবিএসে সুযোগ পেতে রাঙ্গালিবাজনার মুড়ি বিক্রেতার ছেলের কাছে আর্থিক অসচ্ছলতা প্রতিবন্ধক হয়ে উঠতে পারে নি।

আশৈশব লালিত হওয়া স্বপ্নের বাস্তবায়ন হতে আর দেরি নেই।আপাতত স্বপ্নের সিঁড়ি ধরে পথ চলা শুরু হয়েছে।আলিপুরদুয়ার জেলার রাঙ্গালিবাজনার দেবেন্দ্রপুরের মুড়ি বিক্রেতা বিষ্ণু রায়ের ছেলে মাণিক রায় জলপাইগুড়ির মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস পড়ার সুযোগ পেয়েছেন। শুরু হয়েছে তাঁর স্বপ্নের উড়ান। গর্বিত বাবা মা সহ প্রতিবেশীরা। মাণিক জানান, চিকিৎসক হয়ে তিনি গ্রামের হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরিষেবায় নিযুক্ত হতে চান। জেনারেল ক্যাটাগরিতে মানিকের র‍্যাংক ১ লক্ষ ৭ হাজার ১৮৫ । ৭২০ নম্বরের মধ্যে ৫০১ নম্বর পেয়েছেন তিনি। তবে তপশিলি জাতির পরীক্ষার্থী হিসেবে তাঁর র‍্যাংক ৪৪৭৮। ফলে সরকারি মেডিকেল কলেজে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।

মাণিকের বাবা হাটে বাজারে মুড়ি বিক্রি করেন। এক সময় ভীষণ অর্থ কষ্ট ছিল পরিবারে। পরে মাণিকের মা মুক্তা আইসিডিএস কর্মী হন। আর্থিক অনটন কিছুটা লাঘব হয়। ২০১৯ সালে রাঙ্গালিবাজনা মোহনসিং হাইস্কুল থেকে ৮৯ শতাংশ নম্বর সহ মাধ্যমিক ও ২০২১ সালে ফালাকাটার পারঙ্গেরপাড় হাইস্কুল থেকে বিজ্ঞান নিয়ে ৮৭ শতাংশ নম্বর নিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন মাণিক। তবে উচ্চ মাধ্যমিকের পর স্নাতক স্তরে ভর্তি হননি। শিলিগুড়ির একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়ে নিটের প্রস্তুতি নিয়েছেন। তাঁর বাবা বিষ্ণু রায় জানান, ছেলেকে ডাক্তার হিসেবে দেখা ছিল তাঁর স্বপ্ন। তবুও মানিক জানেন বাবার স্বপ্ন আংশিক সফল হয়েছে কিন্তু চিকিৎসা জীবনে ঢোকার আগে আগামী চার বছরের অধ্যয়ন এখনও বাকি।জ্ঞান অর্জনের পথ ধরে হাঁটা সবে শুরু।পূর্ণ সফলতা আসবে চিকিৎসক হয়ে  মানুষের সেবায় নিজেকে  নিয়োজিত করতে পারার মধ্যে, জানেন  মানিক । স্বপ্ন দেখার চোখ আরও প্রসারিত করছেন আগামী দিনের চিকিৎসক মানিক।

আরও পড়ুন :এসিএল ইনজুরি কী ? কেন হয় এই আঘাত? এই চোট থেকে বাঁচার উপায় কী?

 

About Post Author