সানি রায়,সময় কলকাতা , ১৮ আগস্ট : ধূপগুড়িতে পঞ্চায়েত নির্বাচন অতিবাহিত, আরেকটি নির্বাচন দরজায় টোকা দিচ্ছে। ধূপগুড়িতে পঞ্চায়েত ভোট ঘিরে বিতর্ক দেখা দিয়েছিল,ব্যালট বিতর্কে জড়িয়ে হাইকোর্টে বিচারপতির কাছে তিরস্কার শুনতে হয়েছিল ধূপগুড়ির ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার শঙ্খদীপ দাসকে।অন্যদিকে, ধূপগুড়ি বিধানসভার উপনির্বাচন সমাগত। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর উপনির্বাচন ধূপগুড়িতে। এরকম আবহে বদলি করে দেওয়া হল জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়ির বিডিও শঙ্খদীপ দাস কে।তাঁকে জলপাইগুড়ি হেডকোয়ার্টারে জেলা ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটও ডেপুটি কালেক্টরের দফতরে বদলি করে দেওয়া হয়েছে।সেখান থেকেই তাঁর স্থলাভিষিক্ত হতে চলেছেন জয়ন্ত রায়। জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা বসু বলছেন বটে, ” সরকারি নির্দেশ মেনে বদলি ” তবে রাজনৈতিক মহল ও জলপাইগুড়ি জেলার রাজনীতি সম্বন্ধে তথ্যবিজ্ঞ মহলের একাংশ বিষয়টি স্বাভাবিক বলে মানতে নারাজ। ধূপগুড়ি উপনির্বাচনের ঠিক মুখে এই বদলিকে রুটিন বদলি হিসেবে তাঁরা দেখছেন না। ইতিমধ্যেই ৪৯ মাস সময় ধূপগুড়ির বিডিও পদে থাকার নির্বাচনের ১৭ দিন আগে শঙ্খদীপ দাসের বদলিকে মোটেই কাকতালীয় হিসেবে মানতে তাঁরা চান নি।
পঞ্চায়েত নির্বাচনের ফলপ্রকাশ হয়েছে বেশ কিছুদিন আগেই। পঞ্চায়েত ভোট চলাকালীন ব্যালট পাওয়া গিয়েছে গণনা কেন্দ্রের বাইরে।ভোটের ফল প্রকাশের পরেও ব্যালট মিলেছে বিভিন্ন জায়গায়। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন স্থানে ব্যালট পেপার বা ব্যালট বাক্স উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। এই নিয়ে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। যার জেরে প্রায় প্রত্যেকদিনই আদালতে হাজিরা দিতে হয়েছে প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের।পঞ্চায়েত ভোটের পরে ব্যালট বিতর্কে যে সমস্ত প্রশাসনিক ব্যক্তিরা জড়িয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন শঙ্খদীপ দাস।

ধূপগুড়িতে গণনা কেন্দ্রের বাইরে ব্যালট পাওয়ার পরে তাঁর বিরুদ্ধে তাঁর বিরুদ্ধে রুজু মামলা চলাকালীন কার্যত আষাঢ়ে গল্প শোনানোর জন্য তাঁকে ভর্ৎসনা করেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা।জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ি ব্লকের সাকোয়াঝোরা ২ গ্রামপঞ্চায়েতের সোনাখালি ১৫/২০৮ বুথে ভোটে কারচুপির অভিযোগ ওঠে। ভোটগ্রহণের পর ভোট কেন্দ্রের বাইরে বেশ কিছু ব্যালট উদ্ধার হয় এবং বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন কংগ্রেস প্রার্থী শেহনাজ পারভিন, যার জেরে শঙ্খদীপ দাসকে তলব করেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা।ভোটের পর ব্যালট বাইরে কীভাবে জানতে চান বিচারপতি। তিনি যে যুক্তি খাড়া করেছিলেন তার ফলশ্রুতি হিসেবে বিচারপতির ভর্ৎসনার মুখে পড়েন তিনি । বিচারপতি অমৃত সিনহা বলেন , ‘ভাবছেন কী , যা বলবেন আদালত তাকেই সত্যি হিসেবে মেনে নেবে?’ অমৃতা সিনহা এও বলেন, ‘নির্বাচনে অশান্তির ছবি সামনে এসেছে। ২৮৯টি ভোট পড়েছে, অথচ ২৯৬ ভোট গোনা হয়েছে। ব্যালট পেপার মিলেছে ভোট কেন্দ্রের বাইরে। অথচ বিডিওর মনে কোনও প্রশ্ন নেই কেন? ” অবশেষে হাইকোর্টে তিরস্কৃত বিডিওকে বদলি করে দেওয়া হল।।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?