সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৮ আগস্ট :২৬ এপ্রিল থেকে ১৮ আগস্ট। অর্থাৎ প্রায় চারমাস হতে চলেছে। একদা বিত্ত- বৈভব- প্রতিপত্তির শিখরে থাকা অনুব্রত কন্যা সুকন্যা যে তিমিরে ছিলেন সেই তিমিরেই রয়েছেন। তিনিও কারাগারে, তাঁর বাবাও কারাগারে। এখন চোখের জল-ই সঙ্গী সুকন্যার।দিন আসছে,দিন যাচ্ছে। ২৬ এপ্রিল গরু পাচার মামলায় ধৃত সুকন্যা বা আরও আগে ধৃত অনুব্রত মন্ডল বা অনুব্রত ঘনিষ্ঠ সায়গলের শুনানি হয়ে চলেছে। প্রতিটি শুনানির শেষে হাত কামড়াচ্ছেন বীরভূমের একদা বেতাজ বাদশা ও নবাবনন্দিনীর।ভাগ্য বদলাচ্ছে না পিতা -পুত্রীর। কালকুঠুরিতে থাকার মেয়াদ বেড়েই চলেছে।চোখের জল ছাড়া কিছুই পাথেয় নেই সুকন্যার ।কখনও বাবার সঙ্গে দেখা করতে চেয়ে হাপুস নয়নে কাঁদছেন তদন্তকারীদের সামনে। শুক্রবার সায়গলের কাছে পিতা অনুব্রতের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত উত্তর পেতেই আবার বাঁধভাঙা জল এল চোখে।বাবার অসুস্থতার খবর শুনে চোখের জলে ভাসালেন সুকন্যা।
শুক্রবার দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ কোর্টে পেশ করা হয়েছিল অনুব্রত কন্যাকে। বাবা-মেয়ে দুজনেই আছেন তিহাড় জেলে। আলাদা সেলে থাকায় একে অপরের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান না । এদিন আদালতে গিয়ে বাবাকে দেখতে না পেয়ে জানতে পারেন শরীর ভাল নেই অনুব্রতর। হাসপাতালেও ভর্তি করতে হয়েছিল তাঁকে। এ কথা শুনে আদালতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন সুকন্যা।
গরু পাচার মামলায় গত বছর গ্রেফতার হন অনুব্রত মণ্ডল। মাস কয়েক পরে গ্রেফতার হন তার একমাত্র কন্যা সুকন্যাও। কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তে সুকন্যার নামে যে বিপুল সম্পত্তির হদিশ পাওয়া গিয়েছে, তা নিয়েই সন্দেহ বাড়ে তদন্তকারীদের। দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার হন সুকন্যা। শুক্রবার রাউস অ্যাভিনিউ আদালতে পেশ করার কথা ছিল সুকন্যা, অনুব্রত সহ এই মামলার অভিযুক্তদের এবং এই কারণে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয় সুকন্যাকে। শুক্রবার রাউস অ্যাভিনিউ কোর্টে পেশ করা যায়নি গরু পাচার মামলায় অভিযুকক্ত বীরভূমের তৃণণূল সভাপতিকে। তবে, এদিনই আদালতে পেশ করা হয়েছিল অনুব্রত কন্যা সুকন্যা মণ্ডলকে। এছাড়াও আদালতে হাজির করানো হয় অনুব্রত’র সায়গল হোসেন, বিএসএফ কর্তা সতীশকেও। ভার্চুয়ালি ছিলেন এনামুল হক, মণীশ কোঠারি। ভার্চুয়ালি কেন হাজির করা যায় নি অনুব্রতকে? জানতে উৎসুক ছিলেন অনুব্রত কন্যা সুকন্যা। অভিযুক্ত অনুব্রত মণ্ডলের প্রাক্তন দেহরক্ষী সায়গল হোসেনের থেকেই বাবার অসুস্থতার খবর জানতে পারেন সুকন্যা।বুকে ব্যাথা, শ্বাসকষ্ট সহ আরও কিছু সমস্যায় ভুগছেন জেলবন্দি অনুব্রত মণ্ডল। ফলে তাঁকে জেল হাসপাতালেও যেতে হয়।
অসুস্থতার কারণে গত ২ মাস ধরে ভিডিও-কনফারেন্সের মাধ্যমেই শুনানিতে অংশগ্রহণ করতে হচ্ছে অনুব্রতকে। শুক্রবার তাঁর সশরীরে হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল, অথচ ভার্চুয়ালি হাজিরাও দেন নি অনুব্রত । এদিন ফের জেল হেফাজতের মেয়াদ বৃদ্ধি পেয়েছে ধৃত প্রত্যেকের।২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেল হেফাজতে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।জেল হেফাজতের মেয়াদবৃদ্ধির পাশাপাশি অনুব্রতের অসুস্থতা বৃদ্ধিতে সুকন্যা বিষাদে, চোখের জল সঙ্গী তাঁর।।


More Stories
বিচ্যুতি থাকবেই, ফুলপ্রুফ সিস্টেম বলে কিছু হয়না : শমীক ভট্টাচার্য
শুভেন্দু -এনসিপিআই বৈঠক, তাৎপর্য কী?
বিজেপির বড় ধাক্কা, প্রশান্ত কিশোরের বাজিমাত