সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৯ আগস্ট: নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত যত এগোচ্ছে,ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কিছুদিন আগেই টাকা দিয়ে চাকরি কেনার অভিযোগে মুর্শিদাবাদের চার শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছিল। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এর আগে বিভিন্ন প্রভাবশালী নেতা থেকে শুরু করে মন্ত্রীদের গ্রেফতারির ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। তবে কোনও শিক্ষককে এর আগে গ্রেফতার হয়নি। এই প্রথমবার ‘অযোগ্য’ শিক্ষকদের গ্রেফতার করা হয়েছিল। আলিপুর বিশেষ সিবিআই আদালতের নির্দেশে গ্রেফতার করা হয় তাদের। ওই ঘটনার ১২ দিনের মাথায় আলিপুর আদালত ওই চার প্রাথমিক স্কুল শিক্ষককে শর্তসাপেক্ষে জামিন মঞ্জুর করেন। সূত্রের খবর ওই চারজন শিক্ষকই আলিপুর আদালতে টাকা দেওয়ার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেন। কার্যত সেকারণেই শনিবার অভিযুক্ত চার শিক্ষককে আলিপুর আদালতে পেশ করা হয়েছিল। এদিন তাঁরা আদালতে হাজিরা দিয়ে জানান যে, সিবিআইকে তদন্তে সবরকমভাবে সহযোগিতা করবেন। এরপরই অভিযুক্ত ওই চার ‘অযোগ্য’ শিক্ষককে অন্তর্বর্তী জামিন দিল আলিপুরের বিশেষ সিবিআই আদালত। জানা গিয়েছে, ৬ হাজার টাকার বন্ডে অভিযুক্ত ওই চার প্রাথমিক শিক্ষকের জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে নেমে জানা গিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া ওই চার শিক্ষক হলেন টাইগার হোসেন, সিমার হোসেন, জাহিরুদ্দিন শেখ ও সৌগত মণ্ডল। প্রত্যেকেই মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা। তাঁরা চারজনই ঘুষের টাকা দেন নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত তাপস মণ্ডলকে। তদন্তকারীদের ধারণা, বিভিন্ন কলেজগুলিতে চাকরিপ্রার্থীদের খুঁজে টোপ ফেলতেন দালালেরা। লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে চলত বেআইনি নিয়োগ। গ্রেফতার হওয়া ওই চার শিক্ষকের থেকে কীভাবে টাকা তাপস মণ্ডলের কাছে পৌঁছত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পূর্বেই সিবিআই ও ইডি দাবি করেছিল, পার্থ চট্টোপাধ্যায়-মানিক ভট্টাচার্যদের জুটি টাকা দিয়ে হাজার হাজার চাকরি বিক্রি করেছে। এবং এভাবে চাকরি বিক্রি করে তাঁরা কয়েক হাজার কোটি টাকা তুলেছিলেন। সিবিআই আগেই দাবি করছিল যে, একাধিক প্রার্থীর বয়ান থেকে তাপসের টাকার লেনদেন প্রকাশ্যে এসেছে। তবে কে কাকে টাকা দিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছিল। আদালতে সিবিআই তদন্তকারীরা যে নথি পেশ করেন, তাতে ওই চার শিক্ষকের নাম ছিল এবং নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে ওই চার শিক্ষক টাকা দিয়ে চাকরি কেনে। ঘুষের টাকা তাঁরা দেন তাপস মণ্ডলকে।
আরও পড়ুন জেনেটিক টেস্টিং কেলেঙ্কারির জন্য ভারতীয় বংশোদ্ভূত ল্যাব মালিককে সাজা

প্রসঙ্গত,নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে নেমে শহরের একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালায় ইডি। কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি বারাসাতেও তল্লাশি চালায় ইডি আধিকারিকরা। এরপরই বারাসতে কামাখ্যা মন্দিরের কাছে মানিক ভট্টাচার্যের ঘনিষ্ঠ একটি টিচার্স ট্রেনিং সেটারের কর্ণধার তাপস মণ্ডলের বাড়িতে হানা দেয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের একটি বড় দল। প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে তাপস মণ্ডল প্রত্যক্ষ ভাবে যুক্ত রয়েছে বলেই ইডি সূত্রের খবর। জানা গিয়েছিল,মানিক ভট্টাচার্যকে জেরা করে তাঁর বাড়ি থেকে যেসব কাগজপত্র উদ্ধার হয়েছে তা থেকেই এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছে। তবে শুধু এই ট্রেনিং সেন্টারই নয়,এরকমই বেশ কয়েকটি ট্রেনিং সেন্টার নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল। এই সব ট্রেনিং সেন্টারই মিডলম্যানের কাজ করত।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?