Home » রাজ্যের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তর্বতী উপাচার্য নিয়োগের জের, রাজ্যপালের বিরুদ্ধে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হাইকোর্টে

রাজ্যের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তর্বতী উপাচার্য নিয়োগের জের, রাজ্যপালের বিরুদ্ধে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হাইকোর্টে

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৩ আগস্ট: রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাতের আবহের মাঝেই রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের বিরুদ্ধে এবার জনস্বার্থ মামলা দায়ের হল কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের ডিভিশন বেঞ্চে। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড: রাজেশ দাস রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। মামলাকারীর অভিযোগ, ‘ইউজিসির নিয়ম ভেঙে রাজ্যের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তর্বতী উপাচার্য নিয়োগ করেছেন রাজ্যপাল। ইউজিসির আইনে অন্তর্বর্তী ভিসি করার কোনও নিয়ম নেই। রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয় আইনে উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য করা গেলেও তাকে কোন ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। এক্ষেত্রে শিক্ষামন্ত্রী বা শিক্ষা দফতরের অনুমতি নিতে হয়। রাজ্যপালের সিদ্ধান্তে বর্তমানে রাজ্যে প্রায় ১৩ জন অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য নিযুক্ত হয়েছেন। যারা বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত একাধিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।’ প্রধান বিচারপতির ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, যেহেতু এই সংক্রান্ত মামলা সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন, ফলে তার নিষ্পত্তি হলে এই মামলা শুনবেন তিনি।

উল্লেখ্য,যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনার মাঝেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য ঠিক করেছিলেন যাদবপুরের আচার্য তথা পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। এরপরই রাজ্যপালের নয়া উপাচার্য নিয়োগের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দারস্থ হয়েছিল রাজ্য সরকার। রাজ্য সরকারের সঙ্গে কোনরকম আলোচনা না করেই এই নিয়োগ করা হয়েছে বলেই অভিযোগ উঠেছে। এই নিয়োগ অবৈধ বলেও ইতিমধ্যে সরব হয়েছে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। সোমবার সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শুনানি ছিল। উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে রাজ্য ও রাজ্যপাল সংঘাত নতুন কিছু নয়। এর আগেও রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে অস্থায়ী ১৪ জন উপাচার্য নিয়োগ করেছেন আচার্য তথা রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। এরপরই রাজ্যপাল যে ১৪ জন উপাচার্যদের নিয়োগ করেছেন, তাঁদের উপাচার্য হিসেবে পারিশ্রমিক ও ভাতা না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল রাজ্য উচ্চশিক্ষা দপ্তর।

আরও পড়ুন     যাদবপুরে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় তিন অভিযুক্তকে ফের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ আলিপুর আদালতের


জানা গিয়েছে,রাজ্যের সঙ্গে কোনরকম আলোচনা না করেই ওই উপাচার্যদের নিয়োগ করা হয়েছে। কার্যত সেকারণেই রাজ্যপাল নিযুক্ত উপাচার্যদের বেতন ও ভাতা বন্ধের নির্দেশ জানিয়ে সে নির্দেশিকা সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সব রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গিয়েছিল। এরপর উপাচার্য নিয়োগের বৈধতা তুলে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা হয়েছিল। সেসময় হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, রাজ্যপাল যে উপাচার্যদের নিয়োগ করেছিলেন তা বৈধ। রাজ্যপালের উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন সনৎ কুমার ঘোষ। তাঁর বক্তব্য ছিল, সংশ্লিষ্ট আইন না মেনে অর্থাৎ শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কোনও রকম আলোচনা না করেই রাজ্যপাল উপাচার্যদের নিয়োগ করেছেন। নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিয়োগের যে সময়সীমা তা অগ্রাহ্য করেই রাজ্যপাল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাজ্যের সঙ্গে পরমর্শ করার বিষয়টি আইনসভার অন্তর্ভুক্ত একটি আইন। সেই আইনকে অগ্রাহ্য করা হয়েছে। রাজ্য এই উপাচার্যদের বেতন দেয়। সে ক্ষেত্রে নিয়োগ যদি বেআইনি হয়, তাহলে সরকার টাকা দেবে কীভাবে? সেই প্রশ্ন তোলেন মামলাকারী।

About Post Author