সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৩ আগস্ট: পুরসভার নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত যত এগোচ্ছে,ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। রাজ্যের পুরসভাগুলিতে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খেয়েছে রাজ্য। শীর্ষ আদালতেও খারিজ হয়ে গিয়েছে রাজ্যের মামলা। এবার পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় রাজ্যের দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুকে তলব করল সিবিআই। আগামী ৩১ তারিখ তাঁকে নিজাম প্যালেসে তলব করা হয়েছে বলেই জানা গিয়েছে। এর আগে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বিভিন্ন প্রভাবশালী নেতা থেকে শুরু করে মন্ত্রীদের গ্রেফতারির ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। তবে পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কোনও মন্ত্রীকে এর আগে তলব করা হয়নি। পুর নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তের স্বার্থে এই প্রথমবার কোন মন্ত্রীকে তলব করল সিবিআই। এই মর্মে বুধবার ওই মন্ত্রীকে তলবের নোটিসও পাঠিয়েছে সিবিআই। জানা গিয়েছে,পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতির ক্ষেত্রে ওই মন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কার্যত সেকারণেই তাঁকে তলব করা হয়েছে বলেই সূত্রের খবর। পুরনিয়োগ দুর্নীতির মূল ‘মাস্টারমাইন্ড’ অয়ন শিলের সঙ্গে সুজিত বসুর কীভাবে পরিচয় হল? পুরসভায় দুর্নীতি কীভাবে হল? এসব প্রশ্নের উত্তর পেতেই তদন্তকারীরা দমকল মন্ত্রীকে তলব করেছে বলেই সূত্রের খবর।

প্রসঙ্গত, হাইকোর্টের নির্দেশ মত পুরসভার নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইতিমধ্যেই ইডি-সিবিআই তদন্ত বহাল রেখেছে শীর্ষ আদালত। গত সোমবার প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়, বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি মনোজ মিশ্রের বেঞ্চ এই মামলার শুনানিতে ইডি-সিবিআই তদন্তের আর্জি খারিজ করে দেয়। রাজ্যের পুরসভাগুলিতে গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি পদে নিয়োগে দুর্নীতি নিয়ে সিঙ্গল বেঞ্চে মামলা ওঠে। এরপরই কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশের বিরোধিতা করেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য। তবে, সুপ্রিম কোর্ট ওই মামলার অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়ে তা কলকাতা হাইকোর্টেই ফেরত পাঠায়। পরে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চে মামলাটি উঠলে তিনি বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশ বহাল রাখেন। তদন্তের স্বার্থে পুর নিয়োগ দুর্নীতির মামলাটি বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থ সারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে উঠলে সেখানেও সিঙ্গল বেঞ্চের সিবিআই তদন্তের নির্দেশই বহাল থাকে।

সেক্ষেত্রে পুর নিয়োগের দুর্নীতিতে সিবিআই তদন্তের ক্ষেত্রে আর কোনও বাধা রইল না। পুর নিয়োগ দুর্নীতির কথা প্রথম সামনে আসে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অয়ন শীল গ্রেফতার হওয়ার পর। ইডি আদালতে দাবি করেছিল, তাঁর থেকে উদ্ধার হওয়া নথিতে পুর নিয়োগে দুর্নীতির হদিশ মিলেছে। একইসঙ্গে ইডি দাবি করে, উদ্ধার হওয়া নথি দেখে জানা গিয়েছে, রাজ্যের ৬০টি পুরসভায় বেআইনি নিয়োগ হয়েছে। তারপরেই পৃথকভাবে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এর আগে গত ৭ জুন পুর নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে নেমে রাজ্যের ১৪ টি পুরসভা সহ ২০ টি জায়গায় চিরুনি তল্লাশি চালিয়েছিল সিবিআই। বিধাননগরের পুর দফতরের নগরায়ন দফতরেও চলে তল্লাশি। বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় পুর নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য। কিন্তু, সেখানেও ধাক্কা খায় রাজ্য। সর্বোচ্চ আদালত রক্ষাকবচ দেয়নি। মামলায় যায় বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে। সেখানেও এই নির্দেশ বজায় থাকে। রাজ্য এই রায়ের বিরুদ্ধে ডিভিশন বেঞ্চে যায়।
আরও পড়ুন মিজোরামে কাজ চলাকালীন ভেঙে পড়ল নির্মীয়মান রেল ব্রিজ, মৃত ১৭ শ্রমিক


More Stories
বাড়ি রং করাও ধ*র্ষণ! ঋতব্রতকে নিয়ে ধর্ষ*কের নতুন সংজ্ঞা মদনের
পারিবারিক ত্রিকোণ প্রেমের সম্পর্কের জেরে স্ত্রীকে খু*ন করে আত্ম*ঘাতী স্বামী
অহংকার মমতার পতনের কারণ বললেন জগন্নাথ দয়িতাপতি