Home » যাদবপুরে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় তিন অভিযুক্তকে ফের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ আলিপুর আদালতের

যাদবপুরে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় তিন অভিযুক্তকে ফের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ আলিপুর আদালতের

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৩ আগস্ট: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় তিন অভিযুক্তকে ফের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিল আলিপুর আদালত। জানা গিয়েছে, যাদবপুরে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় ‘মাস্টারমাইন্ড’ ছিল সৌরভ চৌধুরীই! গত ৯ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের মেন হস্টেলের এ২ ব্লকের তিনতলা থেকে পড়ে মৃত্যু হয় প্রথম বর্ষের এক পড়ুয়ার। যা নিয়ে তোলপাড় গোটা ক্যাম্পাস। মৃতের পরিবার, থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করেন। সেই মামলার তদন্তে নেমে পুলিশের হাতে উঠে আসে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য। এই ঘটনার পিছনে র্যা়গিংয়ের অভিযোগ উঠেছিল। জানা গিয়েছিল, মৃত্যুর আগে ওই পড়ুয়াকে র্যাোগিং করা হয়। মানসিক ও শারীরিক অত্যাচারও করা হয়েছিল। এই ঘটনায় প্রথমেই সৌরভ চৌধুরী নামে এক প্রাক্তনীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারপর একেএকে মনোতোষ ঘোষ, দীপশেখর দত্ত সহ মোট ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে। তাঁদের মধ্যে সৌরভ, মনোতোষ, দীপশেখরকে পুলিশি হেফাজত শেষে আদালতে তোলা হয়। এরপরই আদালতে শুনানির সময় সরকারি আইনজীবী বলেন, এই ঘটনায় কিংপিন সৌরভই। এদিন আদালতের পুলিশ, ধৃতদের ফের নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানায়। ধৃতদের আইনজীবীরা আদালতে জানান, তাঁদের মক্কেলদের পরিকল্পনা করে ফাঁসানো হচ্ছে। তাঁরা নির্দোষ। তাঁদের জামিন দেওয়া হোক। যদিও বিচারক জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। আগামী ২৫ আগস্ট পর্যন্ত তাঁদের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আলিপুর আদালত।

এদিকে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় ইতিমধ্যেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ছাত্র খুনের ঘটনায় ইউএপিএ ধারা যুক্ত করা, অবিলম্বে এনআইএ তদন্ত এবং ক্যাম্পাসে সেন্ট্রাল ফোর্স মোতায়েনের দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের ডিভিশন বেঞ্চে জনস্বার্থ মামলার আবেদন জানান তিনি। ইতিমধ্যেই এই মামলার অনুমতি দিয়েছেন প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। চলতি সপ্তাহে শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে বলেই জানা গিয়েছে। পড়ুয়াদের নিরাপত্তায় ক্যাম্পাস চত্বরে সেন্ট্রাল ফোর্স মোতায়েনের দাবিও জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারীর আইনজীবী। এদিন আইনজীবী জানান, ‘যাদবপুরে মাওবাদীদের মতো নিষিদ্ধ সংগঠন সক্রিয়, তাই জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এনআইএ তদন্ত চাইছি।’ এ প্রসঙ্গে বিরোধী দলনেতা বলেন, ‘পুলিশ যদি যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিত, তাহলে আদালতে যেতাম না। পুলিশ ব্যবস্থা না নিলে এই সংগঠনের বিরুদ্ধে এনআইএ তদন্তের প্রয়োজন’।

আরও পড়ুন     ঘোষিত হল ডুরান্ডের কোয়ার্টার ফাইনালের ক্রীড়াসূচি! ইস্ট-মোহনের প্রতিপক্ষ কারা?

এসবের মাঝেই ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় মঙ্গলবার বিধানসভায় মুলতুবি প্রস্তাব আনল বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এদিন শুভেন্দু-সহ অন্যান্য বিজেপি বিধায়করা কালো উত্তরীয় গলায় জড়িয়ে ছাত্রমৃত্যুর প্রতিবাদে বিধানসভা ওয়াক আউট করেন। এদিন বিধানসভায় মুলতুবি প্রস্তাবটি পাঠ করেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রস্তাব গ্রহণ করেন অধ্যক্ষ। এরপর অধিবেশন শুরু হলে শুভেন্দু বলেন,দেশ বিরোধী শক্তির ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে যাদবপুর। উগ্র বাম সংগঠন সক্রিয় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। যাদবপুরে রুলস-রেগুলেশনস কিছুই মানা হয় না। মানা হলে গ্রামের মেধাবী ছাত্রটির জীবন এভাবে চলে যেত না। প্রাক্তন উপাচার্য অভিজিৎ চক্রবর্তী সিসিটিভি লাগাতে চেয়েছিলেন বলে আমাকে জানিয়েছেন। কেন তাঁর মেয়াদ শেষের আগে কেন সরানো হল? মাদক পাচার চক্র এবং দেশ বিরোধী শক্তিদের সরাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে? এই ঘটনার পর সরকার কী ব্যবস্থা নেবে?’ বিশ্ববিদ্যালয়ে সিসিটিভি বসানো নিয়ে হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি যেসব নির্দেশিকা দিয়েছিলেন, সে সব মানা হয়নি কেন, এদিন তা শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর কাছে জানতে চান শুভেন্দু অধিকারী।

About Post Author