সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৩ আগস্ট: রেল ব্রিজে কাজ চলাকালীন শ্রমিকদের মাথায় ভেঙে পড়ল নির্মীয়মান রেল ব্রিজ। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় ১৭ জন শ্রমিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। আহত বহু। ধ্বংসাবশেষের নীচে এখনও কেউ কেউ আটকে রয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, বুধবার সকালে মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে মিজোরামে। জানা গিয়েছে, মিজোরামের আইজলের কাছে সাইরাং-এ রেল ব্রিজ তৈরির সময় আচমকাই ভেঙে পড়ে ব্রিজটি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ১৭ জন শ্রমিকের। গুরুতর আহত বহু শ্রমিক। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই ওই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তড়িঘড়ি শুরু হয় উদ্ধারকাজ। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রথমে স্থানীয়রাই উদ্ধারকাজে হাত লাগান বলেই জানা গিয়েছে।

মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী জোরামথাঙ্গা টুইটে ইতিমধ্যেই ভাঙা ব্রিজের ছবি পোস্ট করেছেন। যা দেখে বোঝাই যাচ্ছে যে এদিন ঠিক কতটা উঁচু থেকে নীচে পড়েছেন শ্রমিকেরা। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের বেশ কয়েকজন বাসিন্দা আছেন বলেই জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী জোরামথাঙ্গা। পাশাপাশি শোক প্রকাশ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রী তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে শোক প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘মিজোরামের ঘটনা খুব কষ্টদায়ক। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করি। উদ্ধার কাজ চলছে।’ মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা করে ও আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
আরও পড়ুন যাদবপুরে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় তিন অভিযুক্তকে ফের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ আলিপুর আদালতের

প্রসঙ্গত, এর আগে গত ১ আগস্ট মহারাষ্ট্রের থানের শাহপুর এলাকায় সম্রুদ্ধি এক্সপ্রেসওয়েতে রেল ব্রিজ তৈরির কাজ চলাকালীন শ্রমিকদের মাথায় ভেঙে পড়ে ক্রেন। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় ২০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছিল। জানা গিয়েছে, কাজ চলাকালীন শ্রমিকেরা ‘গার্ডার লঞ্চিং মেশিন’ চালাচ্ছিলেন। সেসময়ই ক্রেনের একদিক ১০০ ফুট উপর থেকে ছিঁড়ে আচমকা শ্রমিকদের মাথার উপর ভেঙে পড়ে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই ২০ জন শ্রমিকের। এই ক্রেন ভারী ভারী পাথর, ইস্পাতখণ্ড একদিক থেকে অন্যদিকে বয়ে নিয়ে যায়। রাস্তা বা সেতু তৈরির কাজে এই ধরনের বিশাল ক্রেন ব্যবহার করা হয়। দুর্ঘটনার খবর পেয়েই তৎক্ষণাৎ পুলিশ, দমকল ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। যুদ্ধকালীন তৎপরতার সঙ্গে উদ্ধারকাজে নামে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। এরপর ধ্বংসাবশেষের নীচে থেকে নির্মাণকর্মীদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা ২০ জনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। সূত্রের খবর, থানের ৭০১ কিলোমিটার দীর্ঘ সম্রুদ্ধি এক্সপ্রেসওয়ে মুম্বই এবং নাগপুরের সংযোগস্থল। এই এক্সপ্রেসওয়ের ওপরেই মহারাষ্ট্র সরকারের সড়ক উন্নয়ন কর্পোরেশনের ব্রিজ নির্মাণের কাজ চলছিল। ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী টুইট করে দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। মৃতদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে।


More Stories
সুপ্রিম রায় : বিবাহিতা মহিলাদের বিয়ের মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ টিকবে না
আমাদের চেয়ে ভালো গলা কাটতে কেউ জানেনা, বাংলাদেশকে হুঁশিয়ারি নাগাল্যান্ডের মন্ত্রীর
আশ্রয় ডিটেনসন ক্যাম্প : বাংলাদেশী সন্দেহে আটক,আধারকার্ড -ভোটার কার্ড দেখিয়েও লাভ হল না বঙ্গের পাঁচ শ্রমিকের