সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৮ আগস্ট: উত্তর ২৪ পরগণার বারাসাত সংলগ্ন নীলগঞ্জে বেআইনি বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনার ২৪ ঘণ্টা কেটে গেলেও এখনও থমথমে গোটা এলাকা। সোমবার সকালেও ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ছিন্নভিন্ন দেহাংশ। রবিবার সকাল থেকেই নীলগঞ্জ যেন আস্ত মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। এখন পর্যন্ত নয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। নীলগঞ্জ জুড়ে শুরু হয়েছে ধরপাকড়। এবার এই ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রথম গ্রেফতার বাজি ব্যবসায়ী শফিক আলি। সোমবার ভোরে তাকে নীলগঞ্জ এলাকা থেকেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, ওই বাজি কারখানার মালিক কেরামত আলির অন্যতম সহযোগী ছিল এই শফিক। আজই তাকে বারাসাত আদালতে পেশ করা হবে বলেই জানা গিয়েছে। শফিক আলির বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। সূত্রের খবর, ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৮৬, বিস্ফোরক জাতীয় পদার্থ মজুত করার ক্ষেত্রে গাফিলতি, ৩০৮ অনিচ্ছাকৃত খুন, ৩০৪ অনিচ্ছাকৃত মৃত্যু, এক্সপ্লোসিভ অ্যাক্ট ৯ বি, ২৪/২৬ পশ্চিমবঙ্গ দমকল আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।

এদিকে, ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার পরেও সোমবার সকালে ফের মুণ্ডহীন দেহাংশ উদ্ধার হয়েছে। কোনও জায়গা থেকে পায়ের পাতা, কোনও জায়গায় ডান হাতের কনুই থেকে কাটা অংশ উদ্ধার হয়েছে। যুদ্ধকালীন তৎপরতার সঙ্গে এখনও চলছে দেহ উদ্ধারের কাজ। জানা গিয়েছে, ২৪ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও এখনও অনেকেই নিখোঁজ। কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গোটা এলাকা। ইতিমধ্যেই জঙ্গল পরিষ্কারের কাজও শুরু হয়েছে। কেননা জঙ্গলের মধ্যেই ছিল বোমা তৈরির মূল কারখানা। ঝোপের মধ্যেও দেহের কাটা অংশ পড়ে থাকতে বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা। রবিবারই এই ঘটনার তদন্তে নেমেছে সিআইডি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে এদিন বিকেলেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সিআইডির টিম। প্রাথমিক তদন্তের পর ইতিমধ্যেই ওই এলাকায় আরও অনেক বেআইনি বাজি কারখানার হদিশ পেয়েছে সিআইডি। সেইসঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে বেআইনি বিস্ফোরক মজুত থাকার প্রমাণ মিলেছে। নীলগঞ্জ থেকে ২০০ কেজি অবৈধ বাজি উদ্ধার হয়েছে। যখন তখন ফের অঘটনের শঙ্কা মোচপোলে।
আরও পড়ুন বারাসাতের নীলগঞ্জে বিস্ফোরণের ঘটনায় ফের উদ্ধার দেহ, নিখোঁজ বহু

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত সংলগ্ন নীলগঞ্জের মোচপোল এলাকার বেআইনি ওই বাজি কারখানায় শব্দবাজি তৈরি হত। রবিবার সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ তীব্র বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে নীলগঞ্জের মোচপোল। মুহূর্তের মধ্যে নীলগঞ্জ যেন আস্ত মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়। চারিদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে যায় ছিন্নভিন্ন দেহাংশ। জানা গিয়েছে, বেআইনি ওই বাজি তৈরির কারখানায় প্রচুর পরিমাণে বাজির মশলা মজুত থাকায় বিস্ফোরণে পুরোপুরি উড়ে গিয়েছে কারখানাটি। রবিবার রাতের পর সোমবার সকালেও ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে। এদিন বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে পাশের বাড়ির টালির চাল, পেয়ারা গাছে আটকে যায় একাধিক দেহ। মাটির সঙ্গে মিশে যায় পাকা বাড়ি। এমনকী আশেপাশের বেশকয়েকটি বাড়িও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিস্ফোরণের জেরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় গোটা এলাকায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব়্যাফ নামানো হয়।


More Stories
মধ্যমগ্রাম থেকে ১৭ বছরের ছাত্র নিখোঁজ ,প্রশাসনের দ্বারস্থ পরিবার
কুমোরটুলির পর ঘোলা !ট্রলি ব্যাগে বন্দি এক ব্যক্তির দেহ!
পুলিশ পরিচয় দিয়ে এবার মাছ বাজারে তোলাবাজি, তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার ২ তৃণমূল কর্মী