Home » পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ঝালদা পুরসভাকে নোটিস ইডির

পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ঝালদা পুরসভাকে নোটিস ইডির

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১২ সেপ্টেম্বরঃ পুর নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত যত এগোচ্ছে,ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। রাজ্যের পুরসভাগুলিতে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খেয়েছে রাজ্য। শীর্ষ আদালতেও খারিজ হয়ে গিয়েছে রাজ্যের মামলা। এবার পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ডায়মন্ডহারবার পুরসভার পর ঝালদা পুরসভাকে চিঠি পাঠাল ইডি। সোমবারই চিঠি হাতে পেয়েছে ঝালদা পুরসভা। যদিও এই প্রথমবার নয়। এর আগেও ঝালদা পুরসভাকে নোটিস পাঠিয়েছিল ইডি। সূত্রের খবর, ২০১৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ঝালদা পুরসভায় যতগুলি নিয়োগ হয়েছে, সে সংক্রান্ত সমস্ত নথি দিতে চেয়েছে ইডি। এমনকী ২০১৪ সাল থেকে যারা ঝালদা পুরসভার পুরপ্রধান পদে ছিলেন, কার্যনির্বাহী অধিকারিক এবং পুরকর্মচারী ছিলেন, তাঁদের নাম এবং ফোন নম্বরের তালিকাও চাওয়া হয়েছে।

এদিকে, গত সপ্তাহের বুধবারই চার কংগ্রেস কাউন্সিলর ও এক নির্দল কাউন্সিলকে নিয়ে বোর্ড গঠন করেছে তৃণমূল। এসবের মাঝেই পুরকর্মী নিয়োগ নিয়ে ঝালদা পুরসভাকে ইডির নোটিস। এর আগে গত ৩১ আগস্ট ডায়মন্ডহারবার পুরসভার পর রাজ্যের আরও ১২টি পুরসভাকে নোটিস পাঠায় ইডি। ১২টি পুরসভার কাছেই ২০১৪ সাল থেকে কবে, কোথায়, কাকে নিয়োগ করা হয়েছে, সেই সংক্রান্ত খুঁটিনাটি তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে,২০১৬ সালে ডায়মন্ডহারবার পুরসভায় গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি-তে কর্মী নিয়োগের জন্য পরীক্ষা নেয়। ২০১৭ সালে ১৭ জন পুরসভার চাকরি পান। এই চাকরির পরীক্ষার দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এরপরই তদন্তে নামে ইডি।

আরও পড়ুন   পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় রাজ্যের ১২টি পুরসভাকে নোটিস ইডির

প্রসঙ্গত, পুর নিয়োগ দুর্নীতির কথা প্রথম সামনে আসে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অয়ন শীল গ্রেফতার হওয়ার পর। ইডি আদালতে দাবি করেছিল, উদ্ধার হওয়া নথি দেখে জানা গিয়েছে রাজ্যের ৬০টি পুরসভায় পাঁচ হাজারেরও বেশি চাকরি বিক্রি হয়েছে। আর তার বিনিময়ে প্রায় ৫০ কোটি টাকা তোলা হয়েছিল। পুরসভার গাড়ির চালক, টাইপিস্ট, ক্লার্ক, গ্রুপ ডি, সাফাইকর্মী—একএকটা পদের জন্য এক একরকম দরে বিক্রি হয়েছে চাকরি। তারপরেই পৃথকভাবে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এর আগে গত ৭ জুন পুর নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে নেমে রাজ্যের ১৪ টি পুরসভা সহ ২০ টি জায়গায় চিরুনি তল্লাশি চালিয়েছিল সিবিআই। বিধাননগরের পুর দফতরের নগরায়ন দফতরেও চলে তল্লাশি। বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় পুর নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য। কিন্তু, সেখানেও ধাক্কা খায় রাজ্য। সর্বোচ্চ আদালত রক্ষাকবচ দেয়নি। মামলায় যায় বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে। সেখানেও এই নির্দেশ বজায় থাকে। রাজ্য এই রায়ের বিরুদ্ধে ডিভিশন বেঞ্চে যায়।

About Post Author