সময় কলকাতা ডেস্ক,১৪ সেপ্টেম্বর : লিবিয়ার বন্যায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বুধবারের শেষে পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মৃত্যুর সংখ্যা ৬০০০ ছাড়িয়েছে, নিখোঁজ ১০০০০। স্বাভাবিকভাবেই মৃতের সংখ্যা আরও অনেক বাড়বে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।দেরনার মেয়র স্বয়ং আশঙ্কা করছেন মৃতের সংখ্যা ২০০০০ ছুঁতে পারে। জরুরী ভিত্তিতে কাজ করে চলা দলগুলি তিন দিন আগে লিবিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে দেরনা সহ অন্যত্র বন্যা আঘাত হানার পর জীবিতদের খুঁজে বের করতে এবং মৃতদেহ উদ্ধারের জন্য কাজ করছে। ১০ সেপ্টেম্বর,রবিবার, প্রাণঘাতী ঝড়ের প্রভাবে সৃষ্ট বন্যায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে মন্তব্য করেছেন দেরনার মেয়র আবদুলমেনাম আল-গাইথি। সংবাদ মাধ্যমকে তিনি বলেন, বন্যায় ধ্বংস হওয়া শুধুমাত্র দেরনা শহরে মৃতের আনুমানিক সংখ্যা ১৮ হাজার থেকে ২০ হাজারের মধ্যে পৌঁছাতে পারে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা প্রত্যক্ষদর্শীদের ফুটেজে বন্যার পর ধ্বংসযজ্ঞ দেখানো হয়েছে, ধ্বংসপ্রাপ্ত কাঠামোর ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ভেঙ্গে পড়া ছাদ এবং গড়িয়ে পড়া গাড়ি। এককথায় কিছুই যেন আর অবশিষ্ট নেই।স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে উপকূলীয় শহর দেরনা যা কিনা বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ, জল ও বালি দ্বারা কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে।শহরের উপকূলগুলি মারাত্মকভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।
বুধবার সকাল পর্যন্ত ৬০০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর দুঃখজনক ও নিশ্চিত খবর রয়েছে,ত্রিপোলিতে ঐক্য সরকারের (unity government ) স্বাস্থ্য উপ অধিকর্তা সাদেদ্দিন আবদুল ওয়াকিল এমনটাই জানিয়েছেন। দেশে কাজ করা দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী সরকারের অন্যতম সরকারের কাছে পাওয়া খবরে নিখোঁজের সংখ্যা জানা গিয়েছে।
স্থানীয় উদ্ধারকারী দলগুলো নিখোঁজদের খোঁজে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।লিবিয়ায় জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) বুধবার জানিয়েছে, ৩০,০০০ এরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
প্লাবনে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ লিবিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চল , যেখানে প্রবল জলরাশি আঘাত এনেছিল।ভূমধ্যসাগর উপকূলে অবস্থিত লিবিয়ার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ শহর হল দেরনা, যা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর বেনগাজি থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত।প্রায় এক লক্ষ জনসংখ্যাবিশিষ্ট শহর দেরনা প্রায় জনশূন্য। যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন। দেরনা শহরব্যাপী শুধুই বন্যার ধ্বংসলীলার ছবি।কর্তৃপক্ষের মতে, আশেপাশের এলাকাগুলো ভেসে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে এবং জরুরি প্রতিক্রিয়া কর্মীরা বলছেন যে হাসপাতালগুলি আর চালু নেই। কার্যত দেরনা ও লাগোয়া এলাকা এখন মৃত্যু উপত্যকা।
রবিবার ঘূর্ণিঝড় ড্যানিয়েল আঘাত হানার পর দেরনায় লিবিয়ার বিপর্যয়কর পরিস্থিতি সম্পর্কে লিবিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট তারেক আল-খারজ সংবাদ সংস্থাকে বলেছেন, ভূমধ্যসাগরীয় শহর দেরনায় এ পর্যন্ত ৩,৮৪০ জন মারা গেছে, যার মধ্যে ৩,১৯০ জনকে ইতিমধ্যে সমাহিত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কমপক্ষে ৪০০ জন ছিলেন সুদান ও মিশর থেকে আগত।
তবে এখানেই শেষ নয়। ড্যানিয়েল আঘাত করার আগে এক লক্ষ মানুষের বাস থাকা শহরটিতে ২০০০০ মানুষ মারা যেতে পারেন আশঙ্কা করা হলেও বাকিদের নিয়েও নিশ্চিত থাকার কোনও উপায় নেই।মিশর, তিউনিসিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী , তুরস্ক এবং কাতার থেকে উদ্ধারকারী দল পৌঁছেছে। দ্রুত মৃতদেহ উদ্ধার না হলে বিপদ বাড়বে।ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং জলে অজস্র মৃতদেহ পড়ে থাকার কারণে শহরটি মহামারিতে বাকি মানুষ আক্রান্ত হতে পারেন। প্রবলভাবে মহামারীর আশঙ্কায় প্রহর গুনছে ঝড় ও বন্যা বিক্ষুব্ধ মৃতের শহর দেরনা।।


More Stories
গ্রেফতার অজি ক্রিকেট তারকা ওয়ার্ণার
হরমুজ প্রণালী, রান্নার গ্যাস ও তেল এবং ভারত -ইরানের সম্পর্ক
যুদ্ধের জাঁতাকলে ভারত