সময় কলকাতা ডেস্ক, ২০ সেপ্টেম্বর : হরদীপ সিং নিজ্জরের খুনের সম্পর্ক ভারতের সাংবাদিক, কূটনৈতিক মহল ও রাজনৈতিক নেতাদের একটি বিরাট অংশ বিশ্বাস করে প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ভুল তথ্য পেয়ে নিজেও ভুল তথ্য পেশ করছেন এবং তারা একজোট হয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর বক্তব্যের বিরোধিতায় সামিল। একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দাবি করছে, খালিস্তানপন্থী নেতা হরদীপ সিং নিজ্জরের মৃত্যুর বিষয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী তথ্যভিত্তিকভাবে “বিপথচালিত”। আবার ভারতীয় রাজনৈতিক নেতা, লেখক ও সাংবাদিকরা দাবি করছেন বর্তমানে শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ ভারতে খালিস্থানি আন্দোলন মৃত আর হরদীপ সিং নিজ্জরের কোনও প্রভাব নেই ভারতে, কোনওদিন প্রভাব ছিলও না । কানাডার প্রধানমন্ত্রী যে ‘ভুল তথ্য’ প্রদান করে দু দেশের সম্পর্কই শুধু নষ্ট করছেন তার প্রমাণও তাদের কাছে রয়েছে দাবি একটি সংবাদমাধ্যমের।
একটি সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে,কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো “বিপথচালিত ” এবং গোয়েন্দা সংস্থার মদতে “ভুল তথ্য” হজম করানো হচ্ছে।কানাডা এবং ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব উত্তপ্ত হওয়ার সাথে সাথে সাথে খালিস্তানি সহানুভূতিশীল হরদীপ সিং নিজ্জরের হত্যার মূলে গ্যাং-ওয়ার। মিথ্যে তথ্য দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক নষ্ট করছে বলেই দাবি সংবাদ মাধ্যমের।
এই গোটা বিষয়টি সম্পর্কে সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ব্যক্তি বলেছেন যে কানাডার গোয়েন্দা সংস্থা সিএসআইএস ট্রুডোকে ভুল তথ্য দিচ্ছে কারণ তারা কানাডার মাটিতে উগ্র এজেন্টদের নিয়োগ করেছে। সিএসআইএস (CSIS)দ্বারা নিয়োগকৃত এই এজেন্টরা আবার খালিস্তানি গোষ্ঠীর সঙ্গে সংযোগ জনিত কারণে নিজস্ব স্বার্থসিদ্ধি করতে খালিস্তানি গোষ্ঠী সম্পর্কে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ভুল তথ্য দিচ্ছে বলে দাবি সংবাদমাধ্যমের।
উল্লেখ্য,এই গ্রীষ্মে কানাডায় হরদীপ সিং নিজ্জরের হত্যাকাণ্ড হঠাৎ করে কানাডা এবং ভারতের মধ্যে একটি বড় কূটনৈতিক বিরোধের সূচনা করেছে।নিহত ৪৫ বছর বয়সী বিচ্ছিন্নতাবাদী, হরদীপ সিং নিজ্জর ছিলেন খালিস্তানী মতবাদের প্রবক্তা যিনি নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে কানাডা চলে যান।
পাঞ্জাবে, রাজনীতিবিদ এবং একজন সাংবাদিক বলেছেন যে হরদীপ সিং নিজ্জরের বিরুদ্ধে ভারতের উগ্রপন্থার অভিযোগ সত্ত্বেও, এবং তার আন্দোলন খুব কমই পরিচিত ছিল।জলন্ধরের শাসক দলের বিধায়ক রমন অরোরা বলেছেন, “তিনি বহু বছর আগে চলে গেছেন, এবং কেউ তাকে এখানে মনে রাখে না বা তারা তার সম্পর্কে কথা বলে না। তিনি এও বলেছেন, “”খালিস্তান আন্দোলন কয়েক দশক ধরে এখানে মারা গিয়েছে। ” একজন প্রবীণ পাঞ্জাবি সাংবাদিক, জগতার সিং, আরও বলেছিলেন যে নিহত হরদীপ সিং “এখানে ছিলেন এবং সম্পূর্ণ অজানা ছিলেন ” এবং কয়েক দশক ধরে আগুনঝরা সময়ে পাঞ্জাব নিয়ে সাংবাদিকতা করার সময়, তিনি “তাঁর সম্পর্কে কখনও শোনেননি।”
পাঞ্জাবের ভারতীয় নেতা বিনীত যোশি কানাডা সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়ে হরদীপ সিং নিজ্জরের সম্পর্কে বলেছেন, তাঁকে বিশেষ কেউ চিনত না এবং এই অঞ্চলে তিনি খুব কম পরিচিত ছিলেন।বিনীত যোশি কানাডিয়ান সরকারকে দোষারোপ করেছেন যে এমন লোকেদের উৎসাহিত করার জন্য যে বা যারা কিনা নিজেকে বা নিজেদের ভারত বিরোধী বলে অভিহিত করে।”কানাডা খালিস্তান কার্যকলাপ, ভারত বিরোধী এবং ভারত ভাঙার ষড়যন্ত্রের কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠেছে,” বিনীত জোশি বলেছেন।”সেখানে বাক স্বাধীনতা আছে – কোন সমস্যা নেই।কিন্তু আপনি অন্য জাতির বিচ্ছিন্নতার কথা বলতে পারেন না।এখন, যখন ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আপত্তি তোলে, তখন কানাডিয়ানরা তাদের উপেক্ষা করে।”তিনি কানাডার জন্য একটি বার্তাও দিয়েছিলেন: “তাদের বুঝতে হবে যে এই ভারত একই ভারত নয়।মোদির নেতৃত্বে এখন অনেক বেশি শক্তিশালী।”।।


More Stories
নাবালক ছাত্রের সঙ্গে যৌ*ন মিলন , গ্রেফতার হাইস্কুল শিক্ষিকা
পুলওয়ামা হামলার মাস্টারমাইন্ড হামজা বুরহান খ*তম , কে এই হামজা?
সীমান্তে চ্যাংড়াবান্ধায় জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্তের পরই শুরু মাপজোক