সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৩ সেপ্টেম্বর: স্কিল ডেভেলপমেন্ট দুর্নীতি মামলায় চলতি মাসের শুরুতেই গ্রেফতার হয়েছেন অন্ধপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা টিডিপি প্রধান এন চন্দ্রবাবু নাইডু। তাঁর বিরুদ্ধে অন্ধপ্রদেশ সরকারের স্কিল ডেভেলাপমেন্ট স্কিমে ৩৭১ কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তারপর থেকেই জেলে রয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছিল অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্ট। এবার হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে শনিবার সুপ্রিম কোর্টের দারস্থ হলেন চন্দ্রবাবু নাইডু। অন্যদিকে, এদিনই অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশ চন্দ্রবাবু নাইডুকে রাজামাহেন্দ্রভরমের সেন্ট্রাল জেলে ডেভেলপমেন্ট দুর্নীতি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।

প্রসঙ্গত, স্কিল ডেভেলপমেন্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৯ সেপ্টেম্বর ভোরেই অন্ধ্রপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডুকে গ্রেফতার করে সিআইডি। স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর চন্দ্রবাবুকে বিজয়ওয়াড়ার অ্যান্টি- কোরাপশন ব্যুরো কোর্টে পেশ করা হয়। এরপর আদালত তাঁকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয়। ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাঁকে জেল হেফাজতে রাখা হবে বলেই জানা গিয়েছিল। ওইদিন রাতেই তড়িঘড়ি তাঁকে রাজামুন্দ্রি সেন্ট্রাল জেলে পাঠানো হয়। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন স্কিল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনে ৩৭১ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছিল। এই দুর্নীতির মূল চক্রী ছিলেন চন্দ্রবাবু নাইডু। এরপর ২০২১ সালে স্কিল ডেভলপমেন্ট দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, প্রতারণা, অসততা, অসাধুভাবে সম্পত্তি বিতরণ সহ একাধিক ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনেও অভিযোগ আনা হয়েছিল তাঁর বিরুদ্ধে।
আরও পড়ুন অশান্ত মণিপুরে চারমাস পর চালু ইন্টারনেট পরিষেবা
এরপরই গত মার্চ মাস থেকে সেই দুর্নীতির তদন্ত শুরু করে অন্ধ্রপ্রদেশের সিআইডি। জানা গিয়েছে, ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৪, ৩৭, ১০৯, ১২০(৮), ১৬৬, ১৬৭, ২০১, ৪০৯, ৪১৮, ৪২০, ৪৬৫, ৪৬৮, ৪৭১ নং ধারার অধীনে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁকে। যদিও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর গ্রেফতারির পর থেকেই তুমুল বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তেলুগু দেশম পার্টির সমর্থকরা। আদালত চত্বরেও শুরু হয়েছিল বিক্ষোভ। চন্দ্রবাবু নাইডুর গ্রেফতারির প্রতিবাদে গোটা অন্ধ্রপ্রদেশ জুড়ে বনধের ডাক দিয়েছিল তেলেগু দেশম পার্টি। রাজ্যের সীমানা ছাড়িয়ে গোটা দেশে রাজনৈতিক মহলেও চন্দ্রবাবুর গ্রেফতারের প্রভাব পড়েছিল ব্যাপক। এরপরই তেলেগু সম্প্রদায়কে একজোট হওয়ার ডাক দিলেন টিডিপি নেতা তথা চন্দ্রবাবু নাইডুর ছেলে নারা লোকেশ। এমনকী চন্দ্রবাবুর গ্রেফতারিকাণ্ডে সরব হয়েছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে, অভিনেতা তথা জনসেনা পার্টির সভাপতি পবন কল্যাণের দলও এই বনধে সমর্থন করেছিলেন। টিডিপি দলের সমস্ত কর্মীরা সাধারণ মানুষকে এই বনধ সফল করতে আর্জি জানিয়েছিলেন।


More Stories
বিজেপি বিপক্ষ দল ভাঙাতে কত কোটি টাকা দিচ্ছে বলে অভিযোগ?
বিপাকে প্রাক্তন সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইঞা!
আগের সরকারের সবকিছুতেই ফুলস্টপ নয়, বললেন শিক্ষামন্ত্রী