সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৫ সেপ্টেম্বর: রাজ্য- রাজ্যপাল সংঘাত অব্যাহত। এবার মুখ্যমন্ত্রী দেশে ফিরতেই সোমবার ১২ দিনের আমেরিকা সফরে যাচ্ছেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। সূত্রের খবর, মার্কিন মুলুকে একটি সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়েছেন রাজ্যপাল। তাতেই যোগ দিতে আমেরিকা যাচ্ছেন তিনি। এদিকে, শনিবারই ১২ দিনের বিদেশ সফর সেরে কলকাতায় ফিরেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্পেন সফরের মধ্যেই তিনি জানতে পেরেছিলেন বিদেশে যাওয়ার জন্য রাজ্যপালের কাছে রাষ্ট্রপতি ভবনের অনুমোদন এসে গিয়েছে। রাজভবন সূত্রে খবর, রাজ্যপাল আমেরিকায় প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গেও দেখা করবেন। ৭ অক্টোবর তাঁর কলকাতায় ফেরার কথা। আর রাজ্যপালের এই বিদেশ সফরকে কেন্দ্র করে ধূপগুড়ির বিধায়কের শপথগ্রহণ নিয়ে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠছে, তাহলে ধূপগুড়ির বিধায়ক নির্মলচন্দ্র রায়ের শপথগ্রহণ কীভাবে হবে? এক্ষেত্রে সংবিধান অনুযায়ী রাজ্যপাল যদি বিদেশ সফরে যাওয়ার আগে বিধানসভার অধ্যক্ষকে দায়িত্ব দিয়ে যান, তবে নির্মলবাবুকে শপথ বাক্য পাঠ করাতে করাতে পারেন বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তা না হলে নির্মলচন্দ্র রায়ের শপথগ্রহণ আটকেই থাকবে।

প্রসঙ্গত, ধূপগুড়ির নবনির্বাচিত বিধায়ক নির্মলচন্দ্র রায়ের শপথগ্রহণকে ঘিরে জটিলতা ক্রমে বেড়েই চলেছে। গত ৮ সেপ্টেম্বর ধূপগুড়ির উপনির্বাচনের ফলপ্রকাশ হয়। জয়ী হন তৃণমূল প্রার্থী নির্মলচন্দ্র রায়। তৃণমূল সূত্রে খবর, বিধানসভার পরিবর্তে ধূপগুড়ির বিধায়কের শপথগ্রহণের অনুষ্ঠান রাজভবনে করতে চান রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। সরাসরি ধূপগুড়ির বিধায়ক নির্মলচন্দ্র রায়কে রাজ্যপাল ফোনও করেছেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, সরকার গঠনের সময় ছাড়া মাঝে কোনও উপ নির্বাচন হলে জয়ী বিধায়কদের শপথের ক্ষেত্রে স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারকে দায়িত্ব দেন রাজ্যপাল। এমনকী রাজ্যপাল নিজেও শপথ বাক্য পাঠ করাতে পারেন। কিন্তু সাধারণত, বিধায়কের শপথগ্রহণের অনুষ্ঠান বিধানসভাতেই হয়ে থাকে। তার পরিবর্তে রাজভবনে শপথগ্রহণের অনুষ্ঠান করতে চাইতেই বিতর্ক দানা বাঁধছে। ঘটনাকে ঘিরে ফের রাজ্য বনাম রাজ্যপালের সংঘাতের আবহ দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
আরও পড়ুন বিদেশ সফরে পায়ে চোট মুখ্যমন্ত্রীর, ১০ দিন বিশ্রামের পরামর্শ চিকিৎসকদের
রাজ্যের দাবি, ৮ সেপ্টেম্বর ধূপগুড়ির উপনির্বাচনের ফলপ্রকাশের পরের দিনই জয়ী বিধায়কের শপথ সংক্রান্ত ফাইল রাজভবনে পাঠানো হয়েছিল। অভিযোগ, দু সপ্তাহ অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও সেই ফাইলে সই করেননি রাজ্যপাল। ধূপগুড়ির বিধায়ককে ফোন করে রাজ্যভবনে শপথ বাক্য পাঠ করার বিষয়টি সামনে আসার পর দেরির কারণ এবার বুঝতে পারছে রাজ্য। এই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই রাজ্য -রাজ্যপালের মধ্যে নতুন করে যে সংঘাতের সৃষ্টি হল, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। উল্লেখ্য, গত ৮ সেপ্টেম্বর ধূপগুড়ির উপনির্বাচনের ফলপ্রকাশ হয়েছে। শাসক- বিরোধীদের কাছে ধুপগুড়ির উপ নির্বাচন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। ধূপগুড়ির উপনির্বাচনে চার হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী হন তৃণমূল প্রার্থী নির্মল চন্দ্র রায়। এরপর ৯ সেপ্টেম্বর নব বিধায়ক নির্মল চন্দ্র রায়ের শপথ সংক্রান্ত ফাইল রাজভবনে পাঠায় রাজ্য সরকার। অভিযোগ ওঠে, এতদিন পর্যন্ত রাজভবনেই সেই ফাইল পড়েছিল। রাজ্যপাল সেই ফাইলে এতদিন সই না করে পনেরো দিন ধরে ফেলে রেখেছিল।


More Stories
যাদবপুর নিয়ে মুখ খোলায় সংবাদপত্রের কার্যালয় ঘেরাও
তৃণমূল ও সিপিএম প্রসঙ্গে দলীয় কর্মীদের মুখ্যমন্ত্রীর শপথবাক্য ও মন্ত্রগুপ্তি
অমিত শাহ এলেন, পাহাড় সমস্যা নিয়ে কী আলোচনা হল,সমাধান কবে?