সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৯ সেপ্টেম্বর: ধূপগুড়ির নবনির্বাচিত বিধায়ক নির্মলচন্দ্র রায়কে শপথবাক্য পাঠ করানো নিয়ে টানাপোড়েন অব্যাহত। অবশেষে কাটল জট। সব জটিলতা কাটিয়ে ফের ধূপগুড়ির বিধায়কের শপথের দিনক্ষণ স্থির করল রাজভবন। জানা গিয়েছে, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর, শনিবার নির্মলবাবুর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হবে। ইতিমধ্যেই ধূপগুড়ির বিধায়কের কাছে রাজভবনের তরফে শপথগ্রহণের জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে। ওই চিঠিতে রাজভবনে এসেই তাঁকে শপথ নিতে বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে ধূপগুড়িতে চিঠি পৌঁছে গিয়েছে। সূত্রের খবর, বিধায়ক বাড়িতে না থাকায় চিঠিটি বিধায়কের হয়ে ‘রিসিভ’ও করা হয়েছে। তাঁর সঙ্গে পরে পরিষদীয় দলের কথা হয়। পরিষদীয় দল নির্মলচন্দ্র রায়কে কলকাতা চলে আসার নির্দেশ দেয়। শুক্রবার তিনি কলকাতা আসছেন বলেই সূত্রের খবর।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবারই নির্মলচন্দ্র রায়কে শপথবাক্য পাঠ করানো প্রসঙ্গে রাজ্যপালের ভূমিকা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। স্পিকারের ক্ষোভ প্রকাশের পরই শোনা যায় শপথবাক্য পাঠ করানোর দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে ডেপুটি স্পিকারকে। যদিও ডেপুটি স্পিকার জানিয়ে দেন, তিনি কোনও চিঠি পাননি। স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ও জানান, রাজভবনের তরফে ডেপুটি স্পিকারকে কোনও চিঠি দেওয়া হয়নি। তবে মুখ্যমন্ত্রীকে রাজ্যপাল একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। আর সেই চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, তফশিলি উপজাতির ওই বিধায়কের শপথ রাজভবনেই করাতে চান। তাতে রাজভবনের গরিমা বাড়বে। উল্লেখ্য, ধূপগুড়ির নবনির্বাচিত বিধায়ক নির্মলচন্দ্র রায়ের শপথগ্রহণকে ঘিরে জটিলতা ক্রমে বেড়েই চলেছিল। গত ৮ সেপ্টেম্বর ধূপগুড়ির উপনির্বাচনের ফলপ্রকাশ হয়।
আরও পড়ুন ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় ফের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি মণিপুরে, অপরাধীদের কড়া শাস্তির আশ্বাস অমিত শাহের

চার হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী হন তৃণমূল প্রার্থী নির্মল চন্দ্র রায়। এরপর ৯ সেপ্টেম্বর নব বিধায়ক নির্মল চন্দ্র রায়ের শপথ সংক্রান্ত ফাইল রাজভবনে পাঠায় রাজ্য সরকার। অভিযোগ ওঠে, এতদিন পর্যন্ত রাজভবনেই সেই ফাইল পড়েছিল। রাজ্যপাল সেই ফাইলে এতদিন সই না করে পনেরো দিন ধরে ফেলে রেখেছিল। তৃণমূল সূত্রে খবর, বিধানসভার পরিবর্তে ধূপগুড়ির বিধায়কের শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান রাজভবনে করতে চান রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। সরাসরি ধূপগুড়ির বিধায়ক নির্মলচন্দ্র রায়কে রাজ্যপাল ফোনও করেছেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, সরকার গঠনের সময় ছাড়া মাঝে কোনও উপ নির্বাচন হলে জয়ী বিধায়কদের শপথের ক্ষেত্রে স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারকে দায়িত্ব দেন রাজ্যপাল। এমনকী রাজ্যপাল নিজেও শপথ বাক্য পাঠ করাতে পারেন। কিন্তু সাধারণত, বিধায়কের শপথগ্রহণের অনুষ্ঠান বিধানসভাতেই হয়ে থাকে। তার পরিবর্তে রাজভবনে শপথগ্রহণের অনুষ্ঠান করতে চাইতেই বিতর্ক দানা বাঁধছে। ঘটনাকে ঘিরে ফের রাজ্য বনাম রাজ্যপালের সংঘাতের আবহ দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


More Stories
পাটুলিতে শুট আউট, নিহত যুবক
বিজেপিকে একমাত্র রুখতে পারেন দিদি : অখিলেশ যাদব
এবার কলকাতায় পাঁচজায়গায় একযোগে সিবিআই হানা