Home » রাষ্ট্রপতির সম্মতি মিলতেই আইনে পরিণত হল মহিলা সংরক্ষণ বিল

রাষ্ট্রপতির সম্মতি মিলতেই আইনে পরিণত হল মহিলা সংরক্ষণ বিল

সময় কলকাতা ডেস্ক, ৩০ সেপ্টেম্বর:  দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সর্ব্বসম্মতিতে বিশেষ অধিবেশনে সংসদের দুই কক্ষে আগেই পাশ হয়েছিল মহিলা সংরক্ষণ বিল। এবার সেই বিলে রাষ্ট্রপতিরও অনুমোদন মিলল। ২৯ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার মহিলা সংরক্ষণ বিলে স্বাক্ষর করেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পরই এদিন আইনে পরিণত হল মহিলা সংরক্ষণ বিলটি। স্বাভাবিক ভাবেই এবার লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত হয়েছে। সূত্রের খবর, লোকসভায় পাশ হওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার সংসদের উচ্চকক্ষে সর্ব্বসম্মতিতে মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ হয়। এরপর বৃহস্পতিবার এই বিলে স্বাক্ষর করেন উপ-রাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়। তারপরই শুক্রবার সকালে বিলটি রাষ্ট্রপতির কাছে সম্মতির জন্য পাঠানো হয়। এরপর এদিন বিকালেই এই বিলে স্বাক্ষর করে সেটিতে অনুমোদন দেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। তবে, মহিলা সংরক্ষণ বিলটি আইনে পরিণত হলেও এটি কার্যকর করতে কিছুটা সময় লাগবে বলেই জানা গিয়েছে। কেননা আইনটি কার্যকর করার আগে আদমসুমারী করা জরুরি। তারপর রাজ্যগুলির বিধানসভার আসন পুনর্বিন্যাসও করতে হবে। স্বাভাবিকভাবেই বিলটি কার্যকর করতে সময় লাগবে।

প্রসঙ্গত, গত ১৮ সেপ্টেম্বর, সংসদের বিশেষ অধিবেশনের প্রথম দিনই ১২৮তম সংবিধান সংশোধনী বিল হিসেবে লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ বিল পেশ করেছিলেন কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রী অর্জুন সিং মেঘওয়াল। এই বিল পাস করার পক্ষে সওয়ালও করেছিল বিরোধী দলগুলি। এদিন রাতেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে মহিলা সংরক্ষণ বিলটিকে অনুমোদন দেওয়া হয়। এই বিলের সমর্থনে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি নারী শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিলটির নাম দেন ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’। অবশেষে বুধবার সকাল ১১ টা থেকে শুরু করে সন্ধ্যে ৬টা পর্যন্ত লোকসভায় বহু বিতর্কিত মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে ভোটাভুটি শুরু হয়। বিলটি লোকসভায় পাস করানোর জন্য দুই তৃতীয়াংশের ভোট প্রয়োজন ছিল। ভোটাভুটিতে বিলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৪৫৪জন। অন্যদিকে, এই বিলের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন ‘অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই- ইত্তেহাদুল মুসলিমিন’-এর দুই সাংসদ।এদিন অধিবেশন শুরুর আগেই রণকৌশল স্থির করতে বৈঠকে বসেছিল বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। লোকসভায় তৃণমূলের তরফে বক্তব্য রাখেন মহুয়া মৈত্র ও কাকলি ঘোষ দস্তিদার। অন্যদিকে, কংগ্রেসের তরফে বক্তব্য পেশ করেন সনিয়া গান্ধি।বিলটিকে কংগ্রেস পূর্ণ সমর্থন করে বলেই জানান তিনি।

আরও পড়ুন    ‘অভিষেককে ৩ অক্টোবর জেরা করতেই হবে’, নির্দেশ বিচারপতি অমৃতা সিনহার

উল্লেখ্য, এই মহিলা সংরক্ষণ বিলে লোকসভা এবং রাজ্য বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই ৩৩ শতাংশ আসনের মধ্যে তফসিলি জাতি, তফসিলি উপজাতি এবং অ্যাংলো-ইন্ডিয়ানদের জন্য উপ-সংরক্ষণের প্রস্তাবও রয়েছে। মহিলা সংরক্ষণ বিলে বলা হয়েছে, প্রতিটি লোকসভা নির্বাচনের পর সংরক্ষিত আসন পরিবর্তন করা উচিত। ১৯৯৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ৮১তম সংশোধনী বিল হিসেবে লোকসভায় প্রথম এই বিলটি পেশ করেছিল এইচডি দেবগৌড়ার নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট সরকার। যদিও পরবর্তীতে লোকসভা ভেঙে যাওয়ার কারণে মহিলা সংরক্ষণ বিলটি বাতিল হয়ে যায়। এরপর অটল বিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার ১৯৯৮ সালে ফের রাজ্যসভায় এই বিলটি পেশ করেন। কিন্তু বিলটি একই ভাবে পাস না হওয়ায় ২০০৩ সাল পর্যন্ত অটল বিহারী বাজপেয়ী সরকার আরও তিনবার সংসদে এই বিলটি পেশ করেন। কিন্তু মজার বিষয় হল যে, কোনবারই সংসদে বিলটি পাস হয়নি। ফলাফল একই ছিল। এরপর মনমোহন সিং সরকারের সময় ২০০৮ সালের ৬ মে, বিলটি ফের রাজ্যসভায় পেশ করা হয়। ২০১০ সালে রাজ্যসভায় বিলটি পাসও হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে আরজেডি এবং সমাজবাদী পার্টি লোকসভায় এই বিলের বিরুদ্ধে কঠোর বিরোধিতা করেছিল। সেসময় তাঁরা মহিলাদের জন্য বর্ণভিত্তিক সংরক্ষণের কথা জানিয়েছিল। কিন্তু ওইসময় লোকসভা ভেঙে যাওয়ার কারণে বিলটি নিয়ে আলোচনাও শেষ হয়ে যায়।

About Post Author