Home » বারাসাতে নৃশংসভাবে বয়স্কা মহিলাকে খুন : নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন

বারাসাতে নৃশংসভাবে বয়স্কা মহিলাকে খুন : নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন

সাম্য গোস্বামী ও পুরন্দর চক্রবর্তী,সময় কলকাতা, ৩ অক্টোবর :স্বামী মারা যাওয়ার পরে ছ মাস কাটতে না কাটতেই অজ্ঞাতপরিচয় আততায়ীদের হাতে নৃশংসভাবে খুন হয়ে গেলেন ৬৩ বছর বয়সী শর্মিষ্ঠা মুন্সী। উত্তর চব্বিশ পরগনার সদর শহর বারাসাতের ঘটনা। বারাসাতের ন’পাড়া ইলেকট্রিক অফিস সংলগ্ন এলাকায় নিজের বাড়িতে একাই থাকতেন তিনি। সোমবার রাতে রক্তাক্ত ও মৃত অবস্থায় তাঁকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। রবিবার সকাল ও সোমবার গভীররাতের মাঝামাঝি কোনও সময়ে খুন হন বয়স্কা মহিলা । মাথার পাশে ভারী কিছু আঘাত করে তাঁকে খুন করা হয়। খুনের সময়ের মত,খুনের প্রকৃত কারণ এখনও অজ্ঞাত। স্থানীয় বাসিন্দাদের মত নেশাগ্রস্থ সমাজবিরোধীদের হাতেই খুন হয়েছেন প্রবীণা।এলাকাবাসীদের মতে স্রেফ লুঠতরাজের জন্য দুষ্কৃতীরা ঢুকেছিল। বাধা দিতে গিয়েই খুন হন বয়স্কা শর্মিষ্ঠা মুন্সী। পুলিশ মোটিভ এখনও স্পষ্ট না করলেও তারা সব দিক খতিয়ে দেখছে।

আরও পড়ুন : মনিকা যাদব হত্যাকান্ড : মহিলা সহকর্মীকে খুন করে আশ্চর্য কৌশলে খুনের ঘটনা দুবছর চাপা রেখেছিল সহকর্মী কনস্টেবল

প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে রবিবার সকাল ১১-৪৫ নাগাদ মেয়ের সঙ্গে শেষ কথা হয়। এরপর থেকে মেয়ে ও জামাই ফোন করে শর্মিষ্ঠা মুন্সীকে পান নি। এতে তাঁদের সন্দেহ হয়,সোমবার রাতে তখন তাঁরা প্রতিবেশীদের খোঁজ নিতে বলতেই জানা যায় ঘটনাটি। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, বাড়ির মেঝেতে উপুড় হয়ে পড়েছিল শর্মিষ্ঠা মুন্সির মৃতদেহ। আলমারি লকার ভাঙা এবং সারাবাড়িতে ঝড়ের চিহ্ন। ছত্রাকার হয়ে পড়েছিল বাড়ির যাবতীয় সামগ্রী।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিশ্বচাঁদ ঠাকুর সহ পুলিশের বিশাল বাহিনী ঘটনার স্থলে তড়িঘড়ি পৌঁছে গেলেও এই খুন বারাসাত শহরে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে অনেক প্রশ্ন তুলতে বাধ্য।কারণ যেখানে খুন হয়েছে সেই জায়গা বারাসাত এসপি অফিস থেকে খুব দূরে নয়। অথচ ছেলে কর্মসূত্রে পুণেতে থাকেন ।মেয়ে বিবাহিতা,থাকেন বেলঘরিয়ায়।একাই থাকতেন বাড়িতে। মেয়েই বেশি যোগাযোগ রাখতেন। মেয়েই শেষ কথা বলেছিলেন। এরপর বহু চেষ্টা করেও মাকে ফোন করে পান নি। উদ্বিগ্ন ছিলেন মেয়ে।সোমবার রাতেও মাকে ফোনে না পাওয়ার পরে তার উদ্বেগ বাড়ায় ফোন করে পাড়াপড়শীকে খোঁজ নিতে বলেন মেয়ে। এরপরেই মর্মান্তিক সত্য সামনে আসে।

পাড়াপ্রতিবেশীরা অবশ্য খুনের কারণ নিয়ে বিশেষ দ্বিধাবিভক্ত নন। একটি কারণ ছাড়া অন্য কোনও সন্দেহ করছেন না। তাঁদের মতে, নিছক চুরি – ডাকাতির মত অপরাধ করতে আসা সমাজবিরোধীদের হাতেই খুন হয়েছেন শর্মিষ্ঠা দেবী। সেক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন জনবহুল এলাকার প্রাণকেন্দ্রে এভাবে কেন প্রাণ যায় একা থাকা এক বয়স্কা মহিলার? অনেকেই বলছেন সবার পক্ষে ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী রাখাও সম্ভব না। অথচ বারাসাতের বেশ কিছু এলাকায় যে সমাজ বিরোধীদের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলেছে তা নিয়ে সংশয়ের অবকাশ নেই। বারাসাতে রাস্তার পাশে দোকানপাটে হামেশাই চুরি ছিনতাই লেগেই থাকে। নেশাগ্রস্থ বা পাতাখোরদের শহর হয়ে উঠেছে বারাসাত যাদের নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ সম্পূর্ণ ব্যর্থ বলে মনে করছেন বারাসাতের নাগরিকরা। এতদিন বারাসাতের মানুষ জানতেন চুরি, ছিনতাই, লুঠতরাজের শিকার তাঁরা যখনতখন হতেই পারেন, এবার ন’ পাড়ার বয়স্কা মহিলার খুনের ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল যে, রাতে বাড়িতে একা থাকা নিরস্ত্র মানুষের প্রাণও আর বারাসাতে নিরাপদ নয়।।

About Post Author