Home » মনিকা যাদব হত্যাকান্ড : মহিলা সহকর্মীকে খুন করে আশ্চর্য কৌশলে খুনের ঘটনা দুবছর চাপা রেখেছিল সহকর্মী কনস্টেবল

মনিকা যাদব হত্যাকান্ড : মহিলা সহকর্মীকে খুন করে আশ্চর্য কৌশলে খুনের ঘটনা দুবছর চাপা রেখেছিল সহকর্মী কনস্টেবল

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২ অক্টোবর : সহকর্মী মহিলা পুলিশ মনিকা যাদবকে খুন করার পরও দিব্যি প্রতারণা করে ও কৌশলের আশ্রয় নিয়ে  মৃতাকে তার পরিবারের কাছে বাঁচিয়ে রেখেছিল  দিল্লি পুলিশের কনস্টেবল সুরিন্দর সিং রানা । দু বছর আগে সেপ্টেম্বর মাসে নিখোঁজ হয়ে যায় মেধাবী পুলিশ কর্মী মনিকা যাদব। আদতে তাকে শ্বাসরোধ  করে খুন হয়ে করা হয়েছিল।আর এই খুনে অভিযুক্ত রানা তার পরিবারের সঙ্গে প্রতারণা করতে শুরু করে। মৃতার পুরোনো ভয়েস মেসেজ  তার পরিবারের কাছে পাঠাতে থাকত কনস্টেবল রানা । খুনের পরে দেড় বছর ধরে এরকমই করে গিয়েছে অভিযুক্ত। এভাবেই নিজের কৃতকর্ম চাপা রেখেছিল সুরিন্দর সিং রানা । অবশেষে প্রায় দুবছর ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে এসে পুলিশ দীর্ঘ তদন্তের পরে নিশ্চিত হয় হেড কনস্টেবলের হাতে খুন হয়েছে সহকর্মী মনিকা যাদব। মনিকা যাদব হত্যাকাণ্ডের জাল অবশেষে গুটিয়ে ফেলতে পেরেছে পুলিশ যদিও পরিবারের ক্ষোভ যায় নি।

পুলিশ জানিয়েছে, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে অভিযুক্ত দিল্লি পুলিশের হেড কনস্টেবল রানা তারই এক সহকর্মীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে তার দেহ একটি জলা জমিতে পুঁতে রেখেছিল এবং পরবর্তী ১৮ মাস ধরে, মহিলার ভয়েস মেসেজগুলি ব্যবহার করে তার পরিবারকে পাঠিয়ে বোঝাতে চেয়েছিলেন যে তিনি বেঁচে আছেন। খুন,মিথ্যা ও প্রতারণার পর্দা ফাঁস হয়েছে খুনের দু বছর পরে।

মৃতার বোনের সন্দেহ জাগে সরাসরি মৃতার সঙ্গে যোগাযোগ না করতে পারায়। মৃতার বোনের কঠোর প্রচেষ্টার পরে, এই বছরের সেপ্টেম্বরের দিকে পুলিশ বিষয়গুলিকে খতিয়ে দেখতে শুরু করে।পুলিশ অবশেষে ৪২ বছর বয়সী সুরিন্দর সিং রানাকে গ্রেফতার করেছে এবং জানিয়েছে ২৭ বছর বয়সী মনিকা যাদব দু বছর আগেই রানার হাতে খুন হয়েছে।

“নিহতের লাশ উদ্ধার করে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। রানা মৃতার পরিবার এবং আমাদের সাথে প্রতারণা করার জন্য যা যা করা সম্ভব সবই করেছিল।তবে আমরা তার বিরুদ্ধে একটি নিখুঁত মামলা তৈরি করতে সক্ষম হব,” বলেছেন দিল্লি পুলিশের অপরাধ শাখার বিশেষ কমিশনার রবীন্দ্র যাদব।

হত্যার কারণ

পুলিশ তদন্তের পরে জেনেছে, দুজনের প্রথম সাক্ষাৎ হয় ২০১৮ সালে। পুলিশ জানিয়েছে, সুরিন্দর সিং রানা মনিকার চোখে পিতৃতুল্য হলেও রানা অবিরতভাবে উচ্চাকাঙ্ক্ষী মনিকা যাদবকে বিয়ে করার জন্য পীড়াপীড়ি করছিল। যখন তা প্রত্যাখ্যান করে চলছিল মনিকা তখন রানা একদিন কথা কাটাকাটির মাঝে রাগের মাথায় তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছিলেন।
এই ভয়ঙ্কর কাজের প্রমাণলোপ করতে হয়ে রানা তার শ্যালক রাভিন (২৬) এবং রাজপাল (৩৩) এর সাথে পুশতা এলাকার একটি নালার কাছে মৃতদেহটি কবর দেয়। এরপরে শুরু হয় প্রতারণার খেলা। ১৮ মাস নিখোঁজ মনিকার খোঁজ পায় নি পরিবার।অবশেষে পুলিশ কমিশনার সঞ্জয় অরোরার বিশেষ নির্দেশে এবছর এপ্রিল মাস থেকে পুলিশ বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করতে শুরু করে। অবশেষে সেপ্টেম্বর মাসে এসে পুলিশ ঘটনাটি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে যায়। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পরে রানা নিজের অপরাধ কবুল করে।

রানা গত সপ্তাহে পুলিশকে বলেছিল যে, তারা যাদবের মৃতদেহ দিল্লির আলিপুরে একটি জলা জায়গায় কবর দিয়েছিল।সেখানে, পুলিশ খোঁড়াখুড়ি করে অস্থি ও কঙ্কাল খুঁজে পেয়েছে যা সম্ভবত মনিকা যাদবের বলেই পুলিশ মনে করছে যা ডিএনএ পরীক্ষার পরে নিশ্চিত হয়ে যাবে।

মনিকা যাদবের পরিবারের পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রশমিত হয় নি। তারা অভিযোগ করেছে যে,উত্তর-পশ্চিম দিল্লির মুখার্জি নগর থানার অফিসাররা তাদের অভিযোগ উপেক্ষা করেছিলেন এবং এবছর এপ্রিলে একটি মামলা দায়ের করেছেন – প্রথম নিখোঁজ হওয়ার ১৮মাস পরে। দিল্লি পুলিশ কমিশনার সঞ্জয় অরোরা হস্তক্ষেপ করার আগে পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বই দেয় নি।

আরও পড়ুন উত্তরপ্রদেশ : খুনের পাল্টা এক পরিবারের ৫ সদস্যকে খুন করল উন্মত্ত জনতা

About Post Author