Home » মেঘভাঙা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত সিকিম ! নিখোঁজ ২৩ জওয়ান, উদ্বেগ প্রকাশ বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর

মেঘভাঙা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত সিকিম ! নিখোঁজ ২৩ জওয়ান, উদ্বেগ প্রকাশ বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর

সময় কলকাতা ডেস্ক, ৪ অক্টোবরঃ বর্ষার তাণ্ডবলীলায় বিপর্যস্ত সিকিম সহ সমগ্র উত্তরবঙ্গ। বিপর্যয় যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না উত্তরবঙ্গের। মেঘভাঙা বৃষ্টিতে কার্যত বিপর্যস্ত সিকিম। উত্তর-পূর্বের পাহাড়ি রাজ্যের লাচেন উপত্যকায় চুংথাং বাঁধ থেকে জল ছাড়ার কারণে তিস্তায় তৈরি হয়েছে হরপা বান। এই হরপা বানের জেরে তুলিয়ে গেছে একাধিক সেনার গাড়ি। তিস্তা নদীর জলে সেনাবাহিনীর ৪১ টি গাড়ি তলিয়ে গেছে। এখনও পর্যন্ত ২৩ জন জওয়ানের খোঁজ পাওয়া যায়নি। সেনাদের খোঁজে শুরু হয়েছে তল্লাশি।

আরও পড়ুন   নিম্নচাপের জেরে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় শুক্রবার পর্যন্ত তুমুল দুর্যোগের পূর্বাভাস

লোনার লেকের প্রাচীর ভেঙে জল ঢুকে পড়েছে গ্রামে। উত্তর সিকিমের সিংতামের কাছে তিস্তার প্রবল জলোচ্ছ্বাসে সেনা ছাউনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।  সিকিমের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যেই উত্তরবঙ্গের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন সেচমন্ত্রী পার্থ ভৌমিক। এক্স হ্যান্ডেলে মুখ্যমন্ত্রী উদ্বিগ্ন প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘আমরা সিকিমের পাশে রয়েছি। সিকিমে ২৩ জন জওয়ানের খবর শুনে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। আমরা সবরকম ভাবে সাহায্য করতে প্রস্তুত। আমি উত্তরবঙ্গ প্রশাসনকেও অতি সতর্ক থাকতে বলেছি। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর প্রস্তুতি জানার জন্য মুখ্যসচিবকে যত দ্রুত সম্ভব যোগাযোগ করতে বলেছি।’

এদিকে, তিস্তা নদীর জলের স্রোতে ভেসে আসছে একের পর এক মৃতদেহ। ইতিমধ্যেই ধস নামতে শুরু করেছে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের বেশ কিছুটা অংশে। এটি সিকিমের অন্যতম লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত। আপাতত গুরুত্বপূর্ণ ওই সড়ক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নদীর জলস্তর ১৫ থেকে ২০ ফুট বেড়ে গিয়েছে। লাগাতার বৃষ্টির কারণে উত্তর সিকিমের লোনাক লেকের জল তিস্তায় ঢুকতে শুরু করেছে। তিস্তার তোড়ে ভেসে গিয়েছে একাধিক সেতু। বহু জায়গাতেই রাস্তার উপর দিয়ে বইছে নদীর জল।

মঙ্গলবার রাতে হড়পা বানে রংপো, মেল্লি, সিংটামের ক্ষতি বেশি হয়েছে। সিংটামের কাছে ইন্দ্রাণী সেতু জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে। প্রকৃতির রোষে সিকিমের পরিস্থতি এততাই খারাপ যে সিকিম সরকারের তরফে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টা নাগাদ তিস্তা ব্যারেজ থেকে ৮২৫২.৪০ কিউমেক জল ছাড়া হয়েছে। বুধবার সকালেই লোনক হ্রদে আরও বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। জল আরও নীচে নেমে আসছে। আরও ২৫ ফুট জলস্তর বাড়বে বলেই জানা গিয়েছে। সেনাদের সহায়তায় নদী পার্শ্ববর্তী বাসিন্দাদের ইতিমধ্যেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

About Post Author