Home » বিপর্যস্ত সিকিমে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা! নিখোঁজ শতাধিক মানুষ, লাচুং-লাচেনে আটকে বহু পর্যটক

বিপর্যস্ত সিকিমে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা! নিখোঁজ শতাধিক মানুষ, লাচুং-লাচেনে আটকে বহু পর্যটক

সময় কলকাতা ডেস্ক, ৫ অক্টোবরঃ পুজোর আগে দুর্যোগের মুখে বাংলা। লাগাতার বৃষ্টি এবং হড়পা বানের জেরে বিপর্যস্ত সিকিম সহ সমগ্র উত্তরবঙ্গ। উত্তর-পূর্বের পাহাড়ি রাজ্যের লাচেন উপত্যকায় চুংথাং বাঁধ থেকে জল ছাড়ার কারণে তিস্তায় তৈরি হয়েছে হরপা বান। লোনার লেকের প্রাচীর ভেঙে জল ঢুকে পড়েছে গ্রামে। এই হরপা বানের জেরে তুলিয়ে গেছে একাধিক সেনার গাড়ি। উত্তর সিকিমের সিংতামের কাছে তিস্তার প্রবল জলোচ্ছ্বাসে সেনা ছাউনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিস্তা নদীর জলে সেনাবাহিনীর ৪১ টি গাড়ি তলিয়ে গেছে।  বিপর্যস্ত সিকিমে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। এদিকে, তিস্তা নদীর জলের স্রোতে ভেসে আসছে একের পর এক মৃতদেহ। এখনও পর্যন্ত ১৪ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিকিমের প্রশাসন। ২২ সেনা জওয়ান-সহ এখনও নিখোঁজ শতাধিক মানুষ।

আরও পড়ুন      পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষের বাড়িতে ইডি হানা

প্রকৃতির রোষে সিকিমের পরিস্থতি এততাই খারাপ যে সিকিম সরকারের তরফে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। বুধবার সকালে তিস্তা ব্যারেজ থেকে ৮২৫২.৪০ কিউমেক জল ছাড়া হয়েছে। বুধবার সকালেই লোনক হ্রদে আরও বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। জল আরও নীচে নেমে আসছে। আরও ২৫ ফুট জলস্তর বাড়বে বলেই জানা গিয়েছে। সেনাদের সহায়তায় নদী পার্শ্ববর্তী বাসিন্দাদের ইতিমধ্যেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তারই মধ্যে সিকিমের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরতে গিয়ে বহু পর্যটক আটকে পড়েছেন।

উত্তর সিকিমের লাচুং-লাচেনে এখনও পর্যন্ত আটকে প্রায় ৩ হাজার পর্যটক। রয়েছেন বাঙালি পর্যটকও। তাঁদের উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে চালু করা হয়েছে হেল্প লাইন নাম্বার। যদিও বিদ্যুৎ সংযোগ ও মোবাইল পরিষেবা বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে আটকে থাকা পর্যটকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা সম্ভব হয়নি। সিকিম প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আবহাওয়ার উন্নতি হলে চপার নামানো হবে। ইতিমধ্যেই হেল্প লাইনে আসা তথ্যের ভিত্তিতে কোন কোন জেলার পর্যটকেরা আটকে রয়েছেন, তারও তথ্য তুলে ধরেছেন পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত ট্যুর অপারেটরেরা।

এদিকে, বুধবার রাত থেকে ফের ধস নামতে শুরু করেছে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের বেশ কিছুটা অংশে। এটি সিকিমের অন্যতম লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত। আপাতত গুরুত্বপূর্ণ ওই সড়ক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নদীর জলস্তর ১৫ থেকে ২০ ফুট বেড়ে গিয়েছে। লাগাতার বৃষ্টির কারণে উত্তর সিকিমের লোনাক লেকের জল তিস্তায় ঢুকতে শুরু করেছে। তিস্তার তোড়ে ভেসে গিয়েছে একাধিক সেতু। বহু জায়গাতেই রাস্তার উপর দিয়ে বইছে নদীর জল। মঙ্গলবার রাতে হড়পা বানে রংপো, মেল্লি, সিংটামের ক্ষতি বেশি হয়েছে। সিংটামের কাছে ইন্দ্রাণী সেতু জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে। এই অবস্থায় সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্গতদের সব ধরনের সাহায্য করা এবং ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার জন্য সব রকম উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং।

About Post Author