Home » দাশমুন্সী বাড়ি : পুজোয় মনখারাপের জন্মদিন

দাশমুন্সী বাড়ি : পুজোয় মনখারাপের জন্মদিন

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৩ সেপ্টেম্বর :পুজো নাকি মনখারাপের জন্মদিন ? উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জ শহরের দাসমুন্সী বাড়ির পুজোর নামডাক ছিল দেশজোড়া। আজ শহর জুড়ে মনখারাপের পরাগ রেনু উড়ে বেড়ায়।কংগ্রেসের একসময়ের দাপুটে নেতা প্ৰিয়রঞ্জন দাসমুন্সী প্রয়াত হয়েছেন দীর্ঘদিন হল। উত্তর দিনাজ পুরের ছোট শহর কালিয়াগঞ্জের নামের সঙ্গে জুড়ে থাকা প্ৰিয় রঞ্জন দাসমুন্সীর বাড়ির পুজোও আজ আর হয় না। কালিয়াগঞ্জ শহরের মনের এক কোণে বিষন্নতা জমাট বাঁধে দুর্গাপুজোর সময়।

“যাও যাও গিরি আনিতে গৌরী/ উমা বড় দুখে রয়েছে”-
একসময় উত্তর দক্ষিণ বলে কিছু ছিল না। ছিল অখন্ড দিনাজপুর, আর তখন থেকেই কালিয়াগঞ্জ নামের মফস্বল শহরটির একটি বনেদি, সম্ভ্রান্ত ও রাজনৈতিক কারণে খ্যাত পরিবারে দুর্গাপুজো হত ঘটা করে। শরতের আকাশে পেঁজা তুলোর মত মেঘ, শিউলি ফুল আর কাশফুল আসতেই সারা বঙ্গের মত উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জ জুড়ে পুজোর আগমনীর আনন্দ সংগীত বেজে উঠত। আর কালিয়াগঞ্জের দাশমুন্সী বাড়ি সেজে উঠত পুজোর আয়োজনে। আজও শরতের আকাশে পেঁজা তুলো মত আনাগোনা করে। শিউলি ফুল ঝরে পড়ে। তবুও দাশমুন্সী বাড়িতে আজ ঢাক বাজে না, আলোর রোশনাই থাকে না। আগমনীর দিন কেন, পুজোর দিনও কোনও সাড়া মেলে না উৎসব উদযাপনের।উমা কে আনতে কে যাবে? শহরের তাই মন খারাপ। মনখারাপের জন্মদিন পুজোর দিনে।

নিঃস্তব্ধতা প্রয়াত প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির বাড়িতে। একটা সময় কলিয়াগঞ্জের সকলের প্রাণের পুজো আজ স্মৃতির পাতায়। উল্লেখ্য, উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জের শ্রী কলোনীর দাশমুন্সী পরিবারের দুর্গাপুজোর ছিল জাঁকজমক আর গৌরব ছিল আকাশ ছোঁয়া।একটা সময় গরীব দুঃস্থ থেকে ছোট বড় নেতা-নেত্রী থেকে ভিআইপি সকলের কাছে প্রাণের পুজো ছিল ‘প্রিয়দা’র বাড়ির দুর্গা পুজো। কিন্তু এখন সব কিছুই স্মৃতি। ২০১৭ সালের ২০ নভেম্বর প্রয়াত হন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সী।তারপর থেকেই স্ত্রী দীপা দাশমুন্সি ছেলে মিছিলকে নিয়ে দিল্লিতেই থাকেন। স্বাভাবিক কারণেই পুজো বন্ধ হয়ে গিয়েছে এই বাড়িতে।আসন্ন শারদোৎসবকে ঘিরে যখন চারদিকে প্রস্তুতি তুঙ্গে সেই সময় কার্যত দাশমুন্সি পরিবারের প্রাচীন পুজো আজ যেন শুধুই স্মৃতি হয়ে রয়েছে কালিয়াগঞ্জ এর সাধারণ মানুষের কাছে।এই পুজোকে ঘিরে একরাশ আবেগ নিয়ে শ্রীকলোনির বাসিন্দা অশোক কুমার দের মত মানুষজন স্মৃতির গভীরে ডুবে যান।একসময় পুজোর দিনে আলোয় ভরা পুজো মণ্ডপে দেবীর সামনে ঢাক বাজানো থেকে শুরু করে স্ত্রী দীপাকে সঙ্গে নিয়ে ধুনুচি হাতে আরতি করতেও দেখা গিয়েছিল প্রয়াত প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সিকে। নিজের হাতে হাজার হাজার দুঃস্থ বাসিন্দাদের বস্ত্র বিতরণ কিংবা নবমীর দুপুরে দীপা দাশমুন্সির নিজের হাতে খিচুড়ি বিতরণ এসব আজ অতীতের স্মৃতিমাত্র। মনে পড়ে পুরোনো দিন। ফিরে আসে না দিন। স্মৃতি খেলা করে উৎসব উদযাপনের ফাঁকে। ঝুল জমে, বিবর্ণ হয় ছবি।

“মন ভালো নেই মন ভালো নেই মন ভালো নেই
তবু দিন কাটে দিন কেটে যায় আশায় আশায়”
পুজো এসেছে। কালিয়াগঞ্জ শহরের মন ভালো নেই।তবুও কখনও প্রিয় রঞ্জন দাশমুন্সির পরিবারের অন্য সদস্য ও উত্তর পুরুষদের হাত ধরে আবার প্রাণ প্রতিষ্ঠা পায় হারিয়ে যাওয়া পুজোর! আশায় উত্তরবঙ্গের ছোট শহরটির মানুষজন।

দাশমুন্সী পরিবারের পুজো না থাকায় কালিয়াগঞ্জের মানুষ মনে করেন দুর্গাপুজোর কৌলিন্য-য় কোথায় যেন ঘা খেয়েছে শহর। তবুও পুজো হয় শহর জুড়ে। সময়ের সাথে সাথে স্মৃতির ক্যানভাস ফিকে হতে থাকে।উৎসবের দিনে তবুও শহরের অবচেতন মনে কাজ করে, ঘুরে ফিরে আসে একটি মানুষের না থাকা আর তাঁর পরিবারের মুছে যাওয়া উৎসবমুখরতা। আদতেই মনখারাপের জন্মদিন।।

About Post Author