Home » কৃষ্ণ-কথকতাঃ ধুপগুড়ির মিলন সংঘের দুর্গাপুজো

কৃষ্ণ-কথকতাঃ ধুপগুড়ির মিলন সংঘের দুর্গাপুজো

                                                                                            যা দেবী সর্বভূতেষু শান্তিরূপেণ সংস্থিতা।
                                                                                          নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ।।

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৩ অক্টোবরঃ যুগযুগ ধরে দেবী দুর্গার আরাধনা দুর্গতি বিনাশে ও শান্তির জন্য। গীতায় শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, প্রত্যেক মানুষের জীবনের ভিত্তি হল প্রেম। যার জীবনে ভালবাসা আছে, তার জীবনে শান্তি আছে। কারণ ভালবাসার মধ্যেই শান্তি নিহিত। জীবনে যদি ভালবাসা না থাকে, তাহলে অনেক কিছু অর্জন করেও মানুষ তৃপ্তি পায় না। কৃষ্ণের প্রেম, ভালোবাসার মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে শান্তির বার্তা যা ব্রজের প্রতিটি ঘাস জানে। বৃন্দাবনের আশেপাশের অঞ্চলকে বলা হয় ব্রজ। আর এই ভালোবাসার নগরীকে আর এখানের ভালোবাসার কথাকে ধূপগুড়ি পুজোয় করেছে সর্বজনীন। ধুপগুড়ির মিলন সংঘের দুর্গাপুজো এবার উত্তরবঙ্গের অন্যতম দ্রষ্টব্য।

বৃন্দাবনে কিন্তু রাধা কৃষ্ণ নয়। একই অঙ্গে মৃন্ময়ী রূপে থাকবে চিন্ময় ও চিন্ময়ী রূপ। এবার দেবী আসছেন ঘোটকে যা শাস্ত্রমতে অশান্তির ইঙ্গিত। আর চার দিকে যখন অশান্তি-অরাজকতার সৃষ্টি হয়েছে সেই সময় দাড়িয়ে ধূপগুরি মিলন সংঘ ক্লাব ছড়িয়ে দিতে চায় প্রেমের বার্তা। বৃন্দাবনের প্রেম মন্দিরের আদলেই তৈরী হচ্ছে মণ্ডপ। মৃন্ময়ী রূপে দেবী দুর্গা দশ হাতে অস্ত্র না নিয়ে সজ্জিত হবে কোমল ফুলের মাধুর্য্যে। মহিষাসুর নতমস্তকে করজোড়ে করতে চলেছেন দেবীর চরণে। মণ্ডপের অন্দর মহল থেকে বেরিয়ে কৃষ্ণের লীলা হয়ে উঠবে নয়নাভিরাম।

আরও পড়ুন       অষ্টমীর রাতে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা, অটো ও বাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত একাধিক

কৃষ্ণের কনিষ্ঠা অঙ্গুলিতে গোবর্ধন পাহাড়কে ধারণ, কালিয়ানাগ দমন থেকে শুরু করে বিবিধ পৌরাণিক কথকতার মধ্যে দিয়ে মিলন সংঘ এবার পুজোর প্রতিদিনই হয়ে উঠতে চলেছে দর্শনার্থীদের পবিত্র ও উৎসবমুখর মিলনস্থল।এবার পুজোয় মিলন সংঘ নজর কাড়বেই, ছুঁয়ে যাবে মন। হৃদয় জুড়ে থাকবে তাদের ভালোবাসার বার্তা। গীতায় কৃষ্ণের বাণী আজও মানব জীবনের পাথেয়।

                                                                                  “অজোহপি সন্নব্যয়াত্মা ভূতানামীশ্বরোহপি সন্ ।
                                                                                          প্রকৃতিং স্বামধিষ্ঠায় সম্ভবাম্যাত্মমায়য়া ।।

অর্থাৎ, যদিও আমি জন্মরহিত এবং আমার চিন্ময় দেহ অব্যয় এবং যদিও আমি সর্বভূতের ঈশ্বর, তবুও আমার অন্তরঙ্গা শক্তিকে আশ্রয় করে আমি আমার আদি চিন্ময় রূপে যুগে যুগে অবতীর্ণ হই।- ” আর এই চিন্ময় রূপের-ই প্রকাশ ঘটছে ধূপগুড়ির মিলন সংঘে।।

About Post Author