সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৬ অক্টোবর: দুর্গাপুজোর রেশ এখনো কাটেনি। তারই মধ্যে রেশন দুর্নীতি মামলায় ফের সক্রিয় ইডি। রেশন দুর্নীতিকাণ্ডে তদন্ত যত এগোচ্ছে ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। এবার প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী তথা বর্তমান বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের বাড়িতে ইডির হানা। একইসঙ্গে রেশন দুর্নীতিকাণ্ডে এদিন সকালে রাজ্যের আরও আট জায়গায় চলে ম্যারাথন তল্লাশি। সূত্রের খবর, রেশন দুর্নীতি মামলায় ধৃত ব্যবসায়ী বাকিবুর রহমানকে জেরা করতেই বনমন্ত্রী তথা প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের নাম উঠে এসেছে।
আরও পড়ুন রেশন দুর্নীতিতে ধৃত বাকিবুরের দুবাইতে ২টি ফ্ল্যাটের হদিশ পেল ইডি
ইতিমধ্যেই বাকিবুর রহমানের কাছ থেকে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে ইডির। সেই তথ্যের ভিত্তিতে পুজো শেষ হতেই দ্বাদশীর দিন সাত সকালে নতুন করে তল্লাশি শুরু করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোর ছ’টা নাগাদ বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের সল্টলেকের বিসি ব্লকের পাশাপাশি দু’টি বাড়িতে হানা দেয় ইডি। সেইসঙ্গে মন্ত্রীর আপ্ত সহায়ক অমিত দে-র নাগেরবাজারের ফ্ল্যাটেও হানা দিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টোরেট। ২০১১ সাল থেকেই মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের আপ্ত সহায়ক হিসেবে কাজ করছেন অমিত দে। সূত্র মারফত জানা জানা গিয়েছে, সেখানে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের পিএ-এর তিনটি ফ্ল্যাট রয়েছে। যদিও মন্ত্রীর আপ্তসহায়কের তিনটি ফ্ল্যাটেই তালা ঝুলছে।
আরও পড়ুন রেশন দুর্নীতিকাণ্ডে বাকিবুর রহমানের বিপুল সম্পত্তির হদিশ পেল ইডি
প্রসঙ্গত, পুরনিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে রেশন দুর্নীতিকাণ্ডের যোগসূত্র থাকতে পারে বলেই মনে করছেন তদন্তকারী অফিসাররা। সেই সূত্র ধরেই বাকিবুর রহমানের (Bakibur Rahaman ) পাঁচটি চালকল এবং আটাকলের খোঁজ মেলে। এরপরই বাকিবুরের বাগুইআটি কৈখালির আবাসনে ৫৪ ঘণ্টা ম্যারাথন তল্লাশির পর অবশেষে রেশন দুর্নীতিতে আটক করা হয় বাকিবুর রহমানকে। ইতিমধ্যেই বাকিবুরের বিভিন্ন ব্যবসা এবং বিপুল সম্পত্তির খোঁজ পেয়েছে ইডি। এসবের মাঝেই এবার বাকিবুরের বাকি সম্পত্তির পরিমাণ দেখে চক্ষু চড়কগাছ ইডির আধিকারিকদের। সূত্রের দাবি, বাকিবুরের জমির পরিমাণ দেড় হাজার কাঠার বেশি। সাড়ে ৭ হাজার বর্গফুট আয়তনের অন্তত ১০টি ফ্ল্যাটের মালিক তিনি। চালকল মালিক বাকিবুরের জমির পরিমাণ ১ হাজার ৬৩২ কাঠা। যার মধ্যে বেশিরভাগটাই রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা এবং বহরমপুরে। এমনকী বিদেশেও রয়েছে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট।

তবে, ঠিক কী কারণে বিদেশে ফ্ল্যাট কিনেছিলেন বাকিবুর, তা ইতিমধ্যেই খতিয়ে দেখছে ইডি। তদন্তে নেমে ইডি জানতে পেরেছে, ধৃত বাকিবুর রহমান সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি। পাশাপাশি, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ৯টি ফ্ল্যাটের হদিশ মিলেছে বলে খবর। কলকাতা থেকে শুরু করে বেঙ্গালুরুতে বাকিবুরের রয়েছে একাধিক রেস্তোরাঁ, পানশালা। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, রেশন দুর্নীতিতে ধৃত বাকিবুরের দুবাইতে দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে। ফ্ল্যাটগুলির দাম সাত থেকে দশ কোটি টাকা। সেই ফ্ল্যাটের জন্য বেশিরভাগ টাকা দুবাইতে পাঠানো হয়েছিল। বাকি টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছিল। সরকারিভাবে নথিভুক্ত সম্পত্তির পরিমাণ এতটা হলে বেসরকারিভাবে বাকিবুরের কত সম্পত্তি রয়েছে, ইতিমধ্যেই তা খতিয়ে দেখছে ইডি। জানা গিয়েছে, রেশন দুর্নীতি মামলায় ইডির নজরে বাকিবুরের সঙ্গীরাও রয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই বাকিবুরের সঙ্গীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন তদন্তকারীরা। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে ইতিমধ্যেই তলব করা হয়েছে।


More Stories
আই-প্যাকের ডিরেক্টর ভিনেশ চান্দেলকে গ্রেফতার করল ইডি
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ