Home » সচিনের বিশ্বস্ত হাতে ঘরের মাঠে হার ইস্টবেঙ্গলের

সচিনের বিশ্বস্ত হাতে ঘরের মাঠে হার ইস্টবেঙ্গলের

স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ৫ নভেম্বর: “পেনাল্টি শ্যুটিং সবসময়ই একটি অনিশ্চিত বিষয়। কারণ এর সঙ্গে অনেকটা ভাগ্য জড়িত থাকে।” কথাটি বলেছিলেন জার্মানির কিংবদন্তি ফুটবলার ফ্রান্ৎ‌স আন্টন বেকেনবাউয়ার। আর পেনাল্টিতে সফল হওয়ার ভাগ্যটাই শনিবার ছিল না ইস্টবেঙ্গলের। নাহলে কেন পেনাল্টিতে সফল হলেন না গত দুই মরশুমে দলের সেরা তারকা? তাও পরপর দুবার সুযোগ পেয়ে তখন খেলার বয়স ৮২ মিনিট। নন্দকুমারের দূরপাল্লার শট কোনওরকমে সামাল দিলেন কেরালার গোলরক্ষক সচিন সুরেশ। তবে বল কে তালুবন্দি করতে পারেননি। ফিরতি বলে শট করার জন্য বলের কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন মহেশ নাওরেম সিং। তাঁকে শরীর ছুঁড়ে বাঁধা দেন সুরেশ। পেনাল্টি পায় ইস্টবেঙ্গল। পেনাল্টি নিতে এগিয়ে যান ক্লেইটন। তবে সফল হতে পারেননি। সচিনের বিশ্বস্ত হাতে হার ইস্টবেঙ্গলের।  ব্রাজিলিয়ানের শট রুখে দেন কেরালার গোলরক্ষক। কিন্তু রেফারি পুনঃরায় শট নেওয়ার নির্দেশ দেন। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন প্রীতমরা।

আরও পড়ুন    ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে যাওয়ার দিকে আরও একধাপ এগোলো অজিরা

তবে কর্ণপাত করেননি রেফারি। আসলে ক্লেইটন শট নেওয়ার আগে গোলের লাইন থেকে কিছুটা এগিয়ে আসেন সচিন। ফিফার সাম্প্রতিক নিয়মে বলছে শট মারার আগে লাইন ছাড়তে পারবেন না গোলরক্ষক। যথাযথ কারণে পুনঃরায় শটের নির্দেশ দেন রেফারি। তবে দ্বিতীয় সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে পারলেন না ক্লেইটন। আসলে প্রথম শটে ব্যর্থ হওয়ার পর বেশ ভেঙে পড়েছিলেন ইস্টবেঙ্গলের ব্রাজিলিয়ান তারকা। দ্বিতীয় প্রচেষ্টায়ও বল বাঁচিয়ে দেন কেরালার এদিনের জয়ের নায়ক সচিন সুরেশ। যুবভারতীতে প্রথমার্ধে এগিয়ে গিয়েছিল কেরালা ব্লাস্টার্স। লুনার ডিফেন্স চেরা পাস বাড়িয়েছিলেন সাকাইয়ের উদ্দ্যেশ্যে। সেই পাস থেকে গোল করতে ভুল করেননি জাপানের জাতীয় যুব দলে খেলা এই ফুটবলারটি। প্রথমার্ধের শেষ দিকে গোল শোধের সুযোগ পেয়েছিলেন হরমনজ্যোত খাবরা। তবে কাজে লাগাতে পারেননি। দ্বিতীয়ার্ধে ইস্টবেঙ্গল জার্সিতে অভিষেক হল হিজাজি মাহেরের। সাউল ক্রেসপোর পরিবর্তে তাঁকে নামান লাল হলুদ কোচ কুয়াদ্রাত।

দ্বিতীয়ার্ধে গোলশোধের মরিয়া প্রচেষ্টা চালাতে থাকে ইস্টবেঙ্গল। মহেশ একবার সুযোগও পেয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু কাজে লাগাতে পারেননি। তারপর নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার ৫ মিনিট আগে পেনাল্টি নষ্ট করেন ক্লেইটন। পেনাল্টি থেকে গোল হজম না করে আরও উজ্জীবিত ফুটবল খেলতে থাকেন প্রীতমরা। খেলার ৮৮ মিনিটে ইন্সুরেন্স গোলের সন্ধান পেয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। লাল হলুদ রক্ষণের ভুলে কেরালার হয়ে ব্যবধান বাড়ান দিমিত্রিয়োস দিয়ামান্তাকোস। এরপর জার্সি খুলে গোল উদযাপন করতে গিয়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন তিনি। ফলে বাকি সময়টা দশজনে খেলতে হয় কেরালা ব্লাস্টার্সকে। দ্বিতীয়ার্ধে ৭ মিনিট সংযুক্তি সময় দেওয়া হয়। একদম অন্তিম লগ্নে আবার পেনাল্টি পায় ইস্টবেঙ্গল। এবারও শট নেন সেই ক্লেইটন। তবে প্রথমবারের মত ভুল আর করেননি। অসাধারণ দক্ষতায় বল জালে জড়িয়ে প্রথম ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করেন। যদিও ব্রাজিলিয়ানের শেষ মুহূর্তের গোলে মুখরক্ষা হয়নি লাল-হলুদের। আইএসএলে হারের হ্যাটট্রিক করে লিগ তালিকার ১০ নম্বরে নেমে এল ইস্টবেঙ্গল। ৫ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৪। অপরদিকে টানা দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে লিগ শীর্ষে উঠে এল কেরালা। ৬ ম্যাচে কেরালার পয়েন্ট ১৩। ২ ম্যাচ কম খেলে ১২ পয়েন্ট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মোহনবাগান।

About Post Author