Home » ২০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও বিষ্ণপুরের বিধায়কের বাড়িতে জারি তল্লাশি

২০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও বিষ্ণপুরের বিধায়কের বাড়িতে জারি তল্লাশি

সময় কলকাতা ডেস্ক, ৯ নভেম্বর: রেশন দুর্নীতি মামলার তদন্তে নেমে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে ইডির হাতে। তদন্ত যতই এগোচ্ছে, ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। কেটে গিয়েছে ২০ ঘণ্টা। এখনও বিষ্ণপুরের বিধায়ক তন্ময় ঘোষের চালকলে ম্যারাথন তল্লাশি চালাচ্ছেন আয়কর দফতরের আধিকারিকরা। মোতায়েন রয়েছে বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী। সূত্রের খবর, বুধবার দুপুর ১১টা থেকে শুধু চালকল নয়, বিধায়কের কার্যালয়, তাঁর পরিবারের মালিকানাধীন রাইস মিল,লজ ও মদের দোকানেও তল্লাশি চালাচ্ছেন ইডি। এদিন সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ অন্যান্য সংস্থাগুলি থেকে আয়কর দফতরের আধিকারিকরা বেরিয়ে গেলেও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বিষ্ণপুরের বিধায়ক তন্ময় ঘোষের রাইস মিলে। বুধবার দুপুর থেকেই বিষ্ণুপুর শহর লাগোয়া চূড়ামণিপুর এলাকায় থাকা শিবানী রাইস মিলে অভিযান চালাচ্ছেন আয়কর দফতরের পাঁচ জনের একটি আধিকারিক দল। ওই রাইস মিলে হিসাব বহির্ভূত কোনও লেনদেন হয়েছে কি না? তারই তদন্তে নেমেছেন গোয়েন্দারা।

আরও পড়ুন    ঘুষের বিনিময়ে প্রশ্ন মামলায় মহুয়ার সাংসদ পদ খারিজের সুপারিশ এথিক্স কমিটির

এদিকে, রেশন দুর্নীতি মামলায় মেরুন ডায়েরি, তিনটি নোটবুকের পর এবার আরও এক ডায়েরির সন্ধান পেল ইডি। সূত্রের খবর, বাকিবুর ঘনিষ্ঠ এক ব্যবসায়ীর কাছে থেকে ওই ডায়েরি উদ্ধার হয়েছে। ওই ব্যবসায়ী ইডিকে জানিয়েছেন, বাকিবুরের নির্দেশে একাধিক গমকল থেকে আটা তৈরি হওয়ার পর সরকারি খাদ্যসামগ্রীর ২০ থেকে ৩০ শতাংশ খোলা বাজারে বিক্রির জন্য সরিয়ে ফেলা হতো। ইডির দাবি, ওই ব্যবসায়ী তাঁর বয়ানে জানিয়েছেন, কম দামে রেশনের গম কিনে নেওয়া হতো। আটা তৈরি হওয়ার পর খোলা বাজারে বিক্রি করার আগে তা প্যাকেটজাত করতে পাঠানো হত সেখানে। প্যাকেজিং কোথায় কোথায় হতো, তার বেশ কিছু সন্ধান দিয়েছে ওই ডায়েরি বলে দাবি ইডির। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, প্যাকেজিংয়ের পর সেই আটাই চড়া দামে বিক্রি করা হতো খোলা বাজারে। আর টাকার লাভের অংশ পৌঁছে যেত বাকিবুর ও তাঁর সহযোগীদের কাছে।

ডায়েরির তথ্য থেকেই বেশ কয়েকজন মিল মালিক, প্যাকেজিং সংস্থার সন্ধানে ইডি। পরবর্তীতে আটা তৈরি করে খোলা বাজারে বিক্রি করে মুনাফা আসত। সূত্রের খবর, লেনদেনের হিসাব-সহ একাধিক গমকলের তালিকা রয়েছে ওই ডায়েরিতে।প্রসঙ্গত, রেশন দুর্নীতি মামলার তদন্তে নেমে বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের প্রাক্তন আপ্ত সহায়ক অভিজিৎ দাসের বাড়ি থেকে পাওয়া মেরুন ডায়েরি থেকে একের পর এক তথ্য উঠে আসছে। এছাড়া তিনটি নোটবুকও তদন্তকারী সংস্থার অফিসারদের হাতে এসেছে বলে সূত্রের খবর। কার্যত সেকারণেই রেশন দুর্নীতি মামলায় সোমবার ফের ইডির অফিসে তলব করা হয়েছিল বনমন্ত্রীর প্রাক্তন আপ্তসহায়ককে। মেরুন ডায়েরির লেনদেন সংক্রান্ত যাবতীয় নথি ইডির অফিসে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। যে মেরুন ডায়েরিটি উদ্ধার হয়েছে তাতে লেখা আছে ‘বালুদা’র নাম। সেখানে তারিখ ধরে ধরে কোন দিন কার থেকে কত টাকা এসেছে, সেই টাকা কোথায় জমা রাখা হয়েছে, সেই সংক্রান্ত হিসেব লেখা রয়েছে। এছাড়া আর্থিক হিসেব সংক্রান্ত তিনটি নোটবুকও পাওয়া গিয়েছে বলে সূত্রের দাবি।

About Post Author