সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৯ নভেম্বর: উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশীর সুড়ঙ্গ বিপর্যয়ের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত জারি উদ্ধার কাজ। ঘটনার ছয়দিন পেরিয়ে গেলেও ৪০ জন শ্রমিককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এবার ৪০ শ্রমিককে উদ্ধার করতে একসঙ্গে পাঁচ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এবার সুড়ঙ্গের ছাদ খুঁড়ে ৪০ শ্রমিককে উদ্ধারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। রবিবার থেকেই সেই কাজ শুরু। অন্যদিকে আরও উদ্ধারকারী দল যাতে সহজে সুড়ঙ্গের কাছে পৌঁছতে পারে, তার জন্য বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশন নতুন রাস্তা বানাচ্ছে। রবিবার দুপুরের মধ্যেই এই রাস্তা তৈরি হয়ে যাবে। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে প্রধানমন্ত্রীর দফতর ও বিশেষজ্ঞের দল। তারাই সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাঁচটি পদ্ধতিতে উদ্ধারকাজ চালানো। জানা গিয়েছে, সিল্কিয়ারার দিক থেকেই আমেরিকান অগার মেশিন ঢোকানোর চেষ্টা শুরু হয় শুক্রবার। ৬০ মিটারের ধ্বংসস্তূপ পেরোলে তবেই উদ্ধার করা সম্ভব ওই ৪০ শ্রমিককে। কিন্তু ২২ মিটার খননের পর আর এগোয়নি ৯০০ মিমি চওড়া পাইপ।
আরও পড়ুন উত্তরকাশীর সুড়ঙ্গ তৈরি নিয়ে প্রকাশ্যে বড়সড় গাফিলতির অভিযোগ
ইন্দোর থেকে আরও একটি যন্ত্র বায়ুসেনার বিশেষ বিমানে উড়িয়ে আনা হয়েছে। দ্বিতীয় প্রচেষ্টা চলছে বারকোটের দিক থেকে সুড়ঙ্গে খনন চলছে। এ পথেও অনেকটা সময় লেগে যাওয়ার কথা। কমপক্ষে ৪-৫দিন সময় লেগে যেতে পারে। তৃতীয় পরিকল্পনা হল সুড়ঙ্গের উপর থেকে ভার্টিকাল ড্রিল বা উল্লম্ব ভাবে খনন। আরও দুই পরিকল্পনা মাথায় রাখা হচ্ছে। সেগুলি হল সুড়ঙ্গের ডান ও বাম দিক থেকে খনন। উদ্ধারকারী দলের তরফে জানানো হয়েছে, ৪০ শ্রমিককে উদ্ধার করতে আরও ৪-৫ দিন সময় লেগে যেতে পারে। কিন্তু এতদিন কি সুড়ঙ্গের গভীর অন্ধকারে জীবনযুদ্ধ চালাতে পারবেন ৪১ জন শ্রমিক? আটকে পড়া শ্রমিকদের মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখতে কাউন্সেলিং করানো হচ্ছে, খাওয়ানো হচ্ছে অ্যান্টি-ডিপ্রেশন পিল। ইতিমধ্যেই উত্তরকাশীর সুড়ঙ্গ তৈরি নিয়ে উঠে এসেছে বড়সড় গাফিলতির অভিযোগ। প্রকাশ্যে এসেছে সুড়ঙ্গের একটি পরিকল্পনা চিত্র। সেখানে শুরু থেকেই রয়েছে বিকল্প পথের ব্যবস্থা। যাতে বিপদ ঘটলে ওই পথে পালিয়ে প্রাণ বাঁচাতে পারেন শ্রমিকরা।

অভিযোগ, বিকল্প পথ ম্যাপে থাকলেও বাস্তবে ছিল না। প্রশ্ন উঠছে, সেই কারণেই কি প্রাণ যেতে বসেছে শ্রমিকদের? জানা গিয়েছে, একধাপে ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ সুড়ঙ্গপথ তৈরির সময় বিকল্প পথেরও ব্যবস্থা ছিল ম্যাপে। ৪.৫ কিমি দীর্ঘ সিল্কআরা সুড়ঙ্গতেও একই ব্যবস্থা থাকার কথা। যদিও বাস্তবে বিকল্প পথ তৈরি করা হয়নি। ফলে ধস নামার পর পালানোর পথ পাননি শ্রমিকরা। সেই কারণেই ছয় দিন ধরে ভিতরে আটকে রয়েছেন তারা। এখন উদ্ধারকারীরা একটি বিকল্প পথেরই ব্যবস্থার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তারই মধ্যে শনিবার উত্তরকাশীর উদ্ধারকাজে উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত অগার মেশিনের উপরে ধসে পড়েছে পাহাড়ের একটি অংশ। থামিয়ে দিতে হল উদ্ধারকাজ। জানা গিয়েছে, দিল্লি থেকে আনানো অগার মেশিনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ার পরই ২৫ টনের আরও একটি অগার মেশিন ইন্দোর থেকে দেহরাদুনে নিয়ে আসা হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে এই মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে বলেই সূত্রের খবর।


More Stories
নীতিশ জমানা শেষ, বিহারের সম্রাট নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বুলডোজার মডেল
আশা ভোঁসলের হার্ট অ্যাটাক
মোদি ও বিজেপিকে খোঁচা : আগাম জামিন পেলেন নিয়ে নেহা সিং রাঠোর