Home » উত্তরকাশীর সুড়ঙ্গ তৈরি নিয়ে প্রকাশ্যে বড়সড় গাফিলতির অভিযোগ

উত্তরকাশীর সুড়ঙ্গ তৈরি নিয়ে প্রকাশ্যে বড়সড় গাফিলতির অভিযোগ

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৯ নভেম্বর: উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশীর সুড়ঙ্গ বিপর্যয়ের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত জারি উদ্ধার কাজ। ঘটনার ছয়দিন পেরিয়ে গেলেও ৪০ জন শ্রমিককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এসবের মাঝেই এবার উত্তরকাশীর সুড়ঙ্গ তৈরি নিয়ে উঠে এল বড়সড় গাফিলতির অভিযোগ। প্রকাশ্যে এসেছে সুড়ঙ্গের একটি পরিকল্পনা চিত্র। সেখানে শুরু থেকেই রয়েছে বিকল্প পথের ব্যবস্থা। যাতে বিপদ ঘটলে ওই পথে পালিয়ে প্রাণ বাঁচাতে পারেন শ্রমিকরা। অভিযোগ, বিকল্প পথ ম্যাপে থাকলেও বাস্তবে ছিল না। প্রশ্ন উঠছে, সেই কারণেই কি প্রাণ যেতে বসেছে শ্রমিকদের? জানা গিয়েছে, একধাপে ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ সুড়ঙ্গপথ তৈরির সময় বিকল্প পথেরও ব্যবস্থা ছিল ম্যাপে। ৪.৫ কিমি দীর্ঘ সিল্কআরা সুড়ঙ্গতেও একই ব্যবস্থা থাকার কথা। যদিও বাস্তবে বিকল্প পথ তৈরি করা হয়নি। ফলে ধস নামার পর পালানোর পথ পাননি শ্রমিকরা। সেই কারণেই ছয় দিন ধরে ভিতরে আটকে রয়েছেন তারা। এখন উদ্ধারকারীরা একটি বিকল্প পথেরই ব্যবস্থার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

আরও পড়ুন   রবিবার আহমেদাবাদে ভারত তৃতীয় বারের জন্য একদিনের বিশ্বকাপ জিতলে নগ্ন হবেন রেখা!

তারই মধ্যে শনিবার উত্তরকাশীর উদ্ধারকাজে উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত অগার মেশিনের উপরে ধসে পড়েছে পাহাড়ের একটি অংশ। থামিয়ে দিতে হল উদ্ধারকাজ। জানা গিয়েছে, দিল্লি থেকে আনানো অগার মেশিনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ার পরই ২৫ টনের আরও একটি অগার মেশিন ইন্দোর থেকে দেহরাদুনে নিয়ে আসা হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে এই মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে বলেই সূত্রের খবর। এর আগে গত বুধবারও ভূমিধস নামার কারণে ব্যহত হয়েছিল উদ্ধার কাজ। ভারতীয় বায়ু সেনার তরফে তিনটি বিশেষ বিমানে করে ২৫ টনের পাইপ পাঠানো হয়েছিল শ্রমিকদের উদ্ধারের জন্য। এমনকী শ্রমিকদের সুরঙ্গ থেকে উদ্ধার করার জন্য থাইল্যান্ড ও নরওয়ের বিশেষ উদ্ধারকারী দলের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছিল। দিল্লি থেকে বায়ু সেনার বিশেষ বিমানে আনা হয়েছিল অগার মেশিন। এই মেশিন মাত্র এক ঘণ্টাতেই চার থেকে পাঁচ মিটার পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ খনন করতে পারে।

 

উল্লেখ্য, দীপাবলির দিন উত্তরকাশীর নির্মীয়মাণ টানেলে ভয়াবহ ধস নামে। টানেলের প্রবেশ পথ থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে এদিন ধস নামে। আর তাতেই ঘটে যায় বিপত্তি। ধসের জেরে ভিতরে আটকে পড়েছেন কমপক্ষে ৪০ জন শ্রমিক। শ্রমিকদের উদ্ধারের জন্য ঘটনাস্থলে পৌঁছয় এনডিআরএফ এবং এসডিআরএফ। সেইসঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছন পুলিশকর্মীরাও। গোটা ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, রবিবার উত্তরকাশীর ওই টানেলের প্রবেশ পথ থেকে প্রায় ২৮০০ মিটার ভিতরে শ্রমিকরা কাজ করছিলেন। সেসময় ধস নামে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে এসডিআরএফ-এর উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং জীবন রক্ষার্থে পাইপে করে অতিরিক্ত অক্সিজেন সরবরাহ করা হয়।

About Post Author