সুজয় ভট্টাচার্য ও অর্কজ্যোতি বন্দোপাধ্যায়, সময় কলকাতা , ১১ ডিসেম্বর : “একটি বই পড়ার দুটি উদ্দেশ্য থাকা উচিত ;একটি হল- বইটিকে উপভোগ করা অন্যটি হল- বইটি নিয়ে গর্ব করতে পারা।”- বলেছিলেন বার্ট্রান্ড রাসেল। আর এই বিখ্যাত উক্তিকে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে কাটোয়া মহকুমা গ্রন্থাগারের ভাবনা। কাটোয়া মহকুমা গ্রন্থাগার পাঠক-পাঠিকাদের সামনে রস আস্বাদনের খাজানা খুলে দেয় যেখানে পড়ুয়ারা বই উপভোগ করেন। অন্যদিকে, জ্ঞানের ও সংস্কৃতির ধারক ও বাহক বই পাঠে যারা সমৃদ্ধ হন তাঁরা যে গ্রন্থাগারের গর্বের কারণ হয়ে ওঠেন তার প্রমাণ রেখে চলেছে কাটোয়া মহকুমা গ্রন্থাগার পাঠক পাঠিকাদের সংস্কৃতিমনস্ক ভাবনার সশ্রদ্ধ লালন পালনের মধ্যে দিয়ে।
আরও পড়ুন প্রেতাত্মা দেখেছিলেন রবীন্দ্রনাথ সহ বহু বিখ্যাত লেখক
ব্যতিক্রমী, অত্যন্ত ব্যতিক্রমী কাটোয়া মহকুমা গ্রন্থাগারের সংস্কৃতির লালন যেখানে পাঠক পাঠিকাদের সম্মানিত করা হয় তাঁদের গ্রন্থপাঠের প্রতি ভালোবাসার নিরিখে। এক বছর নয়, বছর বছর ধরে একই ট্র্যাডিশন বয়ে নিয়ে চলেছে কাটোয়া মহকুমা গ্রন্থাগার।

পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়ার কাছারি রোডে গ্রন্থাগার ভবনে ডিসেম্বরে দ্বিতীয় সপ্তাহে এক মনোজ্ঞ সন্ধ্যায় কাটোয়া মহকুমা গ্রন্থাগারের উদ্যোগে পাঠকদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সংবর্ধনা সভায় উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানী সুনীল কুমার পাল, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ডক্টরেট তুষার পন্ডিত, কাটোয়া ভারত ভবন স্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক তথা বিজ্ঞানী ডক্টর দেবব্রত মুখোপাধ্যায়, পুস্তক প্রেমী চন্দনা মাঝি, ডাক্তার পরেশনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংবাদিক সহ বিশিষ্ট গুণীজনেরা । সংবর্ধনা সভায় ১৪ জন পাঠককে সংবর্ধনা জানানো হয় যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কেতুগ্রামের সাগ্নিক চট্টোপাধ্যায় , কাটোয়ার অহনা দাস প্রমূখ।
আরও পড়ুন হাংরি জেনারেশন আন্দোলনের অন্যতম কবি মলয় রায়চৌধুরী প্রয়াত
লেখক লেখিকা ও তাঁদের রচনায় হীরে মুক্তো জহুরির চোখ দিয়ে খুঁজে পান পাঠক পাঠিকা। আর তাই, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানী সুনীল কুমার পাল বলেন, বহু ছাত্রছাত্রীর মধ্যে বহু প্রতিভা লুকিয়ে আছে তা সত্ত্বেও তারা মোবাইল নিয়ে দিন কাটাচ্ছে যা সমাজের দিক থেকে ভালো নয়।শিক্ষাবিদ ডক্টরেট তুষার পন্ডিত বললেন, ছাত্র-ছাত্রীদের বইপ্রেমী গড়ে তোলার দায়িত্ব নিতে হবে, সেই চেষ্টা চলতে থাকবে। কাটোয়া মহকুমা গ্রন্থাগারের মাধ্যমে সমৃদ্ধ হচ্ছেন পাঠক -পাঠিকা, তাঁরাই আবার সমৃদ্ধ করছেন সমাজকে ও জাতিকে, আর তাঁদের মধ্যে দিয়ে প্রতিনিয়ত সংস্কৃতির সংরক্ষণে গর্বিত কাটোয়া মহকুমা গ্রন্থাগার।।


More Stories
রবীন্দ্রনাথের পরলোক চেতনা ও প্রেতচৰ্চা
অভিনেতাদের কাছে সেরা-টুকু নেওয়ার মাস্টার আর্ট ছিল সত্যজিৎ রায়ের জানা
বাংলা নববর্ষের ইতিহাস