সুদীপ ঘোষ ও পুরন্দর চক্রবর্তী,সময় কলকাতা , ১৭ ডিসেম্বর : ঠান্ডা জাঁকিয়ে বসার সঙ্গে সঙ্গে বাঙালি যে সাংস্কৃতিক উৎসবগুলি নিজেদের আত্মস্থ করে তুলেছে তার অন্যতম বইমেলা। কলকাতা ছাড়াও জেলায় জেলায় শুরু হয়ে যায় বইমেলা। কলকাতা লাগোয়া সংস্কৃতির অন্যতম পীঠস্থান বারাসাতে ইদানীং বড় বইমেলা আয়োজিত হত না বলে শহরবাসীর আফসোস ছিল। জেলার সবচেয়ে বড় বই মেলা – জেলা গ্রন্থমেলা যা জেলা গ্রন্থাগারগুলির জন্য অনেকাংশেই আয়োজিত হয়ে থাকে তা জেলার বিভিন্ন জায়গায় ঘুরিয়ে ফিরিয়ে হয়ে থাকে। ফলে জেলা সদর বারাসতের ভাগ্যে সব সময় জেলা গ্রন্থমেলার আয়োজনের সুযোগ ঘটে না। অথচ বারাসাতে পুস্তকপ্রেমী ও পুস্তক ক্রেতার সংখ্যা যথেষ্ট। ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে বারাসাত পুরসভা এই অভাব দূর করার জন্য উদ্যোগী হয়, বারাসাত পুরসভার উদ্যোগে বারাসাত বইমেলা অনুষ্ঠিত হয় আর ভালো সাড়াও মেলে। প্রায় জেলা গ্রন্থমেলার মতই আকারে ও আয়তনে বড় বইমেলা অনুষ্ঠিত হয় বারাসাতে।
প্রথম বছর অভাবনীয় সাড়া পাওয়ার পরে দ্বিতীয় বছর বারাসাত বইমেলা শুরু করার আগে বারাসত পুরসভার কাঁধে এসে পড়ে আর একটি গুরুদায়িত্ব।বারাসাত পুরসভাকে সঙ্গে জেলা গ্রন্থমেলা উদযাপন করার উদ্যোগ নেয় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জনশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার পরিষেবা দফতর। ফলশ্রুতি, রাজ্য সরকারের জনশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার পরিষেবা দফতরের উদ্যোগে ও বারাসাত পুরসভার ব্যবস্থাপনায় আগামী ২৩ শে ডিসেম্বর থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩৫ তম উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা গ্রন্থ মেলা শুরু হতে চলেছে পি সি এস রাস্ট্রীয় বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গনে। ফলে একই বছরে দুটি বইমেলা পেতে চলেছে বারাসাত শহর।
বইমেলা নিয়ে রবিবার বিকেলে সাংবাদিক সম্মেলন করলেন বারাসাতের বিধায়ক চিরঞ্জিত চক্রবর্তী। এদিনের এই সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বারাসাত পৌরসভার চেয়ারম্যান অশনি মুখার্জি এছাড়াও বারাসাত পৌরসভার অন্যান্য পৌর প্রতিনিধিরা। ৩৫ তম জেলা বইমেলায় মোট ১০২ টি বইয়ের স্টল রয়েছে। ২৩শে ডিসেম্বর শনিবার দুপুর ৩টেয় অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন হবে। উদ্বোধন করবেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক মাননীয় শ্রী নৃসিংহ প্রসাদ ভাদুড়ী। সভায় সভাপতিত্ব করবেন শ্রী শরদ কুমার দ্বিবেদী যিনি উত্তর ২৪ পরগনা জেলার আই.এ.এস. মাননীয় জেলা শাসক ও জেলা সমাহর্তাও বটে ।।


More Stories
বাংলা নববর্ষের ইতিহাস
চিকিৎসকের বঙ্গসংস্কৃতির উদযাপন নববর্ষে
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ