Home »  নিশ্ছিদ্র ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে সপরিবারে গঙ্গাসাগর মেলায় রাজ্যপাল

 নিশ্ছিদ্র ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে সপরিবারে গঙ্গাসাগর মেলায় রাজ্যপাল

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১০ জানুয়ারিঃ মকর সংক্রান্তির পুণ্য তিথিতে লক্ষ লক্ষ মানুষের ভিড় জমে গঙ্গাসাগর মেলায়। নতুন বছরের শুরুতেই অর্থাৎ ২০২৪-এর ৮ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে গিয়েছে গঙ্গাসাগর মেলা।চলবে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত। বুধবার সকালে নিশ্ছিদ্র ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে সপরিবারে গঙ্গাসাগর মেলায় গেলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস৷ তাঁর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। এদিন সকালে হাওড়ার ডুমুরজলা থেকে হেলিকপ্টারের করে গঙ্গাসাগরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান। সূত্রের খবর, গঙ্গাসাগরের পরিস্থিতি বুঝে সেখানে গঙ্গাস্নান সারতে পারেন রাজ্যপাল। সেইসঙ্গে কপিলমুনির আশ্রমও ঘুরে দেখতে পারেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। প্রসঙ্গত, মঙ্গলবারই কলকাতার বাবুঘাটে গিয়ে গঙ্গাসাগর মেলার সূচনা করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গঙ্গাসাগরে যাওয়ার জন্য সাধারণত দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষরা এই বাবুঘাটকে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ স্টপেজ মনে করেন। আর সে কারণে সাগরে যাওয়ার আগে পুণ্যার্থীরা এখানে একরাত কাটান। প্রতিবছর এখানে এসেই গুরুত্বপূর্ণ জনসংযোগ সারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এবারও তার ব্যতিক্রম হল না। এদিন মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘ আমার কাছে সাদা-কালো সব সমান। গেরুয়া রং হল ত্যাগের। সাধারণত সাধুরাই এই রং ব্যবহার করেন তবে এই রংয়ের যেন অপব্যবহার না-হয়।’

জানা গিয়েছে, ১২, ১৩ ও ১৪ জানুয়ারি সাগর আরতির ব্যবস্থা থাকবে। থাকছে ই-স্নানের ব্যবস্থা। গতবারের মত গঙ্গাসাগর মেলায় এই বছরও চালু থাকবে কিউ আর এবং বারবোড বেসড ওয়াটারপ্রুফ হাতের ব্যান্ড। যার মাধ্যমে গঙ্গাসাগর মেলায় ভিড়ে কেউ হারিয়ে গেলে তাঁকে খুঁজে পাওয়া সহজ হবে। মেলায় আগত সমস্ত প্রবীণ এবং শিশুদের বিনামূল্যে কিউ আর রিস্টব্যান্ড বাফার জোন থেকে দেওয়া হবে। মূলত কোনও মানুষ যাতে মেলায় এসে নিখোঁজ না হয়ে যান, সেজন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুণ্যার্থীদের সুযোগ সুবিধার কথা মাথায় রেখে বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্যপ্রশাসন। সাধারণ মানুষের যাতায়াতে সুবিধার জন্য এই বছর কচুবেড়িয়া থেকে সাগর পর্যন্থ অতিরিক্ত ২০০ বাস থাকবে। মেলার সময় বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী হাওড়া ও শিয়ালদহ থেকে ট্রেন বাড়ানোর আর্জি জানিয়েছেন রেলমন্ত্রীর কাছে। এছাড়াও ২,২৫০টি সরকারি বাস, ২৫০টি বেসরকারি বাস, ৬টি বার্জ থাকবে। প্রতিটি বার্জ ভেসেলে লাইফ জ্যাকেট থাকবে। কলকাতায় ১০টা ট্যুরিস্ট বাস রাখা হবে। সেইসঙ্গে থাকবে জিপিএস ট্র্যাকিং।

আরও পড়ুন  খালি করেননি সরকারি বাংলো, মহুয়া মৈত্রকে শোকজ নোটিস ডিরেক্টরেট অফ এস্টেটস-র

স্যাটালাইট ট্র্যাকিং থাকবে ইসরোর সহযোগিতায়, যাতে ইন্টারনেটে সমস্যা থাকলেও ভেসেল ট্র্যাকিংয়ে সমস্যা না হয়। এসবের পাশাপাশি গোটা পরিস্থিতি নজরে রাখতে ১,১৫০টি সিসিটিভি ক্যামেরা, ২০টি ড্রোন, ৫০টি দমকল ইঞ্জিন ও ২,৪০০ সিভিল ডিফেন্স কর্মী থাকবেন বলেই জানা গিয়েছে। প্রসঙ্গত,প্রতিবছর সাগর মেলায় লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হয়। তার মধ্যে অবাঙালি পূণ্যার্থীদের সংখ্যা বেশিই থাকে। তবে ২০২২ সাল পর্যন্ত অতিমারির কারণে বিধিনিষেধ থাকায় সাগর মেলায় তেমন ভক্ত সমাগম হয়নি। চলতি বছরে বা আগামী বছরে আর করোনাবিধি না থাকায় সেই সংখ্যার অনেকটাই বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। এবারে সাগর মেলায় বিগত দুই বছরের মতনই করোনা প্রতিরোধের যথাযথ বন্দোবস্ত করা হবে। করোনা সংক্রমণের আশঙ্কাও যাতে পুরোপুরি রোধ করা যায়, সে দিকে লক্ষ্য রেখে পর্যাপ্ত সংখ্যক ডাক্তার, নার্স ও প্যারামেডিকেল সংস্থান রাখা হবে। মেলায় ৩০০ বেড, ক্রিটিকল গ্রিন করিডোর, ১০০টি অ্যাম্বুল্যান্স ও এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স থাকবে।

About Post Author