Home » মকর সংক্রান্তির পুণ্য তিথিতে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীদের ভিড় গঙ্গাসাগরে

মকর সংক্রান্তির পুণ্য তিথিতে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীদের ভিড় গঙ্গাসাগরে

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৪ জানুয়ারিঃ ‘সব তীর্থ বারবার, গঙ্গাসাগর একবার’। গঙ্গার মর্ত্যে আসা ও সগর রাজার পুত্রদের জীবনদানের লোকগাথাকে ঘিরে গড়ে উঠেছে এই তীর্থভূমি। প্রতিবছরই মকর সংক্রান্তির পুণ্য তিথিতে লক্ষ লক্ষ মানুষের ভিড় জমে এই গঙ্গাসাগর মেলায়। এবছর মকর সংক্রান্তির পুণ্যস্নানের সময় ১৫ জানুয়ারি অর্থাৎ রবিবার সকাল ৭টা ১৭ মিনিট থেকে ৯টা পর্যন্ত। ইতিমধ্যেই সাগরমেলায় উপস্থিত হয়েছেন দেশ- বিদেশের নানা প্রান্ত থেকে আগত লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী। প্রশাসনের তরফে জোরদার করা হয়েছে সাগরমেলার নিরাপত্তা। জলপথের পাশাপাশি আকাশপথেও নজরদারি চলছে। অন্যদিকে, গঙ্গাসাগর মেলায় হরিদ্বার-বারাণসীর আদলে গঙ্গা আরতির আয়োজন করা হয়েছে।  

আরও পড়ুন     গঙ্গাসাগরে আগত তিন সাধুর ওপর শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় তীব্র নিন্দা অনুরাগ ঠাকুরের

জানা গিয়েছে, গঙ্গাসাগর মেলায় এই বছর থেকে চালু হয়েছে কিউ আর এবং বারবোড বেসড ওয়াটারপ্রুফ হাতের ব্যান্ড। যার মাধ্যমে গঙ্গাসাগর মেলায় ভিড়ে কেউ হারিয়ে গেলে তাঁকে খুঁজে পাওয়া সহজ হবে। মেলায় আগত সমস্ত প্রবীণ এবং শিশুদের বিনামূল্যে কিউ আর রিস্টব্যান্ড বাফার জোন থেকে দেওয়া হচ্ছে। মূলত কোনও মানুষ যাতে মেলায় এসে নিখোঁজ না হয়ে যান, সেজন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এবারের গঙ্গাসাগরের মেলার বিশেষ আকর্ষণ হল সাগর আরতি। আর কুম্ভস্নান শুরু হচ্ছে ১৪ তারিখ। পুণ্যস্নানের সময় ২৪ ঘণ্টা। গঙ্গাসাগর মেলা উপলক্ষে ২২৫০টি সরকারি বাস, ৫০০ বেসরকারি বাস চালু থাকবে। ৩২টি ভেসেল, ১০০টি লঞ্চ চলবে। ১০টি ফায়ার স্টেশন, ২৫টি দমকলের ইঞ্জিন মোতায়েন রাখা হয়েছে বলেই সূত্রের খবর। গঙ্গাসাগর মেলায় আগত তীর্থযাত্রীদের যাতে কোনও সমস্যা না হয় সেদিকেও কড়া নজরদারি চলেছে।’

প্রসঙ্গত,প্রতিবছর সাগর মেলায় লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হয়। তার মধ্যে অবাঙালি পূণ্যার্থীদের সংখ্যা বেশিই থাকে। তবে এর আগে দুবছর অতিমারির কারণে বিধিনিষেধ থাকায় সাগর মেলায় তেমন ভক্ত সমাগম হয়নি। চলতি বছরে আর করোনাবিধি না থাকায় সেই সংখ্যার অনেকটাই বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। এবারে সাগর মেলায় বিগত দুই বছরের মতনই করোনা প্রতিরোধের যথাযথ বন্দোবস্ত করা হয়েছে। করোনা সংক্রমণের আশঙ্কাও যাতে পুরোপুরি রোধ করা যায়, সে দিকে লক্ষ্য রেখে পর্যাপ্ত সংখ্যক ডাক্তার, নার্স ও প্যারামেডিকেল সংস্থান রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যেই এই কাজের জন্য মেডিক্যাল অফিসার, নার্স ও বেশ ক’জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রাখা হয়েছে। সূত্রের খবর,বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধের জন্য ইতিমধ্যেই প্রায় ২ কোটিরও বেশি টাকার বরাদ্দের হিসাব পেশ করা হয়েছে।

About Post Author