পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা,১৯ জানুয়ারি : “মস্তানি”। মারামারি নয় তবুও মস্তানি। এই একটা কথা নিয়েই ডার্বির আগে ক্লাবকর্তাদের মধ্যে চলছিল চাপানোউতোর অর্থাৎ বড় ম্যাচে বলদখলের লড়াইয়ে আর ম্যাচের রাশ মুঠোয় আনতে কে মস্তানি করবে!আর সেরকমটাই মাঠে করে দেখিয়ে জিতল ইস্টবেঙ্গল। ইস্টবেঙ্গলের মশালে পুড়ে ছাই হয়ে গেল মোহনবাগানের নৌকা। মোহনবাগানের বিরুদ্ধে মরশুমের তৃতীয় সাক্ষাৎকারে দ্বিতীয় জয় ইস্টবেঙ্গলের। জয় এল ৩-১ গোলে।
মোহনবাগানে বেশ কয়েকজন তারকা ফুটবলার ছিলেন না, ইস্টবেঙ্গলে ছিলেন না মহেশ বা হরমনজ্যোত খাবরা। তবে খেলা হয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং গতিময়। দলে কে আছে কে নেই তা ডার্বিতে শেষ কথা কোনওদিন হতে পারেনি, হয়ও নি। শুক্রবার বড় ম্যাচে নিজেদের টেম্পারেমেন্ট প্রমাণ করে যোগ্য দল হিসেবেই মোহনবাগানকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে কলিঙ্গ সুপার কাপের সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল ইস্টবেঙ্গল। সবুজ মেরুনকে প্রথমার্ধে এগিয়ে গিয়েও ক্লেটন সিলভার দক্ষতার কাছে নতিস্বীকার করে গোল খেতে হল,পেনাল্টি থেকে গোল করার সুযোগ হাতছাড়া করলেন পেত্রাতোস আর ১-১ গোলে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার পরে দ্বিতীয়ার্ধে ১৮ মিনিটে নন্দা এগিয়ে দিলেন লাল হলুদকে। আবার গোল করলেন ক্লেটন আর মোহনবাগানের কফিনে যেন পেরেক পুঁতে দিলেন।ধীরে ধীরে ম্যাচ থেকে হারিয়ে গেল মোহনবাগান।
ফুটবল একক দক্ষতার খেলা নয়। তবুও কলিঙ্গ সুপার কাপে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে শুক্রবার ইস্টবেঙ্গলের মস্তানির পেছনে ছিলেন দলের অধিনায়ক ক্লেটন সিলভা। তাঁকে ইয়াকুবুর মতই অনেকটা বেশি বয়সে পেয়েছে লাল হলুদ। কিন্তু পুরনো চাল যে ভাতে বাড়ে তা বারবার দেখিয়ে দিচ্ছেন ক্লেটন। এদিন মোহনবাগানের বিরুদ্ধে বড় ব্যবধানে জেতার প্রধান কারিগর তিনি, জোড়া গোল করলেন , ফিফটি ফিফটি বলের জন্য জীবনকে যেন বাজি লাগিয়েছিলেন তিনি। যে ম্যাচে ড্র করলে ইস্টবেঙ্গল সেমিফাইনালে পৌঁছাতে পারত সেই ম্যাচেও বাড়তি কিছু করে দেখানোর তাগিদ ছিল ক্লেটনের মধ্যে।তাঁর উল্টোদিকে তাঁর তুলনায় বড়ই নিস্প্রাণ ও ফিকে দেখাল মোহনবাগানের দুই তথাকথিত বিশ্বখ্যাত তারকা কামিংস ও সাদিকুকে। কামিংসকে কখনই বিপজ্জনক মনে হয়নি আর সাদিকু আবার পেত্রাতোসের পেনাল্টি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসার পরে বলকে ফাঁকা গোলে ঠেলতে পারেননি। অথচ এরকম এক পরিস্থিতি থেকে দ্বিতীয়ার্ধে ২-১ গোলে ইস্টবেঙ্গল এগিয়ে যায়। বোরহার শট পোস্টে লেগে ফিরতেই গোল করে যান নন্দাকুমার। অথচ মোহনবাগান শুরুটা ভালই করেছিল। কর্নার থেকে পাওয়া বল চমৎকার ভাবে পেছনে ফ্লিক করে গোল করে মোহনবাগানকে এগিয়ে দিয়েছিলেন হেক্টর ইউস্তে। তবুও ইস্টবেঙ্গলকে ম্যাচে ফেরালেন ক্লেটন। জটলার মধ্যে অসামান্য গোল করে। আরেকজনের কথা না বললেই নয়। তিনি বঙ্গসন্তান সৌভিক চক্রবর্তী। মোহনবাগানের হৃদপিণ্ড হুগো বুমোসকে বোতলবন্দি করে ফেললেন আর প্রথম গোলের ক্ষেত্রেও তাঁর কিছুটা অবদান ছিল। ক্লেটন সিলভাকে অনেকটা জায়গা করে দিয়েছিলেন সৌভিক। সৌভিকও বড় ম্যাচে মস্তানি দেখালেন মাঠ জুড়ে খেলে। আর সৌভিক, ক্লেটন,হিজাজি, প্রভসুখন গিলদের সৌজন্যে নৌকাকে আরেকবার ছারখার করে দিলেন মাস্টারমাইন্ড কার্লেস কুয়াদ্রাত। সেমিফাইনালে জামশেদপুরকে হারাতে এখন তিনি অংক কষবেন। তিনি যে কথা দিয়েছেন, তিনি বলেছেন ডুরান্ড কাপের পরে সুপার কাপেও ফাইনালে উঠবে ইস্টবেঙ্গল।।


More Stories
চেন্নাইয়ানকে হারিয়ে মোহনবাগানকে টপকে ইস্টবেঙ্গল তিন নম্বরে
কেকেআর-কে হারালেন, কে এই মুকুল চৌধুরী ?
গ্রেফতার অজি ক্রিকেট তারকা ওয়ার্ণার