Home » অন্নপূর্ণা, সময়ের ছবি এবং লেখক জয়ন্ত দে

অন্নপূর্ণা, সময়ের ছবি এবং লেখক জয়ন্ত দে

পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা, ২৮ জানুয়ারি : সাংবাদিক সাহিত্যিকের কলম সব সময়ই তরবারির মত শানিত। সাহিত্যের সঙ্গে সংবাদপত্রের যোগাযোগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ বলেছিলেন, সংবাদপত্র সরাসরি ইতিহাসের উপাদান যোগায় আর সাহিত্য যোগায় পরোক্ষে। সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের কথা ধরেই বলা যায়, যখন সাংবাদিককে সাহিত্যিক হতে দেখা যায় তখন মননশীল সাহিত্যের পাঠক রত্নভান্ডারের চাবিকাঠি পেয়ে যান। বাংলা সাহিত্যে বরুণ সেনগুপ্তর ইন্দিরা একাদশীর মত রাজনৈতিক সাহিত্য লেখার পাশাপাশি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সাংবাদিককে উপন্যাস লিখতে দেখা গিয়েছে যা হয়ে উঠেছে কালোত্তীর্ণ। তাঁরা বর্তমান সময় ও দেশকে তুলে ধরেছেন তাঁদের লেখায়।২০২৩ সালের বঙ্কিম পুরস্কার প্রাপ্ত অন্নপূর্ণা গ্রন্থটি যার সৃষ্টি তিনি বাংলার একটি বিখ্যাত সংবাদপত্রের সম্পাদকের কাজ করেছেন দীর্ঘদিন। তাঁর সঙ্গে আলাপচারিতায় জয়ন্ত দে সাহিত্য, সাহিত্যে রাজনৈতিক প্রতিপাদ্য, সাংবাদিকতা সম্পর্কে অকপটে জানিয়েছেন তাঁর দর্শন।

সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়, প্রফুল্ল রায়  লেখক জয়ন্ত দের মধ্যে প্রোথিত করেছেন যে দর্শন তাঁ তাঁর লেখায় ফুটে উঠেছে বারবার। তাই তিনি বলেন, যে লেখায় দেশ নেই, মাটি নেই, মানুষ নেই সে লেখা কখনও প্রকৃত লেখা হয়ে উঠতে পারে না। সেই বিশ্বাসের পথ ধরে লেখা অন্নপূর্ণা। অন্নপূর্ণা  একটি সংগ্রামের সমার্থক  বলেই জানিয়েছেন জয়ন্ত দে।

লেখাকে স্বাধীন চিন্তার প্রকাশ এবং লেখককে তাঁর স্বাধীনতা থেকে সরিয়ে দিতে পারা সম্ভব বলে বিশ্বাস করেন না জয়ন্ত দে। প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাঁড়িয়ে ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস তুলে ধরা যায় সফলভাবে, বিশ্বাস করেন তিনি। দীর্ঘ সাংবাদিক জীবনে বিভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ হয়ে স্বাধীন চিন্তা প্রকাশের মধ্যে লেখকের উত্তরণ খুঁজে পান জয়ন্ত দে  । নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অতীত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের চিত্র তুলে ধরার কাজও সাবলীল ভাবে করেছেন নিজের লেখায়। লেখকের দায়িত্ব কখনই বিস্মৃত না হয়ে সময়ের ছবি তাঁর কলমে ফুটে উঠেছে। কখনও সরাসরি, কখনও পরোক্ষে – একনিষ্ঠভাবে কার্যত ইতিহাস-ই লিখে চলেছেন জয়ন্ত দে  ।।

আরও পড়ুন কবি অদিতি বসুরায় ও তাঁর বায়োস্কোপ

 

About Post Author