Home » রেশন বণ্টন দুর্নীতি মামলায় আগাম জামিনের আবেদন ‘নিখোঁজ’ শেখ শাহজাহানের

রেশন বণ্টন দুর্নীতি মামলায় আগাম জামিনের আবেদন ‘নিখোঁজ’ শেখ শাহজাহানের

সময় কলকাতা ডেস্ক, ৩০ জানুয়ারিঃ রেশন বণ্টন দুর্নীতি মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। রেশন বণ্টন দুর্নীতি মামলায় শেখ শাহজাহানের খোঁ জে গত ২৪ জানুয়ারি ফের সন্দেশখালিতে হানা দেয় ইডি। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ইডির সঙ্গে প্রায় ১২৫জন জওয়ান ঘটনাস্থলে ছিল। সঙ্গে আনা হয়েছিল তালার চাবি ভাঙার লোকও। স্থানীয় সূত্রের খবর, ওইদিন সন্দেশখালির তৃণমূল নেতার বাড়িতে গিয়ে নোটিস টাঙিয়ে এসেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। যেখানে বলা হয়েছিল ২৯ জানুয়ারি সকাল ১১টার মধ্যে শেখ শাহজাহানকে কলকাতায় ইডি দফতরে হাজিরা দিতে হবে। এদিন তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে জোর জল্পনাও শুরু হয়েছিল রাজনৈতিক মহলে।

আরও পড়ুন  জমি কেলেঙ্কারি মামলায় ইডির মুখোমুখি হতে রাজি হেমন্ত সোরেন, তল্লাশিতে বাড়ি থেকে বাজেয়াপ্ত BMW

তবে, এদিন নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও কোনও খোঁজ মেলেনি রেশন দুর্নীতি কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানের। এমনকী সকাল ১১টা পর্যন্ত শাহজাহানের কোনও প্রতিনিধিও সিজিওতে যাননি। এসবের মাঝেই এবার আগাম জামিনের আবেদন করলেন শাহজাহান। সূত্রের খবর, সোমবার ইডির হাজিরা এড়ানোর পর, বিশেষ ইডি আদালতে আগাম জামিনের জন্য দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার শাহজাহানের আবেদনের শুনানি রয়েছে। শাহজাহান শেখ কোথায় আছেন, তা এখনও অজানা। তাঁর বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিস জারি করেছিল ইডি। পুলিশও এখনও পর্যন্ত তাঁকে খুঁজে বের করতে পারেনি। শাহজাহানের ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা গিয়েছে, ইডি দফতরে হাজির হলে গ্রেফতারির আশঙ্কা করছেন তিনি। সেক্ষেত্রে নাকি অন্য কোনও ভাবে ‘আত্মসমর্পণ’ করতে পারেন তিনি। অন্যদিকে, শাহজাহানের দুটি ফোন নম্বরের কল ডিটেইলস বের করছে ইডি।

প্রসঙ্গত, রেশন দুর্নীতির তদন্তে গত ৫ জানুয়ারি সন্দেশখালিতে তৃণমূল নেতা শাহজাহান শেখের বাড়িতে এসে বেধড়ক মার খেয়েছিলেন ইডির কর্তারা। মাথা ফেটেছিল ইডির তিন অফিসারের। তড়িঘড়ি তাঁদের সেখান থেকে বের করে নিয়ে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। কিন্ত যাঁকে ঘিরে এত কাণ্ড, সেই শেখ শাহজাহানের কোনও খোঁজ এখনও পাওয়া যায়নি। কেননা ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ সন্দেশখালির বেতাজ বাদশা। গোটা বিষয়টির জল গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। ইডি আধিকারিকদের উপর হামলার ঘটনার তদন্তে সিট গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছিল ইডি। গত ওই মামলার শুনানি হয়। তারই মাঝে ঘটনার ১৮ দিন পর গত ২৪ জানুয়ারি ফের সন্দেশখালিতে যান কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।

About Post Author