সময় কলকাতা ডেস্ক, ১০ ফেব্রুয়ারিঃ শুক্রবার রাত থেকে অগ্নিগর্ভ সন্দেশখালি। জারি ১৪৪ ধারা। বন্ধ ইন্টারনেট সংযোগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য পুলিশ যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সন্দেশখালি থানা এলাকার আটটি গ্রাম পঞ্চায়েতের সুন্দরবনের দ্বীপ এলাকায় বন্ধ ইন্টারনেট পরিষেবা। পুলিশের তরফে চলছে মাইকিং। অশান্তির আশঙ্কায় ত্রস্ত স্থানীয়রা। বন্ধ দোকানপাট। এবার সন্দেশখালিতে অশান্তির ঘটনায় নড়েচড়ে বসল তৃণমূল কংগ্রেস। দল থেকে বহিস্কার করা হল তৃণমূলের জেলা পরিষদের সদস্য উত্তম সর্দারকে। শেখ শাহজাহানের অনুগামী উত্তমকে ছয় বছরের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে বলেই সূত্রের খবর। তৃণমূলের একটি অনুষ্ঠান থেকে এদিন রাজ্যের মন্ত্রী পার্থ ভৌমিক এই সাসপেনশন করার কথা ঘোষণা করেন। যদিও অভিযুক্ত শিবপ্রসাদ হাজরা এবং শেখ শাহজাহানের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি শাসক দল। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক তরযা। ইতিমধ্যেই শিব প্রসাদ হাজরা সহ উত্তম সর্দারকে গ্রেফতারের দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় আন্দোলনকারীরা।
এদিকে, শনিবার সকাল থেকে সন্দেশখালি এলাকায় ফের নতুন করে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।এদিন সন্দেশখালি থানায় যাওয়ার পথে রামপুরে বিজেপি প্রতিনিধি দলকে বাধা পুলিশের। সন্দেশখালির সরবেড়িয়া ধামাখালি রোডের লস্কর পাড়া এলাকায় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যারিকেট দিয়ে দেওয়া হয়। সকালে বিজেপির একটি প্রতিনিধি দল যায় ঘটনাস্থলে। তাঁদেরকে পুলিশি বাধার মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনার প্রতিবাদে মিছিল করে বিজেপি বিধায়করা রাজভবনে যান। রাজ্যপালকে এই ঘটনায় হস্তক্ষেপ করার আবেদন জানানো হয় বিজেপির তরফে। পুলিশের দাবি, ১৪৪ ধারা জারি থাকার জন্যে তাঁদের ঢুকতে দেওয়া যাবে না। এরপর রাজ্য বিজেপি সদস্য কৃষ্ণেন্দু মুখার্জি, মহিলা নেত্রী অর্চনা মজুমদার সহ বসিরহাট বিজেপি সংগঠনিক জেলা বিজেপির নেতৃত্বরা ফিরে যায়।এরপরই এদিন রাজভবনে গিয়ে বিজেপি বিধায়করা স্লোগান তোলেন, ‘সন্দেশখালি জ্বলছে কেন জবাব দাও রাজ্যপাল।’ রাজ্যপালকে এই ঘটনায় তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে আবেদন জানানো হয়। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী জানান, রাজ্যপাল ইতিমধ্যে ব্যবস্থা না নিলে পরের দিন থেকেই রাজভবনের সামনে ধরনা কর্মসূচি পালন করবেন তাঁরা।
উল্লেখ্য, বুধবার কেন্দ্রীয় বঞ্চনার প্রতিবাদে স্থানীয় তৃণমূলের তরফে সন্দেশখালিতে একটি মিছিল বেরোয়। পালটা মিছিল শুরু করে বিজেপি। বিকেল থেকে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বসিরহাটের সন্দেশখালি থানার ত্রিমোহিনী থেকে কাহারপাড়া, দাশপাড়া ও পাত্রপাড়ার মতো একাধিক গ্রাম। এরপরই উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। একে অপরকে বাঁশ, লাঠি, ইট ও লোহার রড দিয়ে এলোপাথাড়ি মারধর করতে শুরু করে। প্রাণ বাঁচাতে দুই যুবক নদীতে লাফ দেয়। রায়মঙ্গল নদী সাঁতরে একটি লঞ্চে উঠে কোনওরকমে প্রাণরক্ষা করে। স্থানীয়দের দাবি, তাঁরা তৃণমূল কর্মী হিসেবেই এলাকায় পরিচিত। এরপর বৃহস্পতিবার সন্দেশখালি থানার উদ্দেশে মিছিল করেন স্থানীয় মহিলারা। লাঠি হাতে মহিলাদের মিছিলে বাধা দেয় পুলিশ। পুলিশের সঙ্গে বচসা স্থানীয় মহিলাদের। শুক্রবারও নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। কেন গ্রেফতার করা হল না শিবু হাজরা, উত্তম সর্দারদের? এই প্রশ্ন তুলে জেলিয়াখালি এলাকায় শিবু হাজরার আরও তিনটি পোলট্রি ফার্মে আগুন ধরিয়ে দেয় উত্তেজিত জনতা। ভাঙচুরের পাশাপাশি আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় শিবু হাজরার বসতবাড়িতেও। এহেন পরিস্থিতিতে সন্দেশখালির ‘বেতাজ বাদশা’ শেখ শাহজাহান ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা উত্তম সর্দার এবং শিবপ্রসাদ হাজরাকে অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানান গ্রামবাসীরা। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এলাকা। রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেন মহিলারাও। এই ঘটনার পরই গোটা এলাকাজুড়ে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।


More Stories
শান্তি নেই শ্মশানেও -বঙ্গভূমির করুণ আখ্যান
গ্রেফতার কলকাতা পুরসভার দুই কাউন্সিলর
আরজিকর কাণ্ডের আইনি ফাঁসে রচনা