সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৮ ফেব্রুয়ারিঃ রেশন দুর্নীতি মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। এবার ব্যাঙ্কশাল কোর্টে রেশন দুর্নীতি মামলার তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে উষ্মা প্রকাশ করল ইডির বিশেষ আদালত। বুধবার ইডির কাছে বিচারক জানতে চান, রেশন দুর্নীতি মামলার যেসব নথিপত্র রয়েছে, সেই নথির ভিত্তিতে তদন্ত করে এই মামলা কতদূর এগোবে? আর কতক্ষণ ট্রায়ালে দাঁড়াতে পারবে? এদিকে, মঙ্গলবারই রেশন দুর্নীতিকাণ্ডে ধৃত বিশ্বজিৎ দাসকে আদালতে পেশ করা হয়। সওয়ালে তাঁর আইনজীবী বলেন, ‘ আমার মক্কেল কোনভাবেই রেশন দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত নন। যদি তিনি এই মামলায় জড়িত থাকতেন, তাইলে তিনি বাংলাদেশ থেকে দেশে ফিরতেন না, দুবাইয়ে পালিয়ে যেতেন।’ এদিন তিনি জামিনের আবেদন করলেও বিচারক তা খারিজ করে বিশ্বজিৎ দাসকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, রেশন দুর্নীতি মামলায় জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, বাকিবুর রহমান এবং শংকর আঢ্যর পর গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ইডির হাতে গ্রেফতার হন ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ দাস। রেশন দুর্নীতি মামলায় ধৃত শঙ্কর আঢ্যর পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই বিশ্বজিৎ দাসের নাম উঠে আসে। জানা গিয়েছে, ধৃত বিশ্বজিতের একদিকে যেমন সোনার ব্যবসা, মানি এক্সচেঞ্চের ব্যবসা রয়েছে, তেমনই রয়েছে ইমপোর্ট-এক্সপোর্টের ব্যবসা। বিশ্বজিৎ দাসের মাধ্যমেই বাংলাদেশে রেশন দুর্নীতির টাকা পাচার হয়েছে কি না, তা নিয়ে তদন্তে শুরু করে ইডি। তদন্তে নেমে ইডি জানতে পারে, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক আলাদাভাবে এমন কয়েকজন ব্যবসায়ী, যাঁদের আন্তর্জাতিক ব্যরবসা ও বিদেশে ফোরেক্স-সহ অন্যান্য সংস্থা রয়েছে, তাঁদের রেশন বন্টন দুর্নীতির টাকা পাচারের জন্য বেছে নিয়েছিলেন। এরকম আরও অন্তত চারজন ব্যববসায়ীর মাধ্যামে টাকা পাচার হয়েছে। ইতিমধ্যে তাঁদেরই সন্ধান চালাচ্ছে ইডির আধিকারিকরা।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশে কাপড়ের ব্যবসা রয়েছে বিশ্বজিতের। ঢাকায় একটি নামী কাপড় বিপণির মালিক এই ব্যবসায়ী। আর কাপড় কেনাবেচার মাধ্যমেও রেশন বন্টন দুর্নীতির টাকা বাংলাদেশ থেকে দুবাই হয়ে কলকাতায় এসে পৌঁছয়। দুবাইয়ে বিশ্বজিতের তিনটি সংস্থার মধ্যে সোনা লেনদেনের কারবারের সংস্থাও রয়েছে। রেশনের চাল ও গম থেকে হাতিয়ে নেওয়া বিপুল টাকা সোনার মাধ্যরমেও পাচার হয়েছে বিদেশে। বিশ্বজিতের ফোরেক্স সংস্থার মাধ্যরমেও দুর্নীতির প্রায় সাড়ে তিনশো কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রায় পরিণত হয়েছে। ইডির দাবি, এখনও পর্যন্ত রেশনে মোট ১০ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। যার মধ্যে ২৭০০ কোটি টাকা পাচার হয়েছিল দুবাইয়ে। বিগত প্রায় এক দশক ধরে এই কারবার চলছে বলেই জানা গিয়েছে। শঙ্কর আঢ্যর সংস্থার মাধ্যমেই ওই বিপুল পরিমাণ টাকা বিদেশে পাচার করা হয় বলে দাবি ইডির। একই সঙ্গে ইডির দাবি, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক আলাদাভাবে এমন কয়েকজন ব্যলবসায়ী, যাঁদের আন্তর্জাতিক ব্যেবসা ও বিদেশে ফোরেক্স-সহ অন্যা ন্যা সংস্থা রয়েছে, তাঁদের রেশন বন্টন দুর্নীতির টাকা পাচারের জন্যে বেছে নিয়েছিলেন।


More Stories
অজ্ঞাতবাস থেকে গ্রেফতার নৈহাটির প্রাক্তন বিধায়ক সনৎ দে
অসহায়,ভবঘুরে, মানসিক ভারসাম্যহীনদের ভালোবাসতে শেখাচ্ছে বীরপাড়ার পুলিশ
মাটির বুকে স্বর্গ, সাজুর ‘হেভেন’ বাঁচিয়ে রাখার প্রতিশ্রুতি পুলিশ প্রশাসনের