Home » বারলার দুয়ারে বিজেপি প্রার্থী মনোজ টিজ্ঞা, মান ভাঙা দুরস্ত,দেখাই করলেন না সাংসদ

বারলার দুয়ারে বিজেপি প্রার্থী মনোজ টিজ্ঞা, মান ভাঙা দুরস্ত,দেখাই করলেন না সাংসদ

সানী রায়, সময় কলকাতা , ৬ মার্চ : ভোট যতই এগিয়ে আসছে, ক্ষোভ-বিক্ষোভ, মান-অভিমানের পালা বেড়েই চলেছে বিজেপিতে। লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির  প্রার্থীদের প্রথম তালিকা প্রকাশ পেতেই, কিছু মান-অভিমান কার্যত  বিদ্রোহের আকার নিতে চলেছে।কিছু ক্ষেত্রে ভোট রঙ্গের  পারদ ইতিমধ্যেই শিখরে উঠেছে। এ রকমই এক ঘটনাক্রমে  জন বারলা যে অভিমানী নন, কার্যত বিক্ষুব্ধ ও বিদ্রোহী, বারলার দুয়ারে গিয়ে তা রীতিমত টের পেলেন #আলিপুরদুয়ার (#Alipurduar) কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী মনোজ টিজ্ঞা।

জন বারলার মান ভাঙাতে গিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষা করে ফিরতে হল মনোজ টিজ্ঞাকে।#আলিপুরদুয়ার (Alipurduar) কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী হতে না পেরে একপ্রকার দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন বর্তমান সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জন বারলা। এই কেন্দ্রে বারলাকে প্রার্থী না করে বিধায়ক মনোজ টিজ্ঞাকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। আর এরপরই মনোজ টিজ্ঞাকে একটিও ভোট না দেওয়ার জন্য অনুগামীদের কাছে আবেদন জানিয়েছেন বারলা। বুধবার সকালে মান ভাঙাতে বারলার লক্ষ্মীপাড়া চা বাগানের বাড়িতে হাজির হন আলিপুরদুয়ার এর বিজেপি প্রার্থী মনোজ টিজ্ঞা ও ফালাকাটার বিধায়ক দীপক বর্মন । এদিন এই দুই নেতার সঙ্গে দেখাই করলেন না বারলা। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পর বারলার দেখা না পেয়ে ফিরে যান তাঁরা।

মঙ্গলবার দিল্লি থেকে ফেরেন আলিপুরদুয়ারের সাংসদ জন বারলা। ফিরে এসে তাঁর লক্ষীপাড়া চা বাগানের বাড়িতে অনুগামীদের নিয়ে একটি বৈঠক করেন তিনি। তাকে টিকিট না দেওয়ায় যারপরনাই ক্ষুব্ধ বারলা। টিকিট না পাওয়ার পেছনে ষড়যন্ত্র কাজ করেছে বলে জানান। বারলার স্পষ্ট অভিযোগ ওই আসনে বিজেপির প্রার্থী মনোজ টিগ্গা-র দিকে। মন্ত্রী বলেন, নিজে এমপি হওয়ার জন্য আমার বিরুদ্ধে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে ভুল বুঝিয়েছেন টিজ্ঞা। বদনাম করেছে। তোমরা যদি এতই ভাল তাহলে ৮ বছর এমএলএ হিসেবে কি করেছো। তবে কি তিনি দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন। এই প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী উবাচ, আমি পার্টি বিরোধী কোন কথা আগেও বলি নি, এখনও বলছি না। মানুষকে আমায় জবাব দিতে হচ্ছে। দল ছাড়ার কোন চিন্তাভাবনা নেই বলেও জানিয়েছেন।

মনোজ টিগ্গা অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে বারলার তোলা অভিযোগ এককথায় খারিজ করে দিচ্ছেন। তিনি বলেন, আমাদের দলে কে প্রার্থী হবে তা কেন্দ্রীয় নির্বাচন সমিতি ঠিক করে। তাঁর আগে একাধিক এজেন্সী দিয়ে সমীক্ষা হয়। বিজেপিতে একজন বুথ স্তরের নেতাও দলের স্ক্যানারে থাকে। আমার যদি এমপি-র আসনে লড়ারই হত তবে ২০১৪ তেই দাঁড়াতে পারতাম। ৩০ বছর ধরে দল করছি। কারও বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত কোন আক্রমণ করতে চাই না।

স্বাভাবিকভাবেই অলক্ষ্যে ঘাসফুল হাসছে, দিল্লীর টিকিট নিয়ে পদ্ম শিবিরের দুই  সাংসদ  ও বিধায়কের  কার্যত নজিরবিহীন দ্বৈরথে মুচকি হাসছেন ঘাসফুলের নেতারাও । শাসক দলের আলিপুরদুয়ার জেলা কমিটির সভাপতি ও রাজ্য সভার সাংসদ প্রকাশ চিকবরাইকের কথায়, একজন রানিং মন্ত্রীর টিকিট কাটা পড়েছে দেখে আমরাও অবাক হয়েছি। জন বারলা উন্নয়নের কোন কাজ না করলেও এটা ঘটনা ওর নের্তৃত্বেই চা শ্রমিক সংগঠন বিটিডব্লিইউ বাগানে ঘাঁটি গাড়তে পেরেছে। সবমিলিয়ে, ভোট রঙ্গ জমজমাট আলিপুরদুয়ারে।।

About Post Author