সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৮ মার্চঃ কলকাতায় মধ্যরাতে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। ঝুপড়ির উপর ভেঙে পড়ে নির্মীয়মাণ বহুতল। গার্ডেনরিচে হাজারি মোল্লা বাগান এলাকায় ৫১৩/৩ ব্যানার্জি পাড়া লেনে দুর্ঘটনাটি ঘটে। এখনও পর্যন্ত ২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। আহত ১৫। হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন তাঁরা। মৃত এবং আহতর সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এখনও জারি রয়েছে উদ্ধারকাজ। এনডিআরএফ-এর সঙ্গে উদ্ধার কাজে হাত লাগিয়েছেন স্থানীয় মানুষজনও। এদিকে, নির্মীয়মাণ বহুতল ভেঙে বড়সড় দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার সকালে মাথায় ব্যান্ডেজ নিয়েই মুখ্যমন্ত্রী পৌঁছে যান গার্ডেনরিচের ফতেপুর ব্যানার্জি বাগান লেনের ওই এলাকায়। গাড়ি থেকে নেমে হেঁটেই এলাকা পরিদর্শন করেন। আজই তাঁর কপালের সেলাই কাটার কথা। কিন্তু তার আগে অসুস্থ শরীর নিয়েই মুখ্যমন্ত্রী নেমে পড়লেন প্রশাসনিক কাজে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল, মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, সুজিত বসু ও দক্ষিণ কলকাতার সাংসদ মালা রায়।
আরও পড়ুন Building Collapsed in Kolkataঃ মধ্যরাতে গার্ডেনরিচে ভেঙে পড়ল নির্মীয়মাণ বহুতল,মৃত ২, জারি উদ্ধারকাজ
ইতিমধ্যেই ভয়াবহ বিপর্যয়ের ঘটনায় মৃতদের ৫ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করেছেন কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। ঘটনাস্থলে রবিবার সারা রাত ছিলেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। নির্মীয়মাণ বহুতলটি যে বেআইনি ছিল তা স্বীকার করেছেন ফিরহাদ। তাঁর দাবি, বাম আমল থেকেই শুরু হয়েছে এইসব বেআইনি নির্মাণ। প্রোমাটারকে দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, রবিবার রাত ১২ টার একটু আগে কলকাতা পুরসভার ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডে ঘটে বিপত্তি। বাড়িটি নির্মীয়মাণ হওয়ায় সেখানে কেউ ছিলেন না। রবিবার রাতে বহুতলটি যখন ভেঙে পড়ে তখন এলাকাবাসীরা বিকট শব্দ শুনতে পান, ভূমিকম্পের মতো অনুভূত হয়। নিমেষের মধ্যে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে বহুতলের একাংশ। বালি-সিমেন্টের ধুলোর ঝড় বইতে থাকে। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। পাশের যে ঝুপড়িতে বহুতলটি ভেঙে পড়ে সেখানেই বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
রাত থেকে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে চলছে উদ্ধারকাজ। এখনও অনেকের ভেঙে পড়া অংশে আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। ভগ্নস্তূপের মধ্যে থেকেই উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে। পুলিশ সূত্রের খবর, মৃতদের নাম সামা বেগম এবং হাসিনা খাতুন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয় নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের চিকিৎসা চলছে এসএসকেএমের ট্রমা কেয়ারে। রাতেই ঘটনাস্থলে আসেন কলকাতা পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল সহ উচ্চপদস্থ কর্তারা। পৌঁছন রাজ্যের দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুও। রাত ৩ টে নাগাদ পৌঁছয় জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। এরপর উদ্ধারকাজে আরও গতি আসে। রাতের অন্ধকারে দমকল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে উদ্ধারকাজে বেগ পেতে হয়। এছাড়া ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর রাস্তা বেশ সংকীর্ণ হওয়ায় বিপর্যয় রাতের অন্ধকারে মোকাবিলা বাহিনী এবং দমকলের পৌঁছতে বেশ কিছুটা সময় লেগে যায়। ভোর থেকে এখনও পর্যন্ত জোরকদমে চলছে উদ্ধারকাজ।
#BuildingCollapsedinKolkata
#latestbengalinews


More Stories
পাটুলিতে শুট আউট, নিহত যুবক
বিজেপিকে একমাত্র রুখতে পারেন দিদি : অখিলেশ যাদব
এবার কলকাতায় পাঁচজায়গায় একযোগে সিবিআই হানা