সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৯ মার্চঃ পেরিয়ে গিয়েছে দু’রাত। গার্ডেনরিচে বহুতল বিপর্যয়ের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ন’জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। এদিকে, গার্ডেনরিচে কংক্রিটের নিচে দু’জনের আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। সোমবার রাত ৯টা পর্যন্ত উদ্ধারকাজ চালিয়ে ১০ জনকে বার করে আনে এনডিআরএফ। তাঁদেরকে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কয়েকজনকে মেটিয়াবুরুজের একটি হাসপাতালেও নিয়ে যাওয়া হয়। যদিও রাতে আলোর অভাবে সাময়িকভাবে উদ্ধারকাজ বন্ধ ছিল। তবে মঙ্গলবার সকাল হতেই ফের উদ্ধারকার্য শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, বেআইনি নির্মীয়মাণ বহুতল ভেঙে পড়ার ঘটনায় প্রোমোটারের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা-সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করেছে কলকাতা পুলিশ। মহম্মদ ওয়াসিম নামে ওই প্রোমোটারকে সোমবারই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জেরায় তিনি স্বীকার করেছেন, পাঁচতলার উপরে গাঁথনি করতে গিয়েই দুর্ঘটনা হয়েছে। নির্মাণটি যে বেআইনি ছিল তা স্বীকার করে নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী এবং মেয়র। পুকুর বুজিয়ে ৪ ফুটের রাস্তায় কীভাবে বহুতল নির্মাণ হচ্ছিল তা নিয়েও একাধিক প্রশ্ন উঠেছে।
আরও পড়ুন Recipe: তেল-ঝাল নয়, বর্ষার আমেজে স্বাদ বদলাতে বাড়িতেই বানিয়ে ফেলুন নারকেলি পমফ্রেট
উল্লেখ্য, রবিবার গার্ডেনরিচে হাজারি মোল্লা বাগান এলাকায় ৫১৩/৩ ব্যানার্জি পাড়া লেনে ঝুপড়ির উপর ভেঙে পড়ে নির্মীয়মাণ বহুতল। এখনও জারি রয়েছে উদ্ধারকাজ। জানা গিয়েছে, রবিবার রাত ১২ টার খানিকক্ষণ আগে কলকাতা পুরসভার ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডে ঘটে বিপত্তি। বাড়িটি নির্মীয়মাণ হওয়ায় সেখানে কেউ ছিলেন না। রবিবার রাতে বহুতলটি যখন ভেঙে পড়ে তখন এলাকাবাসীরা বিকট শব্দ শুনতে পান, ভূমিকম্পের মতো অনুভূত হয়। নিমেষের মধ্যে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে বহুতলের একাংশ। বালি-সিমেন্টের ধুলোর ঝড় বইতে থাকে। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। পাশের যে ঝুপড়িতে বহুতলটি ভেঙে পড়ে সেখানেই বহু মানুষ আহত হয়েছেন।

রবিবার রাত থেকে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে চলছে উদ্ধারকাজ। এখনও অনেকের ভেঙে পড়া অংশে আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। ভগ্নস্তূপের মধ্যে থেকেই উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে এনডিআরএফ। আহতদেরকে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কয়েকজনকে মেটিয়াবুরুজের একটি হাসপাতালেও নিয়ে যাওয়া হয়। ওইদিন রাতেই ঘটনাস্থলে আসেন কলকাতা পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল সহ উচ্চপদস্থ কর্তারা। পৌঁছন রাজ্যের দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুও। রাত ৩ টে নাগাদ পৌঁছয় জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। এরপর উদ্ধারকাজে আরও গতি আসে। রাতের অন্ধকারে দমকল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে উদ্ধারকাজে বেগ পেতে হয়। এছাড়া ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর রাস্তা বেশ সংকীর্ণ হওয়ায় বিপর্যয় রাতের অন্ধকারে মোকাবিলা বাহিনী এবং দমকলের পৌঁছতে বেশ কিছুটা সময় লেগে যায়। সোমবার ভোর থেকে এখনও পর্যন্ত জোরকদমে চলছে উদ্ধারকাজ।
#GardenReachBuildingCollapse
#latestbengalinews


More Stories
অভিষেকের অফিসে ভাঙচুর
যাদবপুর নিয়ে মুখ খোলায় সংবাদপত্রের কার্যালয় ঘেরাও
নেতাজি ইস্যু : অনন্ত মহারাজকে উন্মাদ আখ্যা দিলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত!